| বঙ্গাব্দ

এশিয়ান কাপে প্রতিবাদ: ইরানি নারী ফুটবলারদের জীবন নিয়ে শঙ্কা | বাংলাদেশ প্রতিদিন

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 07-03-2026 ইং
  • 1763372 বার পঠিত
এশিয়ান কাপে প্রতিবাদ: ইরানি নারী ফুটবলারদের জীবন নিয়ে শঙ্কা | বাংলাদেশ প্রতিদিন
ছবির ক্যাপশন: এশিয়ান কাপে প্রতিবাদ: ইরানি নারী ফুটবলারদের জীবন নিয়ে শঙ্কা

এশিয়ান কাপে প্রতিবাদের ঝড়: ফুটবল মাঠ থেকে ইরানি নারী ফুটবলারদের জীবন এখন শঙ্কার মুখে

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

গোল্ড কোস্ট, অস্ট্রেলিয়া: মাঠের লড়াই ছাপিয়ে এখন আলোচনার তুঙ্গে ইরানের নারী জাতীয় ফুটবল দলের সদস্যদের নিরাপত্তা। এশিয়ান কাপের শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে অংশ নিতে অস্ট্রেলিয়ায় থাকা এই ফুটবলাররা এখন নিজ দেশে ফিরলে ‘রাষ্ট্রদ্রোহ’ ও ‘মৃত্যুদণ্ডের’ আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন। গত ২ মার্চ দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের আগে জাতীয় সঙ্গীত না গেয়ে নীরব প্রতিবাদ জানানোর পর থেকেই শুরু হয়েছে এই অস্থিরতা।

প্রতিবাদ ও সুরবদল: পর্দার আড়ালে কী ঘটছে?

২ মার্চের সেই নীরব প্রতিবাদের পর ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যম ও কট্টরপন্থীরা খেলোয়াড়দের ওপর চড়াও হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, কট্টরপন্থী ধারাভাষ্যকার মোহাম্মদ রেজা শাহবাজি খেলোয়াড়দের ‘জাতীয় বেইমান’ ও ‘যুদ্ধকালীন বিশ্বাসঘাতক’ হিসেবে অভিহিত করে কঠোর শাস্তির দাবি তুলেছেন।

চাপের মুখে গত বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের আগে খেলোয়াড়রা জাতীয় সঙ্গীত গেয়েছেন এবং স্যালুট দিয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, দেশে থাকা পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই তারা এই অবস্থান বদলে বাধ্য হয়েছেন। জার্মান ভিত্তিক ইরানি সাংবাদিক আলী বোরনাই সতর্ক করে বলেছেন, ইরানে রাষ্ট্রদ্রোহ একটি মৃত্যুদণ্ডযোগ্য অপরাধ। এই অ্যাথলেটরা দেশে ফিরলে নির্বিচারে আটক বা চরম পরিণতির শিকার হতে পারেন।

১৯৫০ থেকে ২০২৫: ইরান ও বাংলাদেশের রাজনৈতিক সমান্তরাল রেখা

ইতিহাসের পাতায় তাকালে দেখা যায়, ১৯৫০-এর দশকে ইরান ও বাংলাদেশ (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান) উভয় দেশই উত্তাল ছিল। ১৯৫১-৫৩ সালে ইরানে মোহাম্মদ মোসাদ্দেকের নেতৃত্বে তেল জাতীয়করণ আন্দোলন এবং ১৯৫২ সালে বাংলাদেশে ভাষা আন্দোলন—উভয়ই ছিল নিজ অধিকার ও আত্মপরিচয় রক্ষার লড়াই।

১৯৭৯ সালের ইরানি বিপ্লব দেশটির শাসনব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনে। ঠিক একইভাবে, বাংলাদেশেও ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধ এবং পরবর্তী সময়ে ১৯৯০ ও ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান জনগণের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার লড়াইকে ত্বরান্বিত করেছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে যেমন ফ্যাসিবাদের পতন ঘটেছে, তেমনি ইরানি নারীরাও ‘নারী, জীবন, স্বাধীনতা’ (Woman, Life, Freedom) স্লোগানে দীর্ঘ সময় ধরে আন্দোলন করে আসছেন। ২০২৫ সালের বর্তমান প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে ইরানের ফুটবলারদের এই প্রতিবাদ বিশ্বজুড়ে শোষিত মানুষের সংহতির প্রতীকে পরিণত হয়েছে।

অস্ট্রেলিয়া সরকারের অবস্থান ও আন্তর্জাতিক উদ্বেগ

অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওয়াং এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, তারা নিপীড়নের বিরুদ্ধে ইরানের সাহসী মানুষের পাশে আছেন। তবে মানবিক ভিসা বা রাজনৈতিক আশ্রয়ের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী ব্যক্তিগতভাবে আবেদন না করলে অস্ট্রেলিয়া সরাসরি পদক্ষেপ নিতে পারে না।

অস্ট্রেলিয়ার রিফিউজি কাউন্সিলের প্রধান নির্বাহী পল পাওয়ার বলেন, "শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের কারণে ইরানে অতীতেও অনেক অ্যাথলেটকে চরম মূল্য দিতে হয়েছে। এই নারী ফুটবলাররা দেশে ফিরলে নিশ্চিতভাবেই ঝুঁকির মুখে পড়বেন।"

কোয়ার্টার ফাইনালের স্বপ্ন ও জীবন বাঁচানোর লড়াই

আগামী রোববার (৮ মার্চ) ফিলিপাইনের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে মাঠে নামবে ইরান। বড় ব্যবধানে জিতলে তারা কোয়ার্টার ফাইনালে যাওয়ার সুযোগ পাবেন। এতে করে অস্ট্রেলিয়ায় তাদের অবস্থানের মেয়াদ কিছুটা দীর্ঘায়িত হবে, যা তাদের পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য সময় দেবে। মাঠের লড়াইয়ে জেতার চেয়েও এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে নিজেদের জীবন রক্ষা করা।


সূত্র: ১. উয়েফা ও এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (AFC) মিডিয়া রিপোর্ট। ২. অস্ট্রেলিয়া সরকারের পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য বিষয়ক মন্ত্রণালয় (DFAT) বিবৃতি। ৩. আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা (আল জাজিরা ও সিএনএন) এবং গুগল পলিটিক্যাল এনালাইসিস।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency