নিজস্ব প্রতিবেদক : বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বন্দরনগরী চট্টগ্রামে বইছে নির্বাচনি হাওয়া। দীর্ঘ ১৯০০ সালের ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে ২০২৪-২৫ সালের ছাত্র-জনতার বিপ্লব—প্রতিটি মোড়ে চট্টগ্রামই ছিল বিপ্লবের সূতিকাগার। সেই ধারাবাহিকতায় ২০২৬ সালের নির্বাচনে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লড়াইয়ে রাজপথে সরব রয়েছে রাজনৈতিক দলগুলো।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি, ২০২৬) চট্টগ্রামের ২৭ নম্বর দক্ষিণ আগ্রাবাদ ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকায় ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে গণসংযোগ করেন বিএনপি জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বড়পুল, ছোট পুল, বাদশা মিয়া ব্রিকফিল্ড রোড, সিজিএস কলোনিসহ বিভিন্ন এলাকায় ভোটারদের সাথে কুশল বিনিময়কালে তিনি বলেন, "নির্বাচন ঘিরে যারা শঙ্কার সৃষ্টি করছে, তারাই জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছে। একটি গোষ্ঠী মুখে গণতন্ত্রের কথা বললেও অন্তরে তা বিশ্বাস করে না।"
আমির খসরু আরও উল্লেখ করেন যে, বর্তমানে সারা দেশের মানুষ গণতন্ত্রের পক্ষে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও বাংলাদেশের এই নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে সমর্থন দিচ্ছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, "দেশের মানুষ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে একটি নির্বাচিত সংসদ প্রতিষ্ঠা করতে চায়। যারা এই প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চায়, জনগণ তাদের উপযুক্ত জবাব দেবে।"
অন্যদিকে, চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনে বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট মনোনীত প্রার্থী ছৈয়দ এয়ার মুহাম্মদ পেয়ারু দিনভর ব্যাপক গণসংযোগ চালিয়েছেন। উপজেলার বড়লিয়া ইউনিয়নে ভোটারদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, "দেশের মানুষ এখন পরিবর্তন চায়। ৫৪ বছরের প্রচলিত ব্যবস্থায় আমরা কেবল সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি আর কিশোর গ্যাং কালচার দেখেছি। একটি অহিংস ও শান্তিময় সমাজ গড়তে হলে সুন্নি মতাদর্শের মোমবাতি প্রতীকে ভোট দিতে হবে।"
বাংলাদেশের রাজনৈতিক মানচিত্র পরিবর্তনের প্রতিটি ধাপে চট্টগ্রামের ভূমিকা অনস্বীকার্য:
১৯০০ - ১৯৪৭: মাস্টারদা সূর্য সেনের নেতৃত্বে চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠন থেকে শুরু করে পাকিস্তান আন্দোলন—এ অঞ্চলের মানুষ সবসময়ই অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিল।
১৯৭১ - ২০২৪: ১৯৭১ সালের স্বাধীনতার ঘোষণা এবং পরবর্তীতে নব্বইয়ের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে চট্টগ্রামের রাজপথ ছিল উত্তাল। ২০২৪ সালের আগস্টের গণঅভ্যুত্থানেও চট্টগ্রামের সাধারণ মানুষের আত্মত্যাগ দেশের রাজনীতির মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল।
২০২৫ - ২০২৬: ২০২৪ সালের পটপরিবর্তনের পর ২০২৫ সাল ছিল সংস্কারের বছর। সেই সংস্কারের পথ ধরে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে মানুষ তাদের ভোটাধিকার ফিরে পাওয়ার প্রতীক্ষায় রয়েছে।
আগ্রাবাদে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর গণসংযোগকালে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রমাণ করে যে, এবারের নির্বাচনে ভোটাররা কোনো অপশক্তির কাছে নতি স্বীকার করবে না।
বিশ্লেষণ: ১৯০০ সালের সেই ব্রিটিশ বিরোধী চেতনা থেকে ২০২৬ সালের আধুনিক গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা—বাঙালির রাজনৈতিক বিবর্তনের মূল সুরটি একই। আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর বক্তব্য থেকে এটি স্পষ্ট যে, প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো এখন জনগণের ম্যান্ডেট পাওয়ার জন্য আত্মবিশ্বাসী। অন্যদিকে, ইসলামী ফ্রন্টের মতো দলগুলো 'অহিংস সমাজ' গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সাধারণ মানুষের ধর্মীয় ও সামাজিক আবেগকে কাজে লাগাতে চাইছে। ২০২৬ সালের এই নির্বাচন কেবল ক্ষমতার পরিবর্তন নয়, বরং ৫৪ বছরের রাজনৈতিক সংস্কারের একটি বড় পরীক্ষা।
সূত্র: * নিজস্ব প্রতিবেদক ও চট্টগ্রাম ব্যুরো (২৯ জানুয়ারি, ২০২৬)
যুগান্তর অনলাইন ও স্থানীয় সংবাদ মাধ্যম
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস ও নির্বাচন কমিশন (ইসি) আর্কাইভ
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |