প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: ১৯০০ সালের গোড়ার দিক থেকে শুরু করে ২০২৪-এর বিপ্লব পর্যন্ত বাংলাদেশের ইসলামি ঘরানার রাজনীতিতে শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ ছিল একটি বিতর্কিত বিষয়। তবে ২০২৬ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারির প্রথম প্রহরে সকল প্রথা ও বিতর্ককে ছাপিয়ে এক ঐতিহাসিক নজির গড়লেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। ১১-দলীয় জোটের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে তিনি প্রমাণ করলেন যে, ২০২৬ সালের এই নতুন বাংলাদেশে "রাষ্ট্রাচার" বা রাষ্ট্রীয় প্রটোকল এখন ধর্মীয় ব্যাখ্যার ঊর্ধ্বে।
বিংশ শতাব্দীর শুরু থেকে আজ পর্যন্ত জামায়াতে ইসলামী ও সমমনা দলগুলোর মধ্যে একটি কঠোর অবস্থান ছিল যে, মিনারে বা প্রতিকৃতিতে ফুল দেওয়া ইসলাম পরিপন্থী। ১২৬ বছরের সেই দীর্ঘ অবস্থান থেকে সরে এসে ডা. শফিকুর রহমান আজ একে "রাষ্ট্রীয় আচার" হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাঁর সাথে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপি’র আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং সদস্যসচিব আখতার হোসেনের উপস্থিতি প্রমাণ করে যে, ২০২৪-এর বিপ্লব পরবর্তী বাংলাদেশে ধর্মীয় ও সেক্যুলার শক্তির মধ্যে একটি নতুন রাজনৈতিক সংহতি তৈরি হয়েছে।
ফুল দেওয়ার পর শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে মোনাজাত পরিচালনা করে ডা. শফিকুর রহমান একটি বার্তা দিতে চেয়েছেন—তিনি কেবল শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন না, বরং শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করছেন। এটি মূলত রক্ষণশীল সমর্থকদের ক্ষোভ প্রশমিত করার এবং উদারপন্থীদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পাওয়ার একটি দ্বিমুখী কৌশল। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তাঁর ক্ষোভ প্রকাশ এটিই ইঙ্গিত দেয় যে, অতীতের "নাজায়েজ" ফতোয়া থেকে বের হয়ে আসার এই প্রক্রিয়াটি দলের ভেতরে এবং বাইরে এখনও একটি সংবেদনশীল জায়গা।
সাক্ষাৎকারে ডা. শফিকুর রহমান কেবল ৫২-র ভাষা শহীদদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেননি। তিনি ১৯৪৭-এর দেশভাগ, ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ, ৯০-এর গণ-অভ্যুত্থান এবং সর্বশেষ ২০২৪-এর জুলাই বিপ্লবের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। বিশেষ করে ওসমান হাদির নাম উল্লেখ করার মাধ্যমে তিনি প্রমাণ করেছেন যে, জামায়াত বর্তমান প্রজন্মের বিপ্লবী চেতনার সাথে নিজেদের একীভূত করতে চায়। ১৯০০ সালের সেই ধর্মীয় সংস্কারের গণ্ডি পেরিয়ে জামায়াত এখন ফ্যাসিবাদমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত ও চাঁদাবাজমুক্ত দেশ গঠনের রাজনৈতিক এজেন্ডায় মনোযোগী।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জামায়াত আমিরের এই পদক্ষেপ তারেক রহমান সরকারের অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক দর্শনেরই একটি ফল। ১৯০০ সাল থেকে চলে আসা বিভাজনের রাজনীতির বদলে ২০২৬ সালে এসে আজ ছাত্রদল, জামায়াত ও এনসিপি একই সমান্তরালে দাঁড়িয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করছে। এটি একটি সুস্থ ও গণতান্ত্রিক পরিবেশের ইঙ্গিত দেয়, যেখানে আদর্শিক মতপার্থক্য থাকলেও রাষ্ট্রীয় দিবসগুলোয় সবাই ঐক্যবদ্ধ।
সূত্র: কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার হতে নিজস্ব প্রতিনিধির সংবাদ, ডা. শফিকুর রহমানের প্রেস ব্রিফিং এবং ২০২৬-এর সমসাময়িক রাজনৈতিক বিশ্লেষণ।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |