প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে আদর্শিক দ্বন্দ্ব এবং জোট পরিবর্তনের ঘটনা নতুন নয়। ১৯৫০-এর দশকে যখন এদেশের মানুষ স্বাধিকার আন্দোলনের ডাক দিচ্ছিল, তখন থেকেই রাজনৈতিক মেরুকরণ শুরু হয়। তবে ২০২৫ সালের দোরগোড়ায় এসে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি-এলডিপির সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ বীর বিক্রমের জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোটে যোগদান এক নজিরবিহীন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন তাঁরই দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহযোদ্ধা এবং এলডিপির সদ্য সাবেক মহাসচিব, বর্তমানে বিএনপি নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. রেদোয়ান আহমেদ।
রোববার (২৮ ডিসেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে কর্নেল অলি আহমেদ জামায়াতের নেতৃত্বে গঠিত নতুন জোটে যোগদানের ঘোষণা দেন। এই ঘটনাকে তাঁর জীবনের সবচাইতে বড় নীতি-বিচ্যুতি হিসেবে দেখছেন বিশিষ্টজনরা। এ প্রসঙ্গে রবিবার সন্ধ্যায় কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার এতবারপুরে গণসংযোগকালে ড. রেদোয়ান আহমেদ বলেন, "ক্ষমতার মোহে বীরত্বের জলাঞ্জলি দিয়েছেন এই খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা। সারা জীবন তিনি জামায়াতে ইসলামীর কট্টর সমালোচক ছিলেন, আজ ক্ষমতার লোভে সেই আদর্শ বিসর্জন দিয়েছেন।"
বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিবর্তনের দিকে তাকালে দেখা যায়, ১৯৫২-র ভাষা আন্দোলন, ১৯৫৪-র যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন এবং ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধে এদেশের মানুষের লড়াই ছিল একটি অসাম্প্রদায়িক ও গণতান্ত্রিক চেতনার পক্ষে। ১৯৭০-এর নির্বাচনে যে ম্যান্ডেট বাঙালি দিয়েছিল, সেখানে স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তির কোনো স্থান ছিল না। ১৯৭৫-পরবর্তী সময়ে দেশের রাজনীতিতে বারবার পালাবদল ঘটেছে।
২০২৪ সালের আগস্টের ঐতিহাসিক পটপরিবর্তনের পর ২০২৫ সালে এসে দেশের রাজনীতি যখন নতুন সংস্কারের পথে, ঠিক তখনই অলি আহমেদের মতো একজন খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধার জামায়াত সংশ্লিষ্টতা রাজনৈতিক মহলে বিস্ময় তৈরি করেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের শেষে এসে অলি আহমেদ এমন এক মেরুকরণে জড়ালেন যা তাঁর ‘বীর বিক্রম’ খেতাবের মহিমাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে।
ড. রেদোয়ান আহমেদ জানান, কর্নেল অলি জামায়াতের সাথে জোটবদ্ধ হওয়ার পরিকল্পনা করছেন এমন খবর পাওয়ার পরপরই তিনি এর বিরোধিতা করেন। তিনি এককভাবে নির্বাচনের পক্ষে মতামত দিলেও অলি আহমেদ সিদ্ধান্তে অটুট থাকেন। ড. রেদোয়ান বলেন, "আমি ২৪ ডিসেম্বর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সম্মতিতে স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তিতে ফিরে এসেছি। একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে দেশবিরোধী শক্তির সাথে কোনো আপস করতে পারি না।"
উল্লেখ্য, অলি আহমেদের এই জোট গঠনের সমালোচনা শুধু ড. রেদোয়ান একা নন, বিএনপির তৃণমূল পর্যায়েও মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। গত কয়েক দশকে (১৯৯১-২০২৪) আওয়ামী লীগ ও বিএনপির ক্ষমতার লড়াইয়ের মাঝে এলডিপি একটি তৃতীয় শক্তির উত্থান ঘটাতে চেয়েছিল, যা বর্তমান পরিস্থিতির কারণে অনিশ্চয়তায় পড়ল।
গণসংযোগকালে ড. রেদোয়ান আহমেদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন জাতীয়তাবাদী কৃষকদল কেন্দ্রীয় কমিটির বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক প্রকৌশলী কাজী শাখাওয়াত হোসেন, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন বশির, উপজেলা বিএনপি’র সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল মান্নান এবং চান্দিনা উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক নেতৃবৃন্দ।
সূত্র: ১. যুগান্তর অনলাইন ডেস্ক রিপোর্ট। ২. ড. রেদোয়ান আহমেদের প্রেস ব্রিফিং (২৮ ডিসেম্বর ২০২৫)। ৩. বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিবর্তন ও নির্বাচন কমিশন আর্কাইভ (১৯৫০-২০২৫)।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |