নিজস্ব প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
বাংলাদেশের তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক ও শ্রদ্ধা প্রকাশ করেছে ভারতের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ লোকসভা। বুধবার (২৮ জানুয়ারি ২০২৬) ভারতের বাজেট অধিবেশনের প্রথম দিনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিসহ ভারতের সকল আইনপ্রণেতা দাঁড়িয়ে দুই মিনিট নীরবতা পালন করেন। দীর্ঘ কয়েক দশকের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ইতিহাসে বাংলাদেশের কোনো বিরোধীদলীয় নেতার প্রতি ভারতের পার্লামেন্টে এমন সম্মান প্রদর্শনের ঘটনা বিরল।
ভারতীয় বার্তাসংস্থা 'ফ্রি প্রেস জার্নাল' জানিয়েছে, বাজেট অধিবেশনের শুরুতে লোকসভার স্পিকার শোক প্রস্তাব উত্থাপন করেন। এতে গত ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করা বেগম খালেদা জিয়ার নাম বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়। এছাড়া বিমান দুর্ঘটনায় নিহত মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ার এবং লোকসভার সাবেক পাঁচ সদস্যের প্রতিও শ্রদ্ধা জানানো হয়। স্পিকার খালেদা জিয়াকে বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে উল্লেখ করে তাঁর বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের স্মৃতিচারণ করেন।
বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পরপরই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাঁর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম 'X' (সাবেক টুইটার)-এ গভীর শোক প্রকাশ করেছিলেন। শুধু তাই নয়, তাঁর ব্যক্তিগত শোকবার্তা নিয়ে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর তাৎক্ষণিকভাবে ঢাকা সফর করেন এবং বিএনপির বর্তমান চেয়ারম্যান তারেক রহমানের হাতে সেই চিঠি হস্তান্তর করেন। জয়শঙ্কর সে সময় বেগম খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করেন এবং বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের সাথে দীর্ঘ বৈঠক করেন।
খালেদা জিয়ার জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠানে ভারতের পাশাপাশি পাকিস্তান, নেপাল ও শ্রীলঙ্কার উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা অংশ নিয়েছিলেন। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার বিপ্লবের পর বাংলাদেশের রাজনীতিতে যে পরিবর্তন এসেছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে ভারতের এই ‘প্রো-অ্যাক্টিভ’ কূটনৈতিক আচরণ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এটিকে বিএনপির নতুন নেতৃত্বের সাথে দিল্লির সম্পর্ক উন্নয়নের একটি ‘কৌশলগত বার্তা’ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
[Image: Indian PM Narendra Modi and other MPs standing in silence at Lok Sabha to honor late Begum Khaleda Zia, January 2026]
১৯৪৬ সালে ব্রিটিশ ভারতে জন্ম নেওয়া খালেদা জিয়া ১৯০০ পরবর্তী এই অঞ্চলের রাজনৈতিক বিবর্তনের অন্যতম সাক্ষী ও কারিগর ছিলেন। ১৯৯১ সালে সংসদীয় গণতন্ত্রে ফেরার পর তাঁর নেতৃত্বে বাংলাদেশ এক নতুন যুগে প্রবেশ করেছিল। ২০২৫-২৬ সালের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে যখন বাংলাদেশ একটি নতুন নির্বাচন ও সংস্কারের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তখন খালেদা জিয়ার প্রয়াণ এবং আন্তর্জাতিক মহলে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা এক গভীর শূন্যতার সৃষ্টি করেছে।
ভারতের লোকসভায় খালেদা জিয়ার প্রতি এই শ্রদ্ধা নিবেদন প্রমাণ করে যে, দলমত নির্বিশেষে দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে তাঁর অবদান অবিস্মরণীয়। দিল্লির এই সম্মাননা আগামী দিনে দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সূত্র: ১. ফ্রি প্রেস জার্নাল ও ডব্লিউআইওএন (Wionews), ২৮ জানুয়ারি ২০২৬। ২. টাইমস অব ইন্ডিয়া ও দ্য হিন্দু (বাজেট অধিবেশন কভারেজ)। ৩. বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মিডিয়া সেল। ৪. ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (MEA) প্রেস বিজ্ঞপ্তি।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |