ঢাকা, ১৬ এপ্রিল:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তাপ বাড়ছে। নির্বাচনকালীন সময়সীমা নিয়ে কোনো ‘সুনির্দিষ্ট রূপরেখা’ না পাওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছে দেশের অন্যতম প্রধান বিরোধী রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। আজ বুধবার দুপুরে যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠকের পর সংবাদ সম্মেলনে এই অসন্তোষের কথা জানান বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বিএনপি দীর্ঘদিন ধরেই নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের দাবি জানিয়ে আসছে। দলটির অভিযোগ, বর্তমান সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। এ দাবির পরিপ্রেক্ষিতেই আজকের বৈঠকে বিএনপি নেতারা প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে বসেন।
বিএনপির সাত সদস্যের প্রতিনিধি দলে ছিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ এবং ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। দুপুর ১২টার দিকে প্রতিনিধি দলটি যমুনায় পৌঁছে এবং দীর্ঘসময় ধরে আলোচনায় অংশ নেয়।
সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল বলেন, “আমরা প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে একটি ফলপ্রসূ আলোচনা করতে চেয়েছিলাম, যেখানে নির্বাচন নিয়ে একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ থাকবে। কিন্তু আজকের বৈঠকে তিনি নির্বাচনের নির্দিষ্ট সময়সীমা দেননি। তিনি শুধু বলেছেন, নির্বাচন আগামী ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে জুন ২০২৬ সময়কালের মধ্যে অনুষ্ঠিত হতে পারে।”
এমন অস্পষ্ট সময়সীমাকে ‘অপর্যাপ্ত’ এবং ‘চিন্তাজনক’ বলে আখ্যায়িত করেন বিএনপি মহাসচিব। তিনি বলেন, “বিএনপি মনে করে, সময়মতো, অর্থাৎ ডিসেম্বর ২০২৫ এর মধ্যেই জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া জরুরি। অন্যথায় দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যেতে পারে, যা ভবিষ্যতে নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে উঠবে।”
বিএনপি বিগত কয়েক মাস ধরেই নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন ও একটি নির্দিষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণার দাবি জানিয়ে আসছিল। দলটি মনে করে, এই রোডম্যাপ রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আস্থা তৈরি করবে এবং নির্বাচন ঘিরে যে অনিশ্চয়তা ও সংকট তৈরি হয়েছে, তা নিরসনে ভূমিকা রাখবে।
আজকের বৈঠকে সেই রোডম্যাপ না পাওয়ায় দলটি হতাশ। বিএনপি মনে করে, নির্বাচন কমিশনের পাশাপাশি প্রধান উপদেষ্টার ভূমিকাও এই সংকট নিরসনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিএনপির নেতারা ইঙ্গিত দিয়েছেন, দাবি না মানা হলে দলটি আবারো রাজপথে নামতে পারে। তবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যদি নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে ঐকমত্য না হয়, তবে সামনে কঠিন সময়ের মুখোমুখি হতে পারে বাংলাদেশ।
একজন জ্যেষ্ঠ রাজনৈতিক বিশ্লেষক বলেন, “বর্তমানে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংলাপ ও সমঝোতা ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প নেই। নির্বাচনের সময় নিয়ে দ্বিধা-দ্বন্দ্ব থাকলে নির্বাচনী পরিবেশ নষ্ট হবে, এবং সাধারণ মানুষের আস্থা হারাবে পুরো প্রক্রিয়াটি।
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |