আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ১ মে ২০২৬
নাইপিডো: মিয়ানমারের কারাবন্দী গণতন্ত্রকামী নেত্রী অং সান সু চিকে কারাগার থেকে সরিয়ে গৃহবন্দী হিসেবে স্থানান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। জান্তা প্রধান মিন অং হ্লাইং এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছেন যে, সু চির অবশিষ্ট সাজা এখন থেকে তার ‘নির্ধারিত বাসস্থানে’ কাটানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে এই ঘোষণাকে ঘিরে নতুন করে ধোঁয়াশা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
গত শুক্রবার সু চির আইনজীবীরা জানিয়েছিলেন যে, মিয়ানমার সরকার তার মক্কেলের সাজার মেয়াদ মোট সাজার ছয় ভাগের এক ভাগ কমিয়েছে। এরপরই জান্তা সরকারের পক্ষ থেকে তাকে কারাগারে না রেখে বিশেষ নজরদারিতে গৃহবন্দী রাখার সিদ্ধান্ত আসে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে সু চি’র সাম্প্রতিক অবস্থার প্রমাণ হিসেবে দুজন সামরিক কর্মকর্তার সঙ্গে তার একটি ছবিও প্রকাশ করা হয়েছে।
জান্তা সরকারের এই ঘোষণায় মোটেও আশ্বস্ত হতে পারছেন না সু চির ছেলে কিম অ্যারিস। তিনি বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেছেন, তার মা আদৌ বেঁচে আছেন কি না সে সম্পর্কেও কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ তার কাছে নেই। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিটিকে তিনি ‘অর্থহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়ে জানিয়েছেন যে, ওই ছবিটি মূলত ২০২২ সালে তোলা।
কিম অ্যারিস বলেন, “মা’কে কারাগার থেকে সরানো হয়েছে— এমন কোনো প্রমাণ আমার কাছে নেই। যতক্ষণ না আমি ব্যক্তিগতভাবে তার সঙ্গে কথা বলতে পারছি বা কোনো স্বাধীন সংস্থা তার শারীরিক অবস্থা যাচাই করতে পারছে, ততক্ষণ জান্তার কোনো তথ্যই বিশ্বাস করব না।”
২০২১ সালে এক রক্তক্ষয়ী সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে ক্ষমতা দখল করেন জেনারেল মিন অং হ্লাইং। সেই সময় থেকেই সু চিকে গ্রেফতার করে রাখা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে উসকানি, দুর্নীতি, নির্বাচনে জালিয়াতি এবং রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা আইন ভঙ্গের মতো একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে, যার ভিত্তিতে তিনি দীর্ঘমেয়াদী কারাদণ্ড ভোগ করছেন। তবে আন্তর্জাতিক মহল এবং সু চি’র সমর্থকরা শুরু থেকেই এই অভিযোগগুলোকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে দাবি করে আসছেন।
শান্তিতে নোবেলজয়ী এই নেত্রীর স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশ্লেষকদের মতে, জান্তা সরকার আন্তর্জাতিক চাপ কমাতে এবং দেশের ভেতরে চলমান সশস্ত্র বিদ্রোহের মুখে জনমতকে শান্ত করতে সু চিকে নিয়ে এমন কৌশল অবলম্বন করতে পারে।
উপসংহার: মিয়ানমারের এই নেত্রীর বর্তমান অবস্থান এবং শারীরিক অবস্থা নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা কাটেনি। জান্তা সরকারের ঘোষণার সত্যতা যাচাই করতে এখন প্রয়োজন নিরপেক্ষ আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ। কিম অ্যারিসের দাবি অনুযায়ী, জান্তা যদি সত্যিই স্বচ্ছতা চায়, তবে সু চিকে তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ দেওয়া এখন সময়ের দাবি।
তথ্যসূত্র: বিবিসি, এপি এবং মিয়ানমার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ডসিয়ার।
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
সম্পাদনায়: নিউজ ডেস্ক
বিস্তারিত তথ্যের জন্য:
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |