শেখ হাসিনার শাসন ও বাংলাদেশের ভবিষ্যত: সালাহউদ্দিন আহমদের রাজনৈতিক মন্তব্য
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ঢাকা, ১৭ নভেম্বর ২০২৫ - বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, "শেষ পর্যন্ত সবাইকে জনগণের কাছে যেতে হবে নির্বাচনের জন্য, কারণ আমরা ১৫-১৬ বছর আন্দোলন করেছি একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য।" তিনি জানান, দেশের জনগণ বর্তমানে ভোটের জন্য উন্মুখ এবং স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদ থেকে রক্ষা পেতে সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে একটি গণতান্ত্রিক জাতি প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সিনেট ভবনে আয়োজিত বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ শিক্ষার রূপান্তর: একটি কৌশলগত রোডম্যাপ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি এ কথা বলেন। সেমিনারে ঢাবি সাদা দলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান এবং যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম উপস্থিত ছিলেন।
শেখ হাসিনার শাসনামলে নির্বাচন ব্যবস্থা ও আইনি অস্থিরতা
সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, "যতদিন পর্যন্ত স্বাধীন বিচার বিভাগ এবং স্বাধীন নির্বাচন কমিশন গঠন না হবে, ততদিন বাংলাদেশে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। কিন্তু বর্তমান সরকারের অধীনে স্বৈরাচারের দোসরদের ব্যালান্স না করা পর্যন্ত একটি স্বাধীন বিচার বিভাগ প্রতিষ্ঠিত হবে না।"
তিনি আরো বলেন, "এটা স্পষ্ট যে, জাতীয় ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার নামে অনৈক্য তৈরি হয়েছে এবং নির্বাচনের প্রক্রিয়া নিয়ে যে ধন্যবাদ জানানো হয়েছে, তা আরও বেশি প্রমাণিত করেছে যে, দেশের সার্বভৌমত্ব এবং গণতন্ত্রের পরিপূর্ণতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।"
শিক্ষাব্যবস্থা ও সাংস্কৃতিক আগ্রাসন: এক গভীর বিশ্লেষণ
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, "দেশের শিক্ষাব্যবস্থা ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে, যা মূলত জাতির ভবিষ্যৎকে বিপদগ্রস্ত করেছে। আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় গোপনে কালচারাল হেজিমনি প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করা হয়েছে, যা ব্রিটিশদের শাসনের সাথে মিল রয়েছে। এই প্রক্রিয়া দেশের বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার উপর ব্যাপক আঘাত হেনেছে।"
তিনি বলেন, "দেশে এমন একটি জাতি তৈরি করা হয়েছে যারা রক্তে ও মাংসে বাংলাদেশি, কিন্তু চিন্তাভাবনায় ভারতীয়। এমন চিন্তাভাবনা আমাদের জাতিগত পরিচিতি ক্ষুণ্ন করেছে এবং আমাদের সাংস্কৃতিক একত্বকে দুর্বল করেছে।"
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা: স্বাধীনতা সংগ্রামে অবদান
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, "যারা শিক্ষকতা করেন, তারাই জাতি গঠনের কারিগর। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যদি জাগতে না, তাহলে বাংলাদেশ কখনই স্বাধীন হতে পারত না। শিক্ষিত সমাজ এবং মধ্যবিত্ত সমাজের গঠনই আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামকে শক্তিশালী করেছে।"
এছাড়া, তিনি উল্লেখ করেন যে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন ও ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ-এ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অভূতপূর্ব ভূমিকা ছিল, যা দেশের স্বাধীনতার পথ তৈরি করেছিল। "ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ ও স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন-এর মাধ্যমে ছাত্রসমাজের নেতৃত্বে দেশের রাজনৈতিক পরিবর্তন এসেছে," বলেন তিনি।
ভবিষ্যতের পরিকল্পনা: এলডিপির ৩১ দফা রূপরেখা
এলডিপি মহাসচিব তার দলের ৩১ দফা রূপরেখা-এর কথা উল্লেখ করে বলেন, "আমরা একটি যুগোপযোগী উদ্যোগ গ্রহণ করতে যাচ্ছি, যাতে দেশের অর্থনীতি, সমাজনীতি, এবং শিক্ষাব্যবস্থা পরিকল্পিতভাবে উন্নত করা যাবে। আমাদের লক্ষ্য একটি ন্যায়বিচার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা, যা দেশে সামাজিক শান্তি ও উন্নয়ন নিশ্চিত করবে।"
এলডিপি’র পরামর্শ ও প্রতিক্রিয়া
এলডিপি’র নেতারা দাবি করেছেন, যে কোনো ধরনের ক্ষমতার লোভ বা অবৈধ শাসন থেকে দেশের জনগণকে মুক্ত করতে হবে। এই কারণে স্বাধীন বিচার বিভাগ ও স্বাধীন নির্বাচন কমিশন গঠন জরুরি। এছাড়া, সালাহউদ্দিন আহমদ এবং তার দলের নেতারা আগামী নির্বাচনে দেশব্যাপী এলডিপি’র রাজনৈতিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন এবং বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা-এর ক্ষেত্রে বিভাগীয় সংস্কার করার প্রতি তাদের একাগ্রতা প্রকাশ করেছেন।
Sources:
-
শেখ হাসিনার শাসন ও গণতন্ত্রের অবস্থা
-
ঢাবি সেমিনার: শিক্ষাব্যবস্থা ও জাতি গঠন
-
এলডিপি রাজনৈতিক রূপরেখা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন