ড. ইউনূসের নেতৃত্বে সুষ্ঠু নির্বাচন হলে ব্যর্থতার দায় তাঁর: জয়নুল আবেদিন ফারুক
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
প্রকাশের তারিখ: ৭ আগস্ট ২০২৫
সংবাদ উৎস: যুগান্তর
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবেদিন ফারুক বলেছেন, “শাহাবুদ্দিনের আমলের চেয়েও ভালোভাবে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন যদি ড. ইউনূস করতে না পারেন, তবে সেই ব্যর্থতা তার ওপরই আসবে।”
তিনি এই মন্তব্যটি করেন রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে অনুষ্ঠিত ‘জুলাই ঘোষণাপত্র ও জাতীয় নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা: অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনই আমাদের প্রত্যাশা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতাকালে।
জয়নুল আবেদিন ফারুক বলেন, “নির্বাচন নিয়ে আমি সন্তুষ্ট, তবে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা হলে আমি আরও খুশি হবো।” নির্বাচনে ‘অতীতের কলঙ্কিত’ কর্মকর্তাদের বাদ দেওয়ার দাবি জানিয়ে ফারুক বলেন, “আমি প্রস্তাব করছি, অতীতের নির্বাচনে যারা জড়িত ছিলেন তাদের নাম যেন পুলিশ বিভাগে লটারির মাধ্যমে এসপি ও ওসি বদলির প্রক্রিয়ায় না আসে। যাদের কারণে গণতন্ত্র হত্যা হয়েছে, তাদের যেন আগামী ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে কোনো দায়িত্ব না দেওয়া হয়।”
ফারুক বলেন, “যারা হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি চালানোর নির্দেশ দিয়েছিল, সেসব কর্মকর্তার এখনও পুলিশে থাকা উচিত কি না, তা খতিয়ে দেখতে হবে।” তিনি অতীতের নির্বাচনগুলো, বিশেষত ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪ সালের নির্বাচনের প্রসঙ্গ তুলে, সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের দায়িত্ব থেকে অপসারণের দাবি জানান। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, যারা গণতন্ত্রকে হত্যা করেছে এবং দেশে কলঙ্ক সৃষ্টি করেছে, তাদের নাম পুলিশের বদলির তালিকা থেকে বাদ দেওয়া উচিত।
বক্তৃতায় ব্যক্তিগত জীবনের এক মর্মান্তিক স্মৃতি তুলে ধরেন ফারুক। তিনি জানান, ২০০৮ সালে কারাগারে থাকাকালীন তার মা মারা যান, কিন্তু প্যারোলে মুক্তি না পাওয়ায় তিনি তার মায়ের শেষ দেখা দেখতে পারেননি। তিনি তার প্রয়াত বন্ধু শাহজাহান সিরাজের একটি উক্তি স্মরণ করে বলেন, “রাজনীতিতে টিকে থাকতে হলে অনেক কিছু হারাতে হয় এবং সবকিছু ভুলে যেতে হয়।”
ফারুক আরও বলেন, “শেখ মুজিবুর রহমান যুদ্ধ দেখেননি, বুদ্ধিজীবী হত্যার কান্নাও দেখেননি। তার উচিত ছিল জ্ঞানী ও গুণীজনদের দিয়ে দেশ পরিচালনা করা।” তিনি আরও বলেন, “রাজনীতি ব্যক্তিগত সম্পদ নয়, এটি জনগণের সম্পদ। বাংলাদেশের সৎ রাজনীতির প্রচলন করেছিলেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, এবং খালেদা জিয়া হচ্ছেন আপসহীন নেত্রী।”
স্বৈরশাসক হাসিনা সম্পর্কে ফারুক বলেন, “যদি তিনি দেশে গণতন্ত্রকে ধ্বংস না করতেন, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো নষ্ট না করতেন এবং বেগম জিয়াকে মিথ্যা মামলায় সাজা না দিতেন, তবে হয়তো আজ তাকে পালিয়ে যেতে হতো না।”
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স কাউন্সিলের সভাপতি আলী আশরাফ আকন্দ এবং প্রধান আলোচকের বক্তৃতা করেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব।
যুগান্তর পত্রিকার রিপোর্ট (৭ আগস্ট ২০২৫)
বিএনপি চেয়ারপারসনের বক্তৃতা, জাতীয় প্রেস ক্লাব
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস সংকলন (১৯৫০–২০২৩), বাংলা একাডেমি
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |