| বঙ্গাব্দ

পল্লবীতে নিহত শিশু রামিসার বাসায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান: ঘাতক সোহেলের লোমহর্ষক জবানবন্দি

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 21-05-2026 ইং
  • 1512 বার পঠিত
পল্লবীতে নিহত শিশু রামিসার বাসায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান: ঘাতক সোহেলের লোমহর্ষক জবানবন্দি
ছবির ক্যাপশন: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

পল্লবীতে নৃশংসতার শিকার শিশু রামিসার বাসায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান: ৭ দিনে তদন্তের নির্দেশ, ঘাতক সোহেলের লোমহর্ষক জবানবন্দি

শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬: রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে পাশবিক নির্যাতন ও বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের শিকার সাত বছর বয়সী স্কুলছাত্রী রামিসা আক্তারের শোকার্ত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন দেশের শীর্ষ নির্বাহী। গত বৃহস্পতিবার (২১ মে ২০২৬) রাতে মন্ত্রিপরিষদের জরুরি সভা শেষে রাত ৯টা ৫০ মিনিটে মিরপুর-১১ নম্বর সেকশনে রামিসার বাবা-মায়ের সাথে দেখা করার জন্য তাদের বাসায় পৌঁছান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রী রামিসার পিতা আবদুল হান্নান মোল্লা ও তাঁর স্ত্রীর সাথে কথা বলেন, তাদের সান্ত্বনা দেন এবং এই পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের বিচার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে সম্পন্ন করে অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার সুনির্দিষ্ট আশ্বাস দেন।

এদিকে, এই লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের গুরুত্ব বিবেচনা করে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, আগামী ৭ দিনের মধ্যে মামলার সম্পূর্ণ তদন্ত প্রতিবেদন (Charge Sheet) আদালতে জমা দেওয়ার জন্য ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনারকে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

১. আদালতে ঘাতক সোহেলের স্বীকারোক্তি: ইয়াবা আসক্তি ও বিকৃত লালসা

গত মঙ্গলবার (১৯ মে ২০২৬) মিরপুর পল্লবীর একটি ফ্ল্যাটে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসা আক্তারকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। ঘটনার পরপরই গ্রেপ্তার হওয়া প্রধান অভিযুক্ত রিকশা মেকানিক সোহেল রানা বুধবার (২০ মে) ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে স্বেচ্ছায় ১৬৪ ধারায় নিজের অপরাধ স্বীকার করে চরম লোমহর্ষক ও গা শিউরে ওঠা জবানবন্দি দিয়েছেন।

জবানবন্দিতে ঘাতক সোহেল রানা জানায়:

  • টোপ ও পাশবিক নির্যাতন: ঘটনার দিন সকাল ৯টার দিকে পাশাপাশি ফ্ল্যাটে থাকা প্রতিবেশী শিশু রামিসাকে দেখে ইয়াবা আসক্ত সোহেলের মধ্যে বিকৃত যৌন লালসা তৈরি হয়। সুযোগ বুঝে সে শিশুটিকে কৌশলে নিজের কক্ষে ডেকে নেয় এবং জোরপূর্বক বাথরুমে নিয়ে তার ওপর তীব্র যৌন নির্যাতন চালিয়ে ধর্ষণ করে।

  • আতঙ্ক ও শ্বাসরোধে হত্যা: ধর্ষণের পর শিশু রামিসা কান্নাকাটি করে বিষয়টি তার মা-বাবাকে জানিয়ে দেওয়ার কথা বললে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে সোহেল। নিজের অপরাধ ফাঁস হওয়ার আশঙ্কায় সে বাথরুমের ভেতরেই রামিসাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে।

২. লাশ গুমে স্ত্রীর বীভৎস সহযোগিতা ও স্বামীকে পালানোর সুযোগ

আদালতের জবানবন্দিতে সোহেল রানা আরও জানায়, হত্যাকাণ্ডের পর তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার পুরো বিষয়টি জানতে পারেন। তবে পুলিশে খবর না দিয়ে স্বামীকে বাঁচাতে এবং লাশ গুম করতে তিনি বীভৎস ও বর্বরোচিত পরিকল্পনা করেন:

  • শরীর খণ্ডিতকরণ: লাশ চিরতরে আড়াল করতে তারা বাজার থেকে আনা ধারালো ছুরি দিয়ে রামিসার মাথা কেটে গলা থেকে সম্পূর্ণ আলাদা করে ফেলে। ধর্ষণের আলামত মুছতে শিশুটির যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করা হয় এবং দুই হাত কাঁধের কাছ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করা হয়। এরপর মাথাটি একটি প্লাস্টিক বালতিতে এবং মূল দেহটি খাটের নিচে লুকিয়ে রাখা হয়।

  • জানালা কেটে পালানোর সুযোগ: এই প্রক্রিয়া চলাকালীন রামিসার মা বাইরে থেকে দরজায় নক করতে থাকলে মূল আসামি সোহেল যাতে নির্বিঘ্নে পালাতে পারে, সেজন্য স্ত্রী স্বপ্না দীর্ঘক্ষণ ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে রাখেন। এরপর সোহেল রুমের জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যাওয়ার পর স্বপ্না দরজা খোলেন। পুরো নির্মম প্রক্রিয়াজুড়েই স্বপ্নার প্রত্যক্ষ সহযোগিতা ছিল।

পল্লবী শিশু রামিসা হত্যা মামলার এজাহার ও আইনি অগ্রগতি মেট্রিিক্স

রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির স্কুলছাত্রী ৮ বছর বয়সী শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যা ও শিরশ্ছেদ করার ঘটনাটি দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। ২০২৬ সালের ১৯শে মে সকালে পল্লবীর সেকশন-১১-এর একটি বহুতল ভবনের তৃতীয় তলার ফ্ল্যাটে এই রোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডটি ঘটে। ২০শে মে মামলার প্রধান আসামি আদালতে দোষ স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে। 
মামলার এজাহার ও ঘটনার বিবরণ
  • মামলা দায়ের: ২০শে মে, ২০২৬ তারিখে রামিসার বাবা আবদুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং দণ্ডবিধিতে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
  • আসামি তালিকা: মামলার প্রধান আসামি তাদের পাশের ফ্ল্যাটের সাবলেট ভাড়াটিয়া সোহেল রানা (৩০) (পেশায় রিকশা মেকানিক) এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার (২৬)। এজাহারে অজ্ঞাতনামা আরও একজনকে আসামি করা হয়েছে।
  • হত্যাকাণ্ডের ধরন: এজাহার অনুযায়ী, ১৯শে মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রামিসা স্কুলে যাওয়ার জন্য বাসা থেকে বের হলে সোহেল রানা কৌশলে তাকে নিজের কক্ষে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করে। এরপর ঘটনা ধামাচাপা দিতে ধারালো ছুরি দিয়ে রামিসার মাথা কেটে বিচ্ছিন্ন করে এবং দুই হাত কাঁধ থেকে প্রায় আলাদা করে ফেলে।
  • আলামত ও উদ্ধার: রামিসার মা খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে সোহেলের ফ্ল্যাটের দরজার সামনে মেয়ের স্যান্ডেল দেখতে পান। দীর্ঘক্ষণ কড়া নাড়ার পরও দরজা না খোলায় প্রতিবেশীদের নিয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে খাটের নিচে রামিসার মস্তকবিহীন দেহ এবং বাথরুমের বালতির ভেতর খণ্ডিত মাথা উদ্ধার করা হয়। 
আইনি ও তদন্ত অগ্রগতি মেট্রিিক্স (মে ২০২৬)
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, স্বরাষ্ট্র ও আইন মন্ত্রণালয়ের দ্রুত পদক্ষেপের পর মামলার বর্তমান আইনি অগ্রগতির প্রধান সূচকগুলো নিচে ছক আকারে দেওয়া হলো:
আইনি সূচক (Metrics)বর্তমান অবস্থা ও অগ্রগতি (মে ২২, ২০২৬ অনুযায়ী)
প্রধান আসামি গ্রেপ্তার১০০% সফল (ঘটনার দিন সন্ধ্যায়ই নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে সোহেল রানা গ্রেপ্তার হয়)।
সহযোগী আসামি আটকসোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে ঘটনাস্থল থেকেই আটক করা হয় (অভিযোগ: স্বামীকে পালাতে সাহায্য করতে সে দীর্ঘক্ষণ দরজা বন্ধ রেখেছিল)।
আদালতে স্বীকারোক্তি২০শে মে প্রধান আসামি সোহেল রানা ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনায়েদের কাছে ১৬৪ ধারায় দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে।
বর্তমান আইনি স্থিতিআদালত দুই আসামিকে (সোহেল ও স্বপ্না) কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
তদন্ত প্রতিবেদন জমার ডেডলাইনআইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান ডিএমপি কমিশনারকে ৭ দিনের মধ্যে (১ সপ্তাহের ভেতর) তদন্ত প্রতিবেদন জমার নির্দেশ দিয়েছেন। আদালতের সাধারণ ধার্য দিন ১১ই জুন।
আইনি সহায়তারামিসার পরিবারের পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির বিনামূল্যে (বিনা পয়সায়) আইনি লড়াই পরিচালনার ঘোষণা দিয়েছেন।
সরকারের শীর্ষ পর্যায় ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার অবস্থান 
  • স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আশ্বাস: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ প্রেস ব্রিফিংয়ে দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে বলেছেন, সংক্ষিপ্ততম সময়ের মধ্যে চার্জশিট দাখিল করে এই মামলার দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করা হবে।
  • আইন মন্ত্রণালয়ের অবস্থান: আইনমন্ত্রী জানিয়েছেন, বিচারের দীর্ঘসূত্রতা এড়াতে এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের ট্রায়াল বা বিচার প্রক্রিয়া দ্রুততম সময়ে শেষ করার জন্য বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। 
এদিকে শিশু রামিসা হত্যার দ্রুত বিচার এবং ঘাতকের ফাঁসির দাবিতে মিরপুর ও পল্লবী এলাকায় সর্বস্তরের জনগণ ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে তীব্র বিক্ষোভ ও মানববন্ধনের সৃষ্টি হয়েছে। [
ভবিষ্যৎ রূপরেখা: দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে সর্বোচ্চ শাস্তির প্রস্তুতি

আইন মন্ত্রণালয়ের একটি উচ্চপর্যায়ের সূত্র জানিয়েছে, ৭ দিনের মধ্যে পুলিশি তদন্ত প্রতিবেদন জমা পড়ার পরপরই মামলাটিকে বিশেষ ট্রাইব্যুনালে বা দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিহতের বাসায় গিয়ে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে, বর্তমান সরকার দেশে কোনো ‘মব কালচার’ বা বিচারহীনতার সংস্কৃতি প্রশ্রয় দেবে না। মাদক ও ইয়াবা আসক্তির ফলে সমাজে যে ধরনের বিকৃত অপরাধের বিস্তার ঘটছে, তা দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিশেষ অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। পল্লবীর সর্বস্তরের জনগণ এবং দেশের মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই মামলার দ্রুততম আইনি নিষ্পত্তি এবং খুনি সোহেল ও তার স্ত্রীর প্রকাশ্যে ফাঁসি কার্যকরের দাবি জানিয়ে রাজপথে বিক্ষোভ অব্যাহত রেখেছে।

প্রতিবেদক: Senior SEO Consultant BDS Bulbul Ahmed

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, মিরপুর পল্লবী শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড, ঘাতক সোহেল রানার জবানবন্দি, আইন মন্ত্রণালয়ের দ্রুত বিচার আপডেট এবং সমসাময়িক জাতীয় ক্রাইম ট্র্যাকিংয়ের গভীর ও প্রফেশনাল ইনফরামেশনাল কন্টেন্ট পড়তে নিয়মিত ভিজিট করুন বাংলাদেশ প্রতিদিন ওয়েবসাইটে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency