| বঙ্গাব্দ

টিন হোল্ডারদের মধ্যে ৭২ লাখ ইনকাম ট্যাক্স সাবমিট করেন না: রাজস্ব খাতের ভয়াবহ চিত্র

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 28-05-2026 ইং
  • 2680 বার পঠিত
টিন হোল্ডারদের মধ্যে ৭২ লাখ ইনকাম ট্যাক্স সাবমিট করেন না: রাজস্ব খাতের ভয়াবহ চিত্র
ছবির ক্যাপশন: টিন

বাংলাদেশে বর্তমানে মোট এক কোটি ২৮ লক্ষ টিন (TIN) হোল্ডার রয়েছেন, যার মধ্যে ৭২ লাখ ইনকাম ট্যাক্স সাবমিট করেন না এবং রিটার্ন সাবমিট করেন না প্রায় ৪৬ লাখ মানুষ। সম্প্রতি এক উচ্চ পর্যায়ের সেমিনারে এই বিস্ফোরক ও উদ্বেগজনক তথ্যটি দিয়েছেন কানাডার খ্যাতনামা ইউনিভার্সিটি অব ব্রিটিশ কলম্বিয়ার (UBC) অর্থনীতিবিদ ড. খান জহিরুল ইসলাম।

তিনি জানান, যারা কোনোমতে রিটার্ন সাবমিট করেন, তাদের মধ্যেও প্রায় ৩০ লাখ মানুষ কোনো কর বা ট্যাক্স দেন না। কারণ তাদের আয় করসীমা বা ট্যাক্স ব্রাকেটের নিচে, যার ফলে কার্যত মাত্র ১৫ থেকে ১৬ লাখ মানুষ দেশে নিয়মিত ট্যাক্স দিচ্ছেন।

জিডিপির তুলনায় সর্বনিম্ন ট্যাক্স কালেকশন: ভারত ও ভিয়েতনামের চেয়েও পিছিয়ে

সেমিনারে ড. খান জহিরুল ইসলাম বাংলাদেশের খাদে পড়া অর্থনীতি, কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং এস আলমের দুর্নীতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তিনি দেখান যে, রাজস্ব খাতের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হলো আমাদের ট্যাক্স কালেকশন বা কর আদায় প্রক্রিয়া।

বিশ্বের সর্বনিম্ন ট্যাক্স-জিডিপি ($Tax-to-GDP$) অনুপাতের দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। বিভিন্ন দেশের কর আদায়ের তুলনামূলক চিত্র নিচে দেওয়া হলো:

  • বাংলাদেশ: জিডিপির তুলনায় কর আদায়ের হার মাত্র ৬.৬ শতাংশ।

  • ভারত: আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশে এই হার ১৮ শতাংশ।

  • ভিয়েতনাম: উদীয়মান এই অর্থনীতিতে কর আদায়ের হার ১৯ শতাংশ।

  • উন্নত দেশসমূহ: উন্নত বিশ্ব বা পশ্চিমা দেশগুলোতে এই অনুপাত ২৫ থেকে ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত হয়ে থাকে।

বাংলাদেশের বর্তমান কর ব্যবস্থার বাস্তব চিত্র ও পরিসংখ্যান

+------------------------------------+--------------------------------------------------+
| বিষয়ের বিবরণ (Category)             | বর্তমান পরিসংখ্যান (Statistics)                    |
+------------------------------------+--------------------------------------------------+
| ১. মোট টিন (TIN) হোল্ডার সংখ্যা      | ১ কোটি ২৮ লক্ষ জন                                |
| ২. ইনকাম ট্যাক্স সাবমিট করেন না       | ৭২ লাখ মানুষ                                     |
| ৩. রিটার্ন সাবমিট করেন না            | ৪৬ লাখ মানুষ                                     |
| ৪. কার্যকরভাবে ট্যাক্স দেন (Taxpayers)| মাত্র ১৫ থেকে ১৬ লাখ মানুষ (ট্যাক্সেবল আয়ের ৪%)   |
+------------------------------------+--------------------------------------------------+

 এনবিআরের সংস্কার এবং দুর্নীতির ভয়াবহ চিত্র

রাজস্ব খাতের এই বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বা এনবিআর ($NBR$)-এর আমূল সংস্কার (Reform) প্রয়োজন বলে মনে করেন এই গবেষক। তিনি জানান, দেশের অন্তর্বর্তী সরকার এনবিআরের সংস্কারের চেষ্টা করলেও ভেতরের রন্ধ্রে রন্ধ্রে থাকা দুর্নীতির কারণে তা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

দুর্নীতির একটি বাস্তব উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, গত বছর এনবিআরের মাত্র তিনজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ১৪৬ কোটি টাকার দুর্নীতি ও ট্যাক্স ফাঁকি দেওয়ার উদ্দেশ্যে ডকুমেন্ট জালিয়াতির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। যখনই এনবিআরের রিফর্ম নিয়ে কথা বলা হয়, তখনই দুর্নীতির সুবিধাভোগীরা একজোট হয়ে রাস্তায় নেমে আসে এবং সংস্কার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে।

আমার ব্যক্তিগত বিশ্লেষণ: একজন সিনিয়র এসইও কনসালটেন্ট এবং অর্থনৈতিক কন্টেন্ট স্ট্র্যাটেজিস্ট হিসেবে আমি দেখছি—বাংলাদেশের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বাস্তবায়নে এই রাজস্ব ঘাটতি সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াবে। ড. জহিরুল ইসলামের পরামর্শ অনুযায়ী, দেশের অর্থনীতিকে বাঁচাতে হলে এই ৪ শতাংশ ট্যাক্স দেওয়া মানুষকে আগামীতে বাড়িয়ে কমপক্ষে ৫০ শতাংশে নিয়ে যেতে হবে। আর এর জন্য এনবিআরের ডিজিটালাইজেশন এবং আয়ের উৎসে কর বা 'ট্যাক্স ডিডাকশন অ্যাট সোর্স' ($TDS$) নীতি কঠোরভাবে কার্যকর করা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।

কেন এই তথ্যটি গুগলের ই-ই-এ-টি (E-E-A-T) নিয়ম মেনে পাবলিশ করা উচিত?

গুগল বর্তমানে অর্থনীতি, ট্যাক্স এবং সরকারি পলিসি সংক্রান্ত কন্টেন্টের ক্ষেত্রে তথ্যের সত্যতা এবং বিশেষজ্ঞদের মতামত বা 'Fact-checking' অত্যন্ত কড়াকড়িভাবে দেখে। ব্লগে সরাসরি কপি-পেস্ট করে ভালো র‍্যাংকিং পেতে সঠিক ডাটা ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক।

  • সরের নির্ভরযোগ্যতা: ইউনিভার্সিটি অব ব্রিটিশ কলম্বিয়ার শিক্ষক ড. খান জহিরুল ইসলামের এই সেমিনার বক্তব্যটি বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক সংস্কার এবং ব্যাংকিং খাতের নীতি নির্ধারণের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ রেফারেন্স দলিল।

  • ভবিষ্যতের সমাধান: অর্থনীতিবিদের মতে, ট্যাক্স বেইস বা করের আওতা দ্রুত বাড়াতে হবে এবং কর ফাঁকি রোধে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে।

    প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
    আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency