বিশ্বের সবচেয়ে গোপনীয় ও নিরাপদ ব্যাংকিং ব্যবস্থার জন্য পরিচিত সুইজারল্যান্ডের সুইস ব্যাংকে বিপুল পরিমাণ অর্থ জমা রেখেছেন একাধিক বাংলাদেশি প্রভাবশালী পরিবার। ২০২২ সালে ফাঁস হওয়া "Swiss Secrets" অনুসন্ধানে প্রকাশিত হয়েছে বাংলাদেশি ৮টি পরিবারের নামে অন্তত ৬৮টি একাউন্টে জমা রয়েছে প্রায় ৩৬০০ কোটি টাকা।
এই অনুসন্ধান চালিয়েছে আন্তর্জাতিক অনুসন্ধানী সংস্থা OCCRP (Organized Crime and Corruption Reporting Project)। বিশ্লেষণে উঠে এসেছে রাজনীতিক, ব্যবসায়ী, শিল্প উদ্যোক্তা এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের নাম।
হিসাব সংখ্যা: ১১টি
টাকার পরিমাণ: ৭৫৭.৯৩ কোটি টাকা
প্রধান ব্যক্তি: রাজীব সামদানি
বিশেষ পরিচয়: শিল্পকর্ম সংগ্রাহক, সামদানি আর্ট ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা
সরকারি ভবন ও গণভবনে কোটি টাকার আর্টওয়ার্ক সরবরাহের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
হিসাব সংখ্যা: ১২টি
টাকার পরিমাণ: ৭২০.৫৮ কোটি টাকা
সংশ্লিষ্টরা: ছোট বোন নূরজাহান হুদা, জামাতা হুদা এল ইদ্রোস
হিসাব সংখ্যা: ৯টি
টাকার পরিমাণ: ৫৯১.৭৫ কোটি টাকা
নাম: মোবারক আলী, সকিনা নাসরুল্লাহ মিরালী, সামাদ মিরালী
হিসাব সংখ্যা: ১৮টি
টাকার পরিমাণ: ৬৮০.১৪ কোটি টাকা
হিসাব সংখ্যা: ৩টি
টাকার পরিমাণ: ৫১.৭১ কোটি টাকা
হিসাব সংখ্যা: ২টি
টাকার পরিমাণ: ৭৩.৮০ কোটি টাকা
হিসাব সংখ্যা: ১টি
টাকার পরিমাণ: ২২৯.৫৭ কোটি টাকা
হিসামুদ্দিন সালেহ (২.৩১ কোটি ফ্রাঁ)
খন্দকার ফিরোজ কাইয়ূম (১.৪৩ কোটি ফ্রাঁ)
মনসুর ইয়াজদানি খান (৪১ লাখ ফ্রাঁ)
হিরা রাজ্জাক (৭.৮৯ লাখ ফ্রাঁ)
প্রয়াত একজন অর্থনীতিবিদ (৭.১৭ লাখ ফ্রাঁ)
এই সব হিসাব খুলেছে মূলত ২০১২ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে।
অনেক হিসাব পরবর্তীতে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
একাধিক হিসাব থেকে টাকা উত্তোলন ও জমাদানের তথ্যও মিলেছে।
কিছু একাউন্টে ২০১৪ সাল পর্যন্ত অর্থ গচ্ছিত ছিল এবং পরে তুলে নেওয়া হয়।
এই টাকাগুলোর প্রকৃত উৎস বা প্রকৃতি সম্পর্কে এখনও সরকারি কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, বিদেশে অর্থ রাখাই অবৈধ নয়—তবে তার উৎস স্পষ্ট না হলে সেটি অর্থপাচারের আওতায় পড়ে। এখনো পর্যন্ত কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান অর্থপাচার করেছে এমন প্রমাণপত্র প্রকাশ হয়নি।
এই তথ্য বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও ব্যবসায়ী অঙ্গনের অস্বচ্ছতা এবং দুর্নীতির জটিল চিত্র স্পষ্ট করে তোলে। আন্তর্জাতিক সংস্থার এ ধরনের ফাঁসের ফলে দেশে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার দাবিও জোরালো হচ্ছে।
প্রতিবেদক: BDS Bulbul Ahmed
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |