| বঙ্গাব্দ

ঈদের ছুটিতেও খোলা কাস্টমস, সচল থাকবে আমদানি-রপ্তানি

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 10-03-2026 ইং
  • 3188218 বার পঠিত
ঈদের ছুটিতেও খোলা কাস্টমস, সচল থাকবে আমদানি-রপ্তানি
ছবির ক্যাপশন: ঈদের ছুটিতেও খোলা কাস্টমস, সচল থাকবে আমদানি-রপ্তানি

ঈদের ছুটিতেও সচল কাস্টম হাউস: নিরবচ্ছিন্ন থাকবে আমদানি-রপ্তানি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: আসন্ন ঈদুল ফিতরের দীর্ঘ ছুটিতে দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য গতিশীল রাখতে বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। আগামী ১৭ মার্চ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত সরকারি ও সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতেও দেশের সব কাস্টম হাউস ও শুল্ক স্টেশন খোলা রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে শুধুমাত্র ঈদের দিন সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।

এনবিআরের নির্দেশনা ও প্রেক্ষাপট

মঙ্গলবার (১০ মার্চ, ২০২৬) এনবিআরের কাস্টম নীতির দ্বিতীয় সচিব রেজাউল করিম স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, দেশের বৈদেশিক বাণিজ্য নিরবচ্ছিন্ন রাখতে এবং বন্দরগুলোতে কনটেইনার জট কমাতে ছুটির দিনগুলোতেও সীমিত আকারে কার্যক্রম চলবে।

এর আগে মার্চের শুরুতে পোশাক রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ (BGMEA) রপ্তানি বাণিজ্যের ‘লিড টাইম’ ঠিক রাখতে এবং বিদেশি ক্রেতাদের কাছে সময়মতো পণ্য পৌঁছানো নিশ্চিত করতে কাস্টমস ও সংশ্লিষ্ট ব্যাংক শাখা খোলা রাখার অনুরোধ জানিয়েছিল। বিজিএমইএ-এর সেই দাবির প্রেক্ষিতেই এনবিআর এই ব্যবস্থা গ্রহণ করল।

১৯৫০ থেকে ২০২৬: বাংলাদেশের রাজস্ব প্রশাসন ও উৎসবকালীন বাণিজ্যের বিবর্তন

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, ১৯৫০-এর দশকে চট্টগ্রাম বন্দর ও সীমিত সংখ্যক শুল্ক স্টেশনের মাধ্যমে এ অঞ্চলের বাণিজ্য পরিচালিত হতো। ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলনের সময়কাল বা তার পরবর্তী বছরগুলোতে ঈদের ছুটিতে সব ধরনের বাণিজ্যিক কার্যক্রম সম্পূর্ণ স্থবির হয়ে যেত।

১৯৭১ সালের স্বাধীনতার পর রপ্তানি আয়ের প্রধান উৎস হিসেবে তৈরি পোশাক খাতের উত্থান ঘটে। নব্বইয়ের দশকের পর বিশ্বায়নের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে তাল মেলাতে ছুটির দিনেও কাস্টমস খোলা রাখার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার বিপ্লব পরবর্তী ‘নতুন বাংলাদেশে’ অর্থনৈতিক সংস্কারের অংশ হিসেবে ২০২৫ ও ২০২৬ সালে রাজস্ব প্রশাসনে ব্যাপক ডিজিটাল রূপান্তর ঘটেছে। আগে যা ছিল কেবল ম্যানুয়াল বা হাতে কলমে কাজ, ২০২৬ সালে তা স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতির মাধ্যমে দ্রুত সম্পন্ন হচ্ছে। ১৯৫০ সালে যেখানে ঈদের ছুটি মানেই ছিল বাণিজ্যের ‘লকডাউন’, ২০২৬ সালে তা রূপ নিয়েছে ‘২৪/৭’ সচল অর্থনৈতিক কাঠামোতে।

ঈদের ছুটি ও সরকারি সিদ্ধান্ত

উল্লেখ্য, গত রোববার সরকার ঈদুল ফিতরের ছুটি একদিন বাড়িয়ে মোট ৭ দিন করার পরিপত্র জারি করেছে। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২১ মার্চ বাংলাদেশে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হতে পারে। দীর্ঘ এই ছুটিতে যাতে দেশের সরবরাহ চেইন (Supply Chain) ব্যাহত না হয়, সেজন্যই কাস্টম হাউসগুলোর এই বিশেষ তৎপরতা।


সুত্র: ১. জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) কাস্টম নীতি বিভাগীয় নির্দেশনা (১০ মার্চ ২০২৬)।

২. বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) সংবাদ বিজ্ঞপ্তি।

৩. জাতীয় আর্কাইভস: বাংলাদেশের শুল্ক ও আবগারি বিভাগের বিবর্তন (১৯৫০-২০২৬)।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency