আপনার দেওয়া ‘জুলাই সনদ’ ও ২০২৬ সালের গণভোট সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্যের সাথে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট মিলিয়ে ‘বাংলাদেশ প্রতিদিন’ ওয়েবসাইটের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ ও পেশাদার প্রতিবেদন নিচে দেওয়া হলো:
প্রতিবেদক : বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ঢাকা: বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে যাচ্ছে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬। একই দিনে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং রাষ্ট্র সংস্কারের রূপরেখা ‘জুলাই জাতীয় সনদ-২০২৫’ অনুমোদনের ঐতিহাসিক গণভোট। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এই গণভোটের মাধ্যমে জনগণের প্রত্যক্ষ ম্যান্ডেট নিয়ে সংবিধান আমূল পরিবর্তনের পথে এগোচ্ছে।
রোববার (১১ জানুয়ারি ২০২৬) অন্তর্বর্তী সরকার গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের সমর্থনে একটি নতুন পোস্টার প্রকাশ করেছে। এতে স্লোগান দেওয়া হয়েছে—“গণভোট ২০২৬: আমাদের সবার স্বপ্নের বাংলাদেশ বাস্তবে গড়ার জন্য ‘হ্যাঁ’-তে সিল দিন।” প্রচারণার অংশ হিসেবে দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পোশাক কারখানা এবং ধর্মীয় উপাসনালয়ে বিশেষ ক্যাম্পেইনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। জুমার খুতবায় গণতন্ত্র ও রাষ্ট্র সংস্কারের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি এনজিওগুলোকেও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।
ভোটাররা ব্যালট পেপারে একটি মাত্র ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোটের মাধ্যমে নিচের চারটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবনায় মতামত দেবেন:
১. সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন: নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন ও অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান ‘জুলাই সনদ’ অনুযায়ী গঠিত হবে। ২. দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদ: ১০০ সদস্যের উচ্চকক্ষ গঠিত হবে প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যানুপাতে। সংবিধান সংশোধনে এই উচ্চকক্ষের অনুমোদন বাধ্যতামূলক হবে। ৩. ৩০ দফার সংস্কার বাস্তবায়ন: প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদের সীমাবদ্ধতা (সর্বোচ্চ দুই মেয়াদ), বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা এবং বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের মতো ৩০টি সংস্কার প্রস্তাবে বিজয়ী দলগুলো বাধ্য থাকবে। ৪. জুলাই সনদের পূর্ণ বাস্তবায়ন: রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সনদে বর্ণিত অন্যান্য সকল সংস্কার সম্পন্ন করা।
বাংলাদেশের শাসনতান্ত্রিক বিবর্তন বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ১৯০০ সালের গোড়ার দিকে ব্রিটিশ কাউন্সিল অ্যাক্ট থেকে শুরু করে ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইন পর্যন্ত ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণের লড়াই চলেছে। ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে বাঙালির যে আকাঙ্ক্ষা ছিল, তা ১৯৭১ সালের স্বাধীনতার মাধ্যমে পূর্ণতা পায়।
তবে ১৯৭৩ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বারবার সংবিধান সংশোধন করে ক্ষমতাকে এককেন্দ্রিক করার চেষ্টা হয়েছে। বিশেষ করে গত ১৫ বছরের স্বৈরাচারী শাসন ব্যবস্থার প্রেক্ষাপটে ‘জুলাই সনদ-২০২৫’ এবং ২০২৬ সালের এই গণভোটকে দেখা হচ্ছে রাষ্ট্র মেরামতের চূড়ান্ত হাতিয়ার হিসেবে। ১৯০০ সালের পর থেকে গত ১২৬ বছরের ইতিহাসে এটিই প্রথম এমন গণভোট, যেখানে সরাসরি জনগণের সম্মতিতে সংসদীয় কাঠামো পরিবর্তনের (এককক্ষ থেকে দ্বিকক্ষ) প্রস্তাব করা হয়েছে।
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত হলে ত্রয়োদশ সংসদে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠিত হবে। সংসদ সদস্যরা প্রথম অধিবেশন থেকে পরবর্তী ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে সংবিধান সংশোধন করবেন। এরপর প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যানুপাতে উচ্চকক্ষ গঠন করা হবে, যার মেয়াদ থাকবে নিম্নকক্ষের শেষ দিন পর্যন্ত।
সূত্র: ১. মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় (জুলাই জাতীয় সনদ গেজেট ২০২৫)। ২. বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন (গণভোট সংক্রান্ত পরিপত্র-১, ২০২৬)। ৩. সংবিধান সংস্কার কমিশন প্রতিবেদন (প্রফেসর আলী রীয়াজ কমিটি, ২০২৫)।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |