প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
নিজস্ব প্রতিবেদক, খুলনা | ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনা জেলার ৬টি আসনের মধ্যে ৪টিতেই নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দীর্ঘ দুই যুগ পর দলের এই অভাবনীয় সাফল্যের পর এখন শিল্পনগরী খুলনার মানুষের মুখে মুখে একটিই প্রশ্ন—কে হচ্ছেন আগামীর মন্ত্রিসভার সদস্য? আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন তারেক রহমানের আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত তিন হেভিওয়েট নেতা—রকিবুল ইসলাম বকুল, আজিজুল বারী হেলাল এবং আলী আজগর লবী।
খুলনা-৩ (দৌলতপুর-খালিশপুর-খানজাহান আলী) আসনে জামায়াতের প্রার্থীকে পরাজিত করে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য হয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এই তুখোড় মেধাবী ছাত্রনেতাকে নিয়ে খুলনাবাসীর প্রত্যাশা আকাশচুম্বী। বিশেষ করে গত ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর জনসভায় তারেক রহমান বকুলের খালিশপুরের বাড়িতে মধ্যাহ্নভোজ করায় তাঁর গুরুত্ব আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। সমর্থকরা বকুলকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দেখার দাবি জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার চালাচ্ছেন।
খুলনা-৪ (রূপসা-দিঘলিয়া-তেরখাদা) আসনে জয়ী হয়েছেন ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ও বর্তমান কেন্দ্রীয় তথ্যবিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল। তিনবার নির্বাচনের পর এবারই প্রথম সংসদে যাচ্ছেন তিনি। ২০০৮ সালে শেখ হাসিনার সরকারের সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুনের বিরুদ্ধে লড়াই করে দেশব্যাপী পরিচিতি পাওয়া এই নেতাকে সাধারণ মানুষ বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ে দেখতে চান।
খুলনা-৫ (ডুমুরিয়া-ফুলতলা) আসনে জামায়াতের হেভিওয়েট প্রার্থী মিয়া গোলাম পরোয়ারকে পরাজিত করে চমক দেখিয়েছেন বিসিবির সাবেক সভাপতি আলী আজগর লবী। নির্বাচনে জয়ের পরপরই তারেক রহমানকে ফোন করার ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে, যা দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর গভীর সম্পর্কের প্রমাণ দেয়। খুলনার ক্রীড়াপ্রেমীরা লবীকে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে দেখার দাবি তুলেছেন।
খুলনার রাজনৈতিক ইতিহাস পর্যালোচনায় দেখা যায়, ১৯০০ সালের গোড়ার দিক থেকেই এই অঞ্চলটি ছিল ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের কেন্দ্রস্থল। ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে '৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধে খুলনার শ্রমিক ও ছাত্রসমাজের ভূমিকা ছিল অনন্য। ১৯৮১ সালে জিয়ার মৃত্যুর পর এবং ১৯৯১-এর নির্বাচনে খুলনা ‘বিএনপির দুর্গ’ হিসেবে পরিচিতি পায়।
দীর্ঘ ১৫ বছরের রাজনৈতিক সংকটের পর ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে যে পরিবর্তনের হাওয়া লেগেছে, তার চূড়ান্ত প্রতিফলন দেখা গেল ২০২৬-এর নির্বাচনে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, খুলনার অর্থনৈতিক স্থবিরতা কাটাতে এবং বন্ধ কলকারখানা সচল করতে এই তিন নেতার অন্তত একজনের মন্ত্রিসভায় থাকা জরুরি।
তৃণমূল নেতাকর্মীরা বলছেন, ২০২৫ সাল থেকে তারেক রহমানের নির্দেশে যেভাবে লবী, বকুল ও হেলাল মাঠে কাজ করেছেন, তার পুরস্কার হিসেবে তাঁদের মন্ত্রিসভায় ঠাঁই দেওয়া উচিত। যদিও এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কারও কাছে আনুষ্ঠানিক ফোন আসেনি, তবে নির্ভরযোগ্য সূত্রের খবর—খুলনা থেকে অন্তত একজনকে পূর্ণ মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী করার জোর সম্ভাবনা রয়েছে।
সূত্র: বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন সচিবালয়, খুলনা জেলা বিএনপির দপ্তর, বাসস (BSS) এবং মাঠ পর্যায়ের সরেজমিন তথ্য।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |