প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
শ্রীলঙ্কায় ১১ বছরের এক শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে পাল্লেগামা হেমারথানা নামক এক অত্যন্ত প্রভাবশালী ও উচ্চপদস্থ বৌদ্ধ ভিক্ষুকে গ্রেফতার করেছে দেশটির পুলিশ। শনিবার (৯ মে, ২০২৬) রাজধানী কলম্বোর একটি বেসরকারি হাসপাতাল থেকে ৭১ বছর বয়সী এই ধর্মীয় নেতাকে আটক করা হয়। দেশটির ইতিহাসে ধর্মীয় যাজকদের জড়িত থাকার ঘটনাগুলোর মধ্যে এটিই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে হাই-প্রোফাইল এবং আলোচিত মামলা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, কলম্বো থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার উত্তরে অনুরাধাপুরার একটি মন্দিরে এই জঘন্য অপরাধের ঘটনা ঘটে, যার প্রধান পুরোহিত ছিলেন হেমারথানা। তদন্তে আরও কিছু উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে:
গ্রেফতার ও তদন্ত: ২০২২ সালে এই নিপীড়নের অভিযোগ ওঠার পর তদন্ত শুরু হলে হেমারথানা কলম্বোর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন, সেখান থেকেই তাকে গ্রেফতার করা হয়।
সহায়তার অভিযোগে মা গ্রেফতার: ভুক্তভোগী শিশুটিকে এই অপরাধে সহায়তা ও প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে তার নিজের মাকেও পুলিশ গ্রেফতার করেছে।
ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা: গ্রেফতারের আগে শুক্রবার অনুরাধাপুরার একটি স্থানীয় আদালত ওই ভিক্ষুর ওপর বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলেন।
পাল্লেগামা হেমারথানা কেবল একজন সাধারণ ভিক্ষু নন; তিনি ভারতের সেই মূল ‘বোধিবৃক্ষ’-এর চারা থেকে জন্মানো পবিত্র বৃক্ষের প্রধান রক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এ ছাড়া তিনি বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের তীর্থযাত্রার প্রধান আটটি পবিত্র মন্দিরেরও প্রধান ছিলেন।
শ্রীলঙ্কার এই নৈতিক অবক্ষয়ের ঘটনা আমাদের সমাজের গভীর ক্ষতগুলোকে মনে করিয়ে দেয়। ১৯০০ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের ইতিহাসেও শিশুদের সুরক্ষা এবং অপরাধীদের বিচারের দাবিতে নানা সংগ্রাম সংঘটিত হয়েছে।
বিংশ শতাব্দীর শুরু (১৯০০-১৯৪৭): ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ উত্তরকালে এই অঞ্চলে ব্রিটিশ আইন ও বিচার ব্যবস্থার প্রসার ঘটলেও গ্রামীণ সমাজে অপরাধ দমনে ধর্মীয় নেতৃত্বের প্রভাব ছিল প্রবল।
স্বাধীনতা ও মৌলিক অধিকার (১৯৭১): ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে মুক্তির ডাক দিয়েছিলেন, তার অন্যতম ভিত্তি ছিল মানবিক মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। যুদ্ধ পরবর্তী বাংলাদেশে নারী ও শিশু সুরক্ষায় আইনি কাঠামো তৈরির কাজ শুরু হয়।
গণতন্ত্র ও বিচারহীনতার বিরুদ্ধে লড়াই (১৯৯০-২০২৪): ১৯৯০ সালের স্বৈরাচার পতনের পর গণতান্ত্রিক পরিবেশে বিভিন্ন সময়ে শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে ওঠে। তবে রাজনৈতিক বা ধর্মীয় প্রভাব খাটিয়ে বিচার এড়ানোর প্রবণতা বরাবরই এক বড় চ্যালেঞ্জ ছিল।
২০২৪-এর বিপ্লব ও ২০২৬-এর নতুন দিগন্ত: ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর ২০২৫-২৬ সালে বাংলাদেশ এখন এক নতুন রাষ্ট্র সংস্কারের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বর্তমান সংস্কারমুখী বাংলাদেশে যেকোনো প্রভাবশালী অপরাধীর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান এবং ‘আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়’—এই নীতি প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা চলছে।
ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ১৯০০ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত ধর্ম ও ক্ষমতার অপব্যবহার সবসময়ই শোষণের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। শ্রীলঙ্কার এই হাই-প্রোফাইল গ্রেফতারি প্রমাণ করে যে, অপরাধীর ধর্মীয় বা সামাজিক পরিচয় যত বড়ই হোক না কেন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় কোনো আপস চলে না। বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে এই ঘটনাটি একটি বড় শিক্ষা—যেকোনো ধর্মীয় বা রাজনৈতিক নেতৃত্বের আড়ালে থাকা অপরাধীদের মুখোশ উন্মোচন করা এবং ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা একটি সভ্য সমাজের প্রধান দায়িত্ব।
সূত্র: ১. আন্তর্জাতিক সংবাদ প্রতিবেদন (৯ মে, ২০২৬)। ২. ঐতিহাসিক দলিল: বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সামাজিক আন্দোলনের প্রেক্ষাপট (১৯৭১-২০২৬)। ৩. বৈশ্বিক মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ রিপোর্ট।
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ সিনিয়র এসইও কনসালট্যান্ট ও ডিজিটাল পাবলিশার
ওয়েবসাইট:
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |