| বঙ্গাব্দ

জোট–দরকষাকষি চূড়ান্ত রাউন্ড: মিত্রদের জন্য ৪০–৫০ সিটে ‘উইনেবিলিটি’–কৌশল, গণতন্ত্র মঞ্চের প্রথম তালিকা প্রায় ১৪০

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 11-10-2025 ইং
  • 3791641 বার পঠিত
জোট–দরকষাকষি চূড়ান্ত রাউন্ড: মিত্রদের জন্য ৪০–৫০ সিটে ‘উইনেবিলিটি’–কৌশল, গণতন্ত্র মঞ্চের প্রথম তালিকা প্রায় ১৪০
ছবির ক্যাপশন: জোট–দরকষাকষি চূড়ান্ত রাউন্ড

মিত্রদের সঙ্গে সিট–সমঝোতা: ‘উইনেবিলিটি’ আগে, ছাড় ৪০–৫০–এ থামতে পারে—গণতন্ত্র মঞ্চের প্রথম তালিকা প্রায় ১৪০

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

বিএনপির নেতৃত্বে জোট–রাজনীতিতে আসন ভাগাভাগি নিয়ে দরকষাকষি চূড়ান্ত পর্যায়ে। দলীয় কৌশল বলছে—যে আসনে মিত্রদের জয়ের বাস্তব সম্ভাবনা (উইনেবিলিটি) বেশি, সেখানেই অগ্রাধিকার। জোটসংশ্লিষ্ট একাধিক নেতার ভাষ্য, “চাহিদা” বহু গুণ বেশি হলেও ছাড়ের সংখ্যা ৪০–এর ঘরে থাকতে পারে; অপর দিকে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে সর্বোচ্চ ৫০–এর কাছাকাছি আসন ছাড়ার আভাসও রয়েছে।

কে কত চাইছে, কোথায় গতি

  • গণতন্ত্র মঞ্চ—বাম–প্রগতিশীল ছয়দলীয় এই জোট প্রথম দফায় প্রায় ১৪০ আসনের তালিকা প্রকাশ করেছে এবং ৩০০ আসনেই লড়ার ঘোষণা দিয়েছে। তালিকায় নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না (বগুড়া–২), বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হক (ঢাকা–৮), গণসংহতির জোনায়েদ সাকি (ব্রাহ্মণবাড়িয়া–৬)সহ শীর্ষ নেতাদের নাম রয়েছে। এই তালিকা বিএনপির সঙ্গে চলমান আসন–সমঝোতার আলোচনায় সরাসরি ইনপুট দিচ্ছে। 

  • অন্যান্য মিত্র–প্ল্যাটফর্ম—১২–দলীয় জোট, জাতীয়তাবাদী সমমনা, এলডিপি, বিএনপি(বিজেপি), গণফোরাম, এনডিএম, লেবার পার্টি—সবাই নিজ নিজ ঘাঁটিভিত্তিক আসনের দাবিপত্র জমা দিয়েছে। দলীয় সূত্র বলছে, কয়েকটি দলের প্রতিনিধিরা লন্ডনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের কাছে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকাও হাতে–হাতে দিয়েছেন—এগুলো এখন হাইকমান্ডের যাচাই–তালিকায়। (দলীয়সূত্র–নির্ভর তথ্য)

২০১৮–র অভিজ্ঞতা, এবারকার পাঠ

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি–জোট মোট ৬০টি আসন শরিকদের ছেড়েছিল—এর মধ্যে জামায়াতকে ২২। এবার জামায়াত–সমীকরণ ভিন্ন হওয়ায় সংখ্যাটা কিছুটা কমার সম্ভাবনা নিয়েই আলোচনা এগোচ্ছে। ফলে উইনেবিলিটি–ইন্ডেক্স–কেন্দ্রিক ‘রক্ষণশীল কিন্তু জয়ের সম্ভাবনা–উচ্চ’ আসন ছাড়ের নীতি প্রাধান্য পাচ্ছে। 

মাঠপ্রস্তুতি: ‘গ্রিন সিগন্যাল’ ও বহু–পর্বের স্ক্রিনিং

ফেব্রুয়ারি লক্ষ্য ধরে বিএনপি বহু রাউন্ড ফিল্ড–সার্ভে শেষ করে সম্ভাব্যদের সাক্ষাৎকার শুরু করেছে; কয়েকজনকে ইতিমধ্যে গ্রিন সিগন্যাল দেওয়ার কথাও প্রকাশ্যে এসেছে। দলটির পরিকল্পনা—প্রথমে প্রায় ২০০ আসনে নিজস্ব প্যানেল ধরে রাখা, সমান্তরালে মিত্রদের সঙ্গে সিট–শেয়ারিং চূড়ান্ত করে ক্রমান্বয়ে যৌথ–ঘোষণা। 

কেন ‘৪০–৫০’–এ থামার যুক্তি

  1. FPTP বাস্তবতা: একক আসনভিত্তিক ব্যবস্থায় ‘দলীয় ভোটশেয়ার’ নয়, লোকাল প্রার্থী–শক্তি ফল টানে—তাই সংখ্যার খাতা নয়, জয়ের নিশ্চয়তা–ভিত্তিক সমঝোতা। 

  2. প্রার্থী–ওভারল্যাপ কমানো: বহু আসনে বিএনপি ও মিত্র—দু’পক্ষেরই শক্ত প্রার্থী আছে; তাই ওভারল্যাপ কাটাতে সীমিত কিন্তু কার্যকর ছাড়। 

  3. ক্যাম্পেইন টাইমলাইন: ফেব্রুয়ারির জানালা সামনে—বিস্তৃত সিট–সোয়াপে সময় নিলে মাঠে বিলম্ব হবে; তাই ‘টার্গেটেড’ সিট–ডিলই বাস্তবসম্মত। 

সামনে কী

এই মাসেই মিত্রদের কাছে গ্রিন সিগন্যাল পৌঁছানোর পর্ব বাড়বে—স্থানীয় কমিটি ও জরিপ–ডেটা মিলিয়ে ‘সিঙ্গেল ক্যান্ডিডেট’–নীতিতে রূপরেখা স্থির করে, তফসিল ঘোষণার পর ধাপে ধাপে আনুষ্ঠানিক মনোনয়ন। ২০১৮–র মতো শেষ সপ্তাহেও সামান্য রদবদলের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

সূত্র

  1. Dhaka Tribune — BNP plans to leave a maximum of 50 seats for allies (Aug 8, 2025). 

  2. The Daily Star — Final seat-sharing: BNP keeps 238, allies get 60 (Dec 10, 2018). 

    প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
    আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency