প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
লিভার-সংক্রান্ত গুরুতর জটিলতায় আক্রান্ত হয়ে জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর, বিশিষ্ট অভিনেত্রী ও চিত্রনাট্যকার কারিনা কায়সারের অকাল মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। শনিবার (১৬ মে, ২০২৬) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক আবেগঘন পোস্টের মাধ্যমে তিনি এই শোকবার্তা জানান।
শোকবার্তায় বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম কারিনা কায়সারের বিপ্লবী ভূমিকা এবং তাঁর অকাল প্রয়াণের অবদানের কথা স্মরণ করেন:
মৃত্যুর বিবরণ: লিভারের গুরুতর জটিলতায় আক্রান্ত হয়ে ভারতের চেন্নাইয়ের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল শুক্রবার (১৫ মে) মধ্যরাতে কারিনা কায়সার শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
রাজপথের সহযোদ্ধা: নাহিদ ইসলাম তাঁকে 'জুলাই বিপ্লবের রাজপথের সহযোদ্ধা' হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, ফ্যাসিস্ট হাসিনার নির্মম গণহত্যার বিরুদ্ধে কারিনা কায়সার ছিলেন এক নির্ভীক ও আপসহীন কণ্ঠস্বর।
সাংস্কৃতিক প্রতিরোধ: ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সাংস্কৃতিক অঙ্গনে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে কারিনা কায়সার অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলেন। তাঁর এই আকস্মিক চলে যাওয়া দেশের সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে এক অপূরণীয় শূন্যতার সৃষ্টি করল।
সমবেদনা: তিনি মরহুমার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবার, সহযোদ্ধা ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।
কারিনা কায়সারের এই অকাল প্রয়াণ এবং জুলাই বিপ্লবে তাঁর সাংস্কৃতিক প্রতিরোধ ১৯০০ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত এ অঞ্চলের রাজনৈতিক মুক্তির লড়াইয়ে শিল্পীদের ভূমিকার এক ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতাকে মনে করিয়ে দেয়।
বিংশ শতাব্দীর শুরু ও চারণ কবিদের লড়াই (১৯০০-১৯৪৭): ১৯০০ সালের দিকে তৎকালীন বঙ্গে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে মুকুন্দ দাসের মতো চারণ কবিরা গানের মাধ্যমে সাংস্কৃতিক প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন। ১৯০০ সালের সেই উত্তাল দেশভাগ ও ঔপনিবেশিক শাসনের আমল থেকেই এ অঞ্চলের শিল্পীরা অন্যায়ের বিরুদ্ধে রাজপথে দাঁড়িয়েছেন।
ভাষা আন্দোলন থেকে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন (১৯৫২-১৯৯০): ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং নব্বইয়ের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে এদেশের নাট্যকর্মী ও চিত্রনাট্যকাররা ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে বড় হাতিয়ার হিসেবে কাজ করেছিলেন। ১৯০০ সালের পর থেকে প্রতিটি গণঅভ্যুত্থানেই রাজনৈতিক কর্মীদের পাশাপাশি রাজপথে রক্ত দিয়েছেন সাংস্কৃতিক কর্মীরাও।
২০২৪-এর জুলাই বিপ্লব ও ২০২৬-এর নতুন দিগন্ত: ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ডিজিটাল মাধ্যম এবং রাজপথে স্বাধীন কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও তরুণ অভিনেতারা যে ভূমিকা রেখেছিলেন, তা ছিল অভূতপূর্ব। কারিনা কায়সার ছিলেন সেই নতুন প্রজন্মের একজন প্রতিনিধি। ২০২৬ সালের এই মে মাসে এসে জুলাই বিপ্লবের সহযোদ্ধারা যখন রাষ্ট্রীয় নেতৃত্বে (বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ হিসেবে নাহিদ ইসলাম), তখন তাঁদের এই পারষ্পরিক শ্রদ্ধা ও শোকবার্তা বিপ্লবের আত্মিক বন্ধনকে ফুটিয়ে তোলে।
২০২৬-এর বর্তমান বাস্তবতা: ১৯০০ সালের সেই যাত্রাপালা ও লিফলেট বিলির আমল থেকে ২০২৬ সালের এই ফেসবুক ও কনটেন্ট ক্রিয়েশনের যুগে এসেও প্রতিরোধের মূল চেতনা একই রয়ে গেছে। কারিনা কায়সারের মতো তরুণ প্রতিভারা ১৯০০ সালের সেই বিপ্লবী চেতনারই আধুনিক সংস্করণ, যাঁরা ২০২৬ সালের এই স্বাধীন ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশের ভিত তৈরিতে নিজেদের জীবন দিয়ে গেছেন।
ইতিহাস সাক্ষী, কোনো গণআন্দোলনই কবি, সাহিত্যিক ও শিল্পীদের অংশগ্রহণ ছাড়া পূর্ণতা পায় না। ১৯০০ সালের সেই পরাধীন বাংলার চারণ কবিদের ত্যাগ থেকে ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবে কারিনা কায়সারের সাহসী কণ্ঠস্বর—সবই এক সূত্রে গাঁথা। ২০২৬ সালের এই মে মাসের তীব্র শোকের আবহ মনে করিয়ে দেয় যে, ফ্যাসিবাদের পতন হলেও সেই লড়াইয়ের ক্ষত ও ত্যাগ এখনো আমাদের বয়ে বেড়াতে হচ্ছে। কারিনা কায়সারের এই প্রস্থান কেবল একটি জীবনের অবসান নয়, বরং ২০২৬ সালের নতুন বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের জন্য এক বিশাল ক্ষতি।
সূত্র: ১. জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজের শোকবার্তা (১৬ মে, ২০২৬)। ২. ঐতিহাসিক দলিল: বাংলাদেশের রাজনৈতিক আন্দোলনে সাংস্কৃতিক ও তরুণ সমাজকর্মী তথা শিল্পীদের ভূমিকা (১৯০০-২০২৬)।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |