| বঙ্গাব্দ

বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা ও দাফন: ৩১ ডিসেম্বর বেলা ২টায় শেষ বিদায়।

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 30-12-2025 ইং
  • 2707038 বার পঠিত
বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা ও দাফন: ৩১ ডিসেম্বর বেলা ২টায় শেষ বিদায়।
ছবির ক্যাপশন: বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা ও দাফন

শেষ বিদায়ের প্রস্তুতি: সংসদ ভবনে জানাজা ও জিয়া উদ্যানে দাফন, শৃঙ্খলায় কঠোর বার্তা

প্রতিবেদক : বিডিএস বুলবুল আহমেদ

বাংলাদেশের রাজনীতির এক অপূরণীয় নক্ষত্র, তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মহাপ্রয়াণে সারা দেশে শোকের আবহ বিরাজ করছে। ১৯৫০-এর দশকে যে স্বাধিকার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে এ দেশের রাজনীতির ভিত্তি রচিত হয়েছিল, ২০২৫ সালের এই বিদায় লগ্নে এসে সেই ইতিহাসের এক বর্ণাঢ্য অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর ২০২৫) ভোরে তাঁর প্রয়াণের পর এখন দেশজুড়ে চলছে শেষ বিদায়ের প্রস্তুতি।

জানাজা ও দাফনের চূড়ান্ত সময়সূচি

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, আগামীকাল বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) জোহরের নামাজ শেষে দুপুর ২টায় জাতীয় সংসদ ভবন মাঠ ও মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ এলাকায় বেগম জিয়ার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। জানাজায় ইমামতি করবেন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি আবদুল মালেক। জানাজা শেষে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সংসদ ভবন সংলগ্ন জিয়া উদ্যানে স্বামী সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে তাঁকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হবে।

শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বিধিনিষেধ

জানাজা ও দাফন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং বিএনপির পক্ষ থেকে কড়া নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

  • জানাজায় অংশ নিতে আসা সাধারণ জনগণ কোনো ধরণের ব্যাগ বা ভারী সামগ্রী বহন করতে পারবেন না।

  • জানাজায় সর্বসাধারণের প্রবেশাধিকার থাকলেও দাফনের সময় জিয়া উদ্যান এলাকায় জনসাধারণের প্রবেশ সংরক্ষিত থাকবে।

  • মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ, ফার্মগেট এবং মিরপুর রোড এলাকায় ট্রাফিক ও নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

  • মরদেহবাহী গাড়ির নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকবে ১০ হাজার পুলিশ সদস্য।

শায়খ আহমাদুল্লাহর শোক ও আধ্যাত্মিক মহলে প্রতিক্রিয়া

বেগম জিয়ার মৃত্যুতে ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক মহলেও গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রখ্যাত ইসলামী ব্যক্তিত্ব শায়খ আহমাদুল্লাহ এক বার্তায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দেশবাসীকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান। ১৯৫০-এর পর থেকে বাংলাদেশের ধর্মীয় মূল্যবোধ ও জাতীয়তাবাদের বিকাশে খালেদা জিয়ার অবদান আলেম সমাজের কাছেও বিশেষভাবে সমাদৃত।

১৯৫০-২০২৫: এক কালজয়ী বিবর্তন

গুগল এনালাইসিস ও ঐতিহাসিক নথি বলছে, ১৯৫০-এর ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার বিপ্লব পর্যন্ত বাংলাদেশের প্রতিটি রাজনৈতিক টার্নিং পয়েন্টে খালেদা জিয়ার পরিবার বা তাঁর দলের প্রভাব ছিল অপরিসীম। ২০২৫ সালের এই নতুন বাংলাদেশে তাঁর প্রয়াণকে একটি যুগের অবসান হিসেবে দেখা হচ্ছে। চীন, ভারত, পাকিস্তানসহ বিশ্বনেতাদের শোকবার্তা প্রমাণ করে যে, তিনি কেবল দেশের অভ্যন্তরীণ নেত্রী ছিলেন না, বরং আন্তর্জাতিক রাজনীতিতেও ছিলেন এক প্রভাবশালী কণ্ঠস্বর।

বিজিএমইএ-র ছুটি ও অর্থনৈতিক শোক

রাষ্ট্রীয় ৩ দিনের শোকের অংশ হিসেবে বিজিএমইএ আগামীকাল বুধবার দেশের সকল পোশাক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে। বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, "দেশ একজন অভিভাবক হারালো।" নব্বইয়ের দশকের শুরুতে তাঁর সাহসী পদক্ষেপে শুরু হওয়া মুক্তবাজার অর্থনীতিই আজ বাংলাদেশের পোশাক শিল্পকে বিশ্বদরবারে শীর্ষে নিয়ে গেছে।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, "শোককে শক্তিতে রূপান্তর করতে হবে এবং শেষ বিদায়ের সময় সর্বোচ্চ শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে।" আগামীকাল বিকেলেই লাল-সবুজের পতাকায় মোড়ানো কফিনে চিরনিদ্রায় শায়িত হবেন এ দেশের গণমানুষের প্রিয় 'দেশনেত্রী'।


তথ্যসূত্র: ১. বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ব্রিফিং (৩০ ডিসেম্বর ২০২৫)। ২. ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিরাপত্তা নির্দেশনা। ৩. শায়খ আহমাদুল্লাহর আনুষ্ঠানিক শোকবার্তা ও গুগল নিউজ আন্তর্জাতিক আর্কাইভ।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency