| বঙ্গাব্দ

ইরানের ড্রোন কারখানা ধ্বংসের দাবি ট্রাম্পের: ২১% ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা অবশিষ্ট

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 06-06-2026 ইং
  • 3095 বার পঠিত
ইরানের ড্রোন কারখানা ধ্বংসের দাবি ট্রাম্পের: ২১% ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা অবশিষ্ট
ছবির ক্যাপশন: ইরানের ড্রোন কারখানা ধ্বংসের দাবি ট্রাম্পের

ইরানের ড্রোন কারখানা ধ্বংসের দাবি ট্রাম্পের: মাত্র ২১ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা অবশিষ্ট

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ সামরিক অভিযানের মুখে ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন ব্যবস্থা বড় ধরনের বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়েছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর মতে, তেহরানের অধিকাংশ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির স্থাপনা ইতোমধ্যে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার (৫ জুন, ২০২৬) মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজের বিখ্যাত ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানের সঞ্চালক ও সাংবাদিক ক্রিস্টেন ওয়েলকারকে দেওয়া এক একচেটিয়া সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড ট্রাম্প এসব কথা বলেন।

"আমরা জানি ড্রোনগুলো কোথায় আছে"

সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সাথে বলেন, "ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের গোপন মজুত এবং তাদের ড্রোন কারখানাগুলো ঠিক কোথায় অবস্থিত—তা আমরা নিখুঁতভাবে জানি।"

ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া মার্কিন-ইসরাইলি বিমান হামলার পর ইরানের অধিকাংশ সামরিক উৎপাদন কেন্দ্র ও লঞ্চিং প্যাড (ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র) সম্পূর্ণ অকার্যকর করে দেওয়া হয়েছে।

মাত্র ২১-২২ শতাংশ অস্ত্র অবশিষ্ট

ইরানের হাতে বর্তমানে কতগুলো সচল ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন রয়েছে—সাংবাদিকের এই প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প কৌশলগত কারণে নির্দিষ্ট সংখ্যা প্রকাশ করতে অস্বীকৃতি জানান। তবে তিনি একটি শতকরা হিসাব তুলে ধরেন:

"তাদের কাছে এখনও কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন রয়েছে। তবে যদি শতকরা হিসেবে বলি, তবে যুদ্ধের আগের তুলনায় হয়তো মাত্র ২১ বা ২২ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা এখনো তাদের টিকে আছে।"

ট্রাম্প স্বীকার করেন যে, এই ২১ শতাংশ অস্ত্রও সংখ্যার দিক থেকে ‘অনেক বড়’। কিন্তু ২৮ ফেব্রুয়ারি যৌথ সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার আগে ইরানের যে বিপুল সামরিক সক্ষমতা ছিল, বর্তমান মজুত তার তুলনায় খুবই সামান্য এবং তেহরান এখন সামরিক দিক থেকে কোণঠাসা।

ইরানের "অতিরিক্ত অহংকারই" চুক্তি দীর্ঘায়িত হওয়ার কারণ

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান পরোক্ষ কূটনৈতিক আলোচনা এবং এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত শান্তি চুক্তি না হওয়ার পেছনে ইরানের নেতৃত্বকে দায়ী করেছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ইরানের বর্তমান নেতৃত্ব অত্যন্ত ‘গর্বিত’ বা অহংকারী হওয়ায় আলোচনা দীর্ঘায়িত হচ্ছে।

ট্রাম্প মন্তব্য করেন, "আমার মনে হয় তারা নিজেরাও বিশ্বাস করতে পারছে না যে তারা আজ এমন একটি শোচনীয় পরিস্থিতিতে পড়েছে, যেখানে তাদের শীর্ষ সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্ব কার্যত ছিন্নভিন্ন (Decapitated) হয়ে গেছে। তারা দীর্ঘকাল ধরে আমেরিকার দুর্বল নেতৃত্বের সুবিধা নিয়ে পার পেয়ে গেছে। কিন্তু এখন তাদের এমন কিছু শর্ত মেনে নিতে হচ্ছে, যা তারা কখনো কল্পনাও করেনি। তবে টিকে থাকতে হলে এই চুক্তি করা ছাড়া তাদের আর কোনো বিকল্প নেই।"

সপ্তাহান্তেই কি বড় কোনো সমঝোতা?

এর আগে গত বুধবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ওমানে দুই দেশের মধ্যে চলা ব্যাক-চ্যানেল আলোচনা ‘ভালোই এগোচ্ছে’। সম্ভাব্য কোনো চূড়ান্ত চুক্তির বিষয়ে তিনি ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, "স্থায়ী চুক্তি হতে কিছুটা সময় লাগতে পারে, তবে এই সপ্তাহান্তেই (উইকেন্ডে) একটি অন্তর্বর্তীকালীন বড় সমঝোতা বা যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়ে যেতে পারে।"

তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিতে সাম্প্রতিক উত্তেজনা এবং কুয়েত ও বাহরাইনে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর ট্রাম্পের এই দাবি কতটা বাস্তবে রূপ নেয়, তা নিয়ে বড় ধরনের সংশয় তৈরি হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্য সংকট, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং বিশ্বরাজনীতির সব ব্রেকিং নিউজ ও নিখুঁত সামরিক বিশ্লেষণ সবার আগে নির্ভরযোগ্যভাবে পেতে নিয়মিত চোখ রাখুন বাংলাদেশ প্রতিদিন ওয়েবসাইটে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency