| বঙ্গাব্দ

ইসরায়েলি সেনা গাজায় স্থায়ীভাবে মোতায়েন থাকবে: প্রতিরক্ষামন্ত্রী কাটজের ঘোষণা

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 18-04-2025 ইং
  • 4677123 বার পঠিত
ইসরায়েলি সেনা গাজায় স্থায়ীভাবে মোতায়েন থাকবে: প্রতিরক্ষামন্ত্রী কাটজের ঘোষণা
ছবির ক্যাপশন: গাজায় ইসরায়েলি সেনা স্থায়ীভাবে থাকবে: ইসরায়েল কাটজ

গাজায় স্থায়ীভাবে সেনা মোতায়েন থাকবে: ঘোষণা দিলেন ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী

গাজা উপত্যকায় স্থায়ীভাবে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী মোতায়েন রাখার ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ। বুধবার (১৬ এপ্রিল) তুরস্কের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির একটি প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, “পূর্বে কখনও গাজায় স্থায়ীভাবে ইসরায়েলি সেনা উপস্থিত ছিল না। তবে এখন থেকে আর এমনটা হবে না।” তিনি আরও বলেন, “গাজার বাসিন্দারা ইসরায়েলি কমিউনিটির মধ্যে মধ্যবর্তী ভূমিকায় থাকবে সেনারা। গাজার নিরাপত্তা জোনে এখন থেকে সবসময় ইসরায়েলি সেনা থাকবে, ঠিক যেমনটা লেবানন ও সিরিয়ার সীমানায় আছে।”

বিশ্লেষকদের মতে, এটি গাজার ওপর ইসরায়েলের সামরিক নিয়ন্ত্রণকে দীর্ঘমেয়াদে প্রতিষ্ঠা করার সংকেত বহন করে। এমন ঘোষণায় মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, “গাজায় চলমান অভিযান ও সামরিক উপস্থিতির কারণে অনেক মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন, আমি সেটি স্বীকার করছি। তবে এখন এই পরিস্থিতির পরিবর্তনের কোনো সম্ভাবনা নেই।”

তিনি মানবিক ত্রাণ সহায়তা নিয়েও কড়াকড়ি অবস্থান জানান। তার ভাষ্য অনুযায়ী, “আমাদের নীতি স্পষ্ট— যদি গাজায় মানবিক ত্রাণ প্রবেশ করতে দেওয়া হয়, তাহলে হামাস সেই ত্রাণকে অস্ত্র বা টুল হিসেবে ব্যবহার করতে পারে। আমরা সেটা হতে দিতে পারি না।”

এ ধরনের অবস্থান আন্তর্জাতিক মহলে ইতোমধ্যে নিন্দিত হয়েছে। জাতিসংঘ, মানবাধিকার সংস্থা এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংগঠন গাজায় মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করতে ইসরায়েলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আসছে। কিন্তু ইসরায়েলের বর্তমান ঘোষণায় বোঝা যাচ্ছে, তারা ভবিষ্যতে গাজার ওপর আরও কঠোর নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার পরিকল্পনা করছে।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের শেষ দিক থেকে গাজায় ইসরায়েলের টানা অভিযান চলমান রয়েছে। হামাসের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সংঘর্ষ, হাজার হাজার প্রাণহানি এবং বসতবাড়ি ধ্বংসসহ ব্যাপক মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে এই অঞ্চলে। এই প্রেক্ষাপটে ইসরায়েলের সেনা স্থায়ীভাবে মোতায়েনের সিদ্ধান্ত ফিলিস্তিনিদের স্বাভাবিক জীবনে ফেরার আশা আরও দুর্বল করে দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

বর্তমানে গাজা একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকা। খাবার, পানি, চিকিৎসা ও নিরাপত্তার অভাবে লক্ষাধিক মানুষ চরম দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছেন। অথচ মানবিক সহায়তা প্রবেশেও ইসরায়েলের সীমাবদ্ধতা আরোপ, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘনের মতো পরিস্থিতি তৈরি করছে বলেও মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

গাজায় ইসরায়েলের এই নতুন নীতির কারণে ভবিষ্যতে এই অঞ্চলের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, শান্তি আলোচনার প্রক্রিয়া এবং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সম্পর্কগুলোর ওপর গভীর প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency