| বঙ্গাব্দ

বিএনপির চেয়ে এগিয়ে জামায়াত-এনসিপি জোট: ইইউকে জানালেন নাহিদ ইসলাম

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 10-01-2026 ইং
  • 2653716 বার পঠিত
বিএনপির চেয়ে এগিয়ে জামায়াত-এনসিপি জোট: ইইউকে জানালেন নাহিদ ইসলাম
ছবির ক্যাপশন: নাহিদ ইসলাম

বিএনপির চেয়ে নির্বাচনি প্রস্তুতিতে এগিয়ে জামায়াত-এনসিপি জোট: ইইউ প্রতিনিধিদের কাছে নাহিদ ইসলামের দাবি

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে জোট ও পাল্টা জোটের হিসাব-নিকাশ এখন তুঙ্গে। এরই মধ্যে নতুন সমীকরণ নিয়ে মাঠে নামা জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর জোট প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির চেয়ে নির্বাচনি প্রস্তুতিতে অনেক এগিয়ে রয়েছে বলে দাবি করেছেন এনসিপির আহ্বায়ক ও ঢাকা-১১ আসনের প্রার্থী নাহিদ ইসলাম।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে বৈঠক ও উদ্বেগের চিত্র

শনিবার (১০ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নির্বাচন পর্যবেক্ষণ প্রতিনিধি দলের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। নাহিদ ইসলাম বলেন, "আমরা ইইউ প্রতিনিধি দলকে জানিয়েছি যে, মাঠপর্যায়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে এখনও লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিয়ে সংশয় রয়েছে। প্রশাসন ও গণমাধ্যমের একটি বড় অংশ এখনও একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলকে সুবিধা পাইয়ে দিতে ‘সিগন্যালিং’ করছে।" তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, ঋণখেলাপি হওয়া সত্ত্বেও অনেকের মনোনয়নপত্র বৈধ করা হয়েছে, যা নির্বাচনি আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এ সময় তিনি ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির খুনিদের বিচার না হওয়ায় নিরাপত্তাহীনতার কথা উল্লেখ করে বলেন, "এমন ভীতিকর পরিস্থিতির মধ্যেও আমরা মাঠ ছাড়ব না।"

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: ১৯০০ থেকে ২০২৬

বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে জোটবদ্ধ আন্দোলন ও নির্বাচনের প্রভাব সুদূরপ্রসারী।

  • ১৯০৬-১৯৪৭: ১৯০৬ সালে নিখিল ভারত মুসলিম লীগের গঠন থেকে শুরু করে ১৯৪৭-এর দেশভাগ পর্যন্ত প্রতিটি পর্যায়ে রাজনৈতিক মেরুকরণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

  • ১৯৭১ ও তৎপরবর্তী: ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের পর দেশের রাজনীতিতে ডান ও বাম পন্থী দলগুলোর অবস্থান বারবার পরিবর্তিত হয়েছে। ১৯৯১ ও ২০০১ সালের নির্বাচনে জোটবদ্ধ রাজনীতি জয়ের মূল চাবিকাঠি হিসেবে প্রমাণিত হয়েছিল।

  • ২০২৪-২৬: ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার বিপ্লবের পর দেশে ‘নতুন রাজনীতি’র সূচনা হয়। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সংস্কার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই নির্বাচনে ছাত্রনেতৃত্বাধীন এনসিপি এবং সুশৃঙ্খল দল হিসেবে পরিচিত জামায়াতে ইসলামীর এই জোটকে বিশ্লেষকরা একটি বড় শক্তি হিসেবে দেখছেন।

জোট বনাম জোট: ভোটের মাঠের লড়াই

নাহিদ ইসলাম দাবি করেন, বিএনপি এখনও নিজেদের অভ্যন্তরীণ আসন বিন্যাস ও বিদ্রোহী প্রার্থী সামলাতে ব্যস্ত থাকলেও জামায়াত ও এনসিপির জোট ইতিমধ্যে তৃণমূল পর্যায়ে প্রচারণায় অনেকদূর এগিয়ে গেছে। বিশেষ করে ‘শাপলা কলি’ ও ‘দাঁড়িপাল্লা’ (বা জোটগত প্রতীক) নিয়ে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাওয়ার প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে তারা। তবে এনসিপির ভেতরে জামায়াতের সাথে জোট করা নিয়ে কিছু কেন্দ্রীয় নেতার পদত্যাগের ঘটনা জোটের সংহতিকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।

অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, আজ ১০ জানুয়ারি আপিল নিষ্পত্তির প্রথম দিনে সারা দেশে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে তীব্র তৎপরতা দেখা গেছে। ঢাকা-১১ আসনে নাহিদ ইসলামের প্রার্থিতা বৈধ হওয়ার পর তিনি এখন রাজধানীর বাড্ডা-রামপুরা এলাকায় বড় ধরনের শোডাউনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।


সূত্র: ১. ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU) নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন ঢাকা প্রেস ব্রিফিং - ১০ জানুয়ারি ২০২৬। ২. বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন (ইসি) ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়, ঢাকা। ৩. বিএসএস (BSS) ও জাতীয় সংবাদ সংস্থা প্রতিবেদন।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency