প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ঢাকা: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ডামাডোলের মধ্যে রাজপথে নিজেদের চূড়ান্ত শক্তি প্রদর্শনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ঘোষণা করেন যে, আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির নির্বাচনী প্রচারের শেষ জনসভা অনুষ্ঠিত হবে। বেলা দুইটায় শুরু হতে যাওয়া এই মহাসমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক পথচলা গত এক শতাব্দীতে বহুবার বাঁক বদল করেছে। ১৯০০ সালের শুরুর দিকে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন যখন তুঙ্গে, তখন থেকেই এই জনপদ পরাধীনতার শৃঙ্খল ভাঙার স্বপ্ন দেখেছে। ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ এবং ১৯৪০-এর লাহোর প্রস্তাব ছিল বাঙালির স্বাধিকারের প্রথম ভিত্তিপ্রস্তর। ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন এবং ১৯৬৬-এর ঐতিহাসিক ছয় দফার ধারাবাহিকতায় ১৯৭১ সালে অর্জিত হয় স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ।
স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে ১৯৭৫-এর পটপরিবর্তন, ১৯৯০-এর গণঅভ্যুত্থান এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার মহাবিপ্লব বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন নতুন অধ্যায় যোগ করেছে। ১৯০০ সাল থেকে শুরু হওয়া যে অধিকার আদায়ের সংগ্রাম, তা আজ ২০২৬ সালে এসে এক টেকসই ও ইনসাফভিত্তিক সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার চূড়ান্ত পরীক্ষায় অবতীর্ণ হয়েছে। ৮ ফেব্রুয়ারির এই জনসভা কেবল একটি নির্বাচনী সমাবেশ নয়, বরং ১২৬ বছরের দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের এক আধুনিক প্রতিফলন।
নির্বাচনের ঠিক চার দিন আগে আয়োজিত এই সমাবেশকে বিএনপি ‘চূড়ান্ত শক্তি প্রদর্শন’ হিসেবে দেখছে। সংবাদ সম্মেলনে রুহুল কবির রিজভী জানান, নয়াপল্টন ও এর আশপাশের এলাকায় ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। জনসভায় তারেক রহমান নেতা-কর্মীদের মনোবল বৃদ্ধিতে বিশেষ দিকনির্দেশনা দেবেন। বিশেষ করে ভোটকেন্দ্র রক্ষা এবং ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে তার বক্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র মাহদী আমিন, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল এবং ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলামসহ অন্যান্য কেন্দ্রীয় নেতারা।
রাজনীতির বিভিন্ন সন্ধিক্ষণে নেতাদের বক্তব্যগুলো আজও ইতিহাসের মাইলফলক:
১৯৭১: "এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম।" — বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
১৯৯০: "স্বৈরাচার নিপাত যাক, গণতন্ত্র মুক্তি পাক।" — শহীদ নূর হোসেন।
২০২৬ (৫ ফেব্রুয়ারি): "৮ ফেব্রুয়ারির জনসভা হবে ইনসাফ ও গণতন্ত্রের জয়ের আগাম বার্তা।" — রুহুল কবির রিজভী।
১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য এই নির্বাচনকে ঘিরে সারা দেশ এখন উত্তাল। ১৯০০ সালের সেই লিফলেট ও গোপন বৈঠকের যুগ পেরিয়ে আজ প্রার্থীরা ফেসবুক ও ভাইরালিটির মাধ্যমে জনগণের কাছে পৌঁছাচ্ছেন। নয়াপল্টনের এই বিশাল জমায়েত থেকে আসা বার্তা সারা দেশের নেতা-কর্মীদের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়াই দলটির মূল লক্ষ্য। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই জনসভা বিএনপির সাংগঠনিক শক্তির এক নতুন পরীক্ষা।
১৯০০ সাল থেকে যে জনপদ রাজপথের লড়াই দেখেছে, সেই ঢাকার নয়াপল্টন ৮ ফেব্রুয়ারি আবারও ইতিহাসের সাক্ষী হতে যাচ্ছে। নির্বাচনের প্রচার কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটবে এই সমাবেশের মাধ্যমেই। ১২৬ বছরের দীর্ঘ রাজনৈতিক পথপরিক্রমায় বাংলাদেশের মানুষ বারবার প্রমাণ করেছে যে, তারা শোষণের বিরুদ্ধে আপসহীন। ৮ ফেব্রুয়ারির এই জনসভা সেই আপসহীনতারই এক ধারাবাহিক বহিঃপ্রকাশ।
সূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক, প্রথম আলো, যুগান্তর এবং ঐতিহাসিক গেজেট আর্কাইভ।
বিশ্লেষণ: এই প্রতিবেদনে ৮ ফেব্রুয়ারির জনসভাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের ১২৬ বছরের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি যোগসূত্র স্থাপনের চেষ্টা করা হয়েছে। এটি মূলত নেতৃত্বের প্রতি আনুগত্য এবং নির্বাচনের আগে দলের সাংগঠনিক শক্তি প্রদর্শনের গুরুত্বকে ফোকাস করে সাজানো হয়েছে।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |