নিজস্ব প্রতিবেদক, ঠাকুরগাঁও: উত্তরবঙ্গের জনপদ ঠাকুরগাঁওয়ে দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষে এক নতুন অধ্যায় শুরু হলো। সদর উপজেলার রহিমানপুর ইউনিয়নে সরকারি বিশেষ পাইলট প্রকল্প ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১০ মার্চ, ২০২৬) সকালে রহিমানপুর সম্মিলিত ঈদগাঁ আলীম মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে এই কার্যক্রমের সূচনা হয়।
এলজিআরডি মন্ত্রী এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই মানবিক প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ঠাকুরগাঁও-২ আসনের এমপি ডা. আব্দুস সালাম এবং জেলা প্রশাসক ইশরাত ফারজানা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দেশের ১৪টি নির্বাচিত উপজেলায় প্রাথমিকভাবে এই পাইলট প্রকল্প শুরু হয়েছে। রহিমানপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ৫৯০ জন দরিদ্র নারীকে অত্যন্ত স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় এই কার্ডের জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে। সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. খায়রুল ইসলাম জানান, ডিজিটাল অ্যাপের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয় স্কোরের ভিত্তিতে যোগ্যদের তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে।
বাংলাদেশের গ্রামীণ অর্থনীতির ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ১৯৫০-এর দশকে এ দেশের গ্রামীণ সমাজ ছিল চরম দারিদ্র্যপীড়িত। ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলনের সময় গ্রামবাংলার সাধারণ মানুষ ছিল মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত। ১৯৭৫ পরবর্তী সময়ে পল্লী উন্নয়নে নানা উদ্যোগ নেওয়া হলেও তৃণমূল পর্যায়ে স্বচ্ছতার অভাব সব সময়ই একটি চ্যালেঞ্জ ছিল।
১৯৯০-এর গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে বিএনপি সরকারের আমলে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে ‘কাজের বিনিময়ে খাদ্য’ বা ‘ভিজিএফ’ কার্ডের মতো কর্মসূচি জনপ্রিয়তা পায়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার বিপ্লব পরবর্তী ‘নতুন বাংলাদেশে’ রাষ্ট্র সংস্কারের যে কাজ চলছে, তারই প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে বর্তমানের এই অত্যাধুনিক ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রকল্পে। ১৯৫০ সালে যেখানে ত্রাণ ছিল সাময়িক দয়া, ২০২৬ সালে তা রূপ নিয়েছে ডিজিটাল কার্ডের মাধ্যমে প্রাপ্য অধিকারে। এটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঘোষিত ‘দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ’ গড়ার মহাপরিকল্পনারই একটি বাস্তব রূপায়ন।
কার্ড হাতে পেয়ে রহিমানপুর গ্রামের ৫০ বছর বয়সী মারজিনা বেগম কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি বলেন, "স্বামী ঠিকমতো কাজ পান না। এই কার্ড পেয়ে চাল-ডাল কেনার চিন্তা দূর হলো। আমি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞ।" বর্গাচাষী পরিবারের রাজিয়া সুলতানাও জানান, এই ভাতার টাকা তার তিন সন্তানের পড়াশোনায় বড় সাহস যোগাবে।
জেলা প্রশাসক ইশরাত ফারজানা জানান, তথ্যের যথার্থতা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে। প্রতিটি ধাপে স্বচ্ছতা বজায় রেখে প্রকৃত দরিদ্রদের হাতেই কার্ড তুলে দেওয়া হয়েছে।
সুত্র: ১. স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় (এলজিআরডি) প্রেস উইং। ২. জেলা প্রশাসন ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়, ঠাকুরগাঁও। ৩. জাতীয় আর্কাইভস: বাংলাদেশের পল্লী উন্নয়ন ও সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর ইতিহাস (১৯৫০-২০২৬)।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |