অনলাইন ডেস্ক | বাংলাদেশ প্রতিদিন
প্রকাশিত: ৩ জুন ২০২৬
ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠান আগামী জিলহজ মাসের শেষভাগ এবং মহররমের শুরুর দিকে অনুষ্ঠিত হবে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে তেহরান মিউনিসিপ্যালিটির সাংস্কৃতিক ও সামাজিক বিষয়ক উপপ্রধান মোহাম্মদ আমিন তাভাকোলিজাদেহ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
হিসাব অনুযায়ী, আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যেই ইরানের এই শীর্ষ নেতার জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। ইরানের মেট্রোপলিটনগুলোর ৫২তম সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কমিশনের বৈঠকে এ বিষয়ে বিস্তারিত পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়।
দাফনসংক্রান্ত কার্যক্রমের প্রধান দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তাভাকোলিজাদেহ জানান, খামেনির বিদায় উপলক্ষে তিন দিনব্যাপী ‘পিপলস প্যারেড’ বা বিশাল শোক মিছিলের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই বিদায় অনুষ্ঠান শেষে মূল জানাজা ও দাফনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে, যা রাজধানী তেহরানে অন্তত ২৪ ঘণ্টা ধরে চলবে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে ধারণা করা হচ্ছে, শেষ বিদায়ের এই আনুষ্ঠানিকতায় রাজধানী তেহরানে প্রায় দেড় থেকে দুই কোটিরও বেশি মানুষের সমাগম হতে পারে। সেই বিপুল জনস্রোত সামাল দিতে ইতোমধ্যে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও লজিস্টিক প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। তেহরানের পাশাপাশি কোম ও মাশহাদ শহরেও জানাজার বিশেষ আয়োজন নিশ্চিত করা হয়েছে। এছাড়া ইরানের বিভিন্ন প্রদেশ থেকেও সমান্তরাল অনুষ্ঠানের জন্য জোর অনুরোধ আসছে।
পারিবারিক সিদ্ধান্ত ও পরামর্শ অনুযায়ী, আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে ইরানের মাশহাদ শহরে অবস্থিত ইমাম রেজা (আ.)-এর পবিত্র মাজার প্রাঙ্গণে দাফন করা হবে।
তেহরানের এই শীর্ষ কর্মকর্তা আরও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, ভারত ও কাশ্মীরসহ পূর্বাঞ্চলীয় ইসলামি বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও অঞ্চল থেকে বিপুলসংখ্যক সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, শীর্ষ ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব এবং শোকাহত সাধারণ মানুষ মাশহাদের এই দাফন অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে পারেন।
এর আগে তেহরানের ইসলামি প্রচার সমন্বয় পরিষদের প্রধান মহসেন মাহমুদ বলেছিলেন, খামেনির জানাজা এমন একটি বৈশ্বিক আয়োজন হতে যাচ্ছে, যা ইরান ও সমগ্র ইসলামি বিশ্বের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। ইতোমধ্যে ইরাকসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে শোকর্যালিতে অংশগ্রহণের জন্য নিবন্ধন ও অগ্রিম প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।
উল্লেখ্য, ইরানের ওপর ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ বিমান হামলার শুরুর দিকে, চলতি বছরের গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে নিজ কার্যালয়ে বিমান হামলায় নিহত হন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। ওই হামলায় তার পরিবারের কয়েকজন সদস্যও প্রাণ হারান, যাদের স্মরণে গত সপ্তাহেও তেহরানে একটি বিশেষ রাষ্ট্রীয় স্মরণ সভা আয়োজন করা হয়েছিল।
আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর ১৯৮৯ সালে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ইরানের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি নিহত হওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি টানা ৩৬ বছর ছয় মাস এই পদে অধিষ্ঠিত থেকে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে অন্যতম প্রভাবশালী নীতি-নির্ধারক হিসেবে ভূমিকা পালন করেন।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |