বিশেষ বিশ্লেষণ প্রতিবেদন তারিখ: ২০ জানুয়ারি, ২০২৬
২০২৬ সালের শুরুতেই বিশ্ব রাজনীতিতে এক নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ভারত মহাসাগরের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ চাগোস দ্বীপপুঞ্জ মরিশাসের কাছে হস্তান্তরের ব্রিটিশ পরিকল্পনাকে 'চরম বোকামি' (Great Stupidity) বলে অভিহিত করেছেন তিনি। অথচ মাত্র কয়েক মাস আগেও এই চুক্তির প্রতি তাঁর প্রশাসনের পূর্ণ সমর্থন ছিল। ট্রাম্পের এই আকস্মিক অবস্থান পরিবর্তন কেবল লন্ডন-ওয়াশিংটন সম্পর্ককেই প্রশ্নের মুখে ফেলেনি, বরং আন্তর্জাতিক মহলে নতুন উত্তাপ ছড়িয়েছে।
২০ জানুয়ারি নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম 'ট্রুথ সোশ্যালে' দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প ব্রিটিশ সরকারের কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি লেখেন:
"আশ্চর্যজনকভাবে আমাদের ‘মেধাবী’ ন্যাটো মিত্র যুক্তরাজ্য দিয়েগো গার্সিয়া দ্বীপটি মরিশাসের হাতে তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। সেখানে আমাদের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। কোনো সংগত কারণ ছাড়াই তারা এটি হস্তান্তর করছে।"
ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, এই সিদ্ধান্ত চীন ও রাশিয়ার কাছে যুক্তরাজ্যের 'চরম দুর্বলতা' হিসেবে প্রকাশ পাবে। তিনি মনে করেন, এই দেশগুলো কেবল শক্তিকে সম্মান করে এবং তারা ব্রিটেনের এই 'বোকামির' সুযোগ নেবে।
সবচেয়ে আশ্চর্যজনক বিষয় হলো ট্রাম্পের এই দ্রুত অবস্থান পরিবর্তন। গুগলের এনালাইসিস এবং বিগত মাসের রিপোর্টগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়:
২০২৫ সালের মে মাস: যখন এই চুক্তি সই হয়, তখন ট্রাম্প প্রশাসন একে 'যুগান্তকারী অর্জন' হিসেবে স্বাগত জানিয়েছিল।
মার্কো রুবিওর বক্তব্য: তৎকালীন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছিলেন, এই চুক্তি দিয়েগো গার্সিয়া ঘাঁটির দীর্ঘমেয়াদী স্থায়িত্ব নিশ্চিত করবে।
স্টারমারের ওভাল অফিস সফর: ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সফরের সময় ট্রাম্প নিজে বলেছিলেন, "আমি আপনাদের দেশের সিদ্ধান্তের সঙ্গে যেতে আগ্রহী।"
মাত্র ৮ মাসের মাথায় ট্রাম্পের এই বিপরীতমুখী অবস্থানকে বিশ্লেষকরা তাঁর 'গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণ' পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেখছেন। ট্রাম্প দাবি করেছেন, ব্রিটেনের এই 'দুর্বলতা' প্রমাণ করে যে কেন যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার স্বার্থে ডেনমার্কের কাছ থেকে গ্রিনল্যান্ড কিনে নেওয়া জরুরি।
চুক্তি অনুযায়ী: ১. সার্বভৌমত্ব: চাগোস দ্বীপপুঞ্জের মালিকানা মরিশাসকে দেওয়া হবে। ২. লিজ: কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ দিয়েগো গার্সিয়া ঘাঁটিটি পরবর্তী ৯৯ বছরের জন্য ব্রিটেনের নিয়ন্ত্রণে থাকবে। ৩. আর্থিক লেনদেন: ব্রিটেন মরিশাসকে বছরে ১০১ মিলিয়ন পাউন্ড প্রদান করবে।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই পোস্টের পর ব্রিটিশ সরকারের পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে। ব্রিটিশ কর্মকর্তারা বলছেন, আন্তর্জাতিক আদালতের রায়ের কারণে দ্বীপপুঞ্জটির ওপর ব্রিটেনের আইনি অধিকার নড়বড়ে হয়ে পড়েছিল। এই চুক্তির ফলে আগামী ১০০ বছরের জন্য ঘাঁটির নিরাপত্তা আইনিভাবে নিশ্চিত হয়েছে।
তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এই 'অপমানজনক' মন্তব্য কিয়ার স্টারমার সরকারের জন্য বড় ধরনের কূটনৈতিক ধাক্কা। বিশেষ করে যখন ব্রিটিশ সরকার ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্ক 'গভীর' করার চেষ্টা করছে, তখন এই আক্রমণ ব্রিটেনের ঘরোয়া রাজনীতিতেও অস্থিরতা তৈরি করেছে।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |