| বঙ্গাব্দ

ইফতার ও কুরআন প্রতিযোগিতার আয়োজনে শোকজ: ঢাবি ছাত্রদল নেতার বিস্ফোরক

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 28-02-2026 ইং
  • 1850191 বার পঠিত
ইফতার ও কুরআন প্রতিযোগিতার আয়োজনে শোকজ: ঢাবি ছাত্রদল নেতার বিস্ফোরক
ছবির ক্যাপশন: ঢাবি ছাত্রদল নেতার বিস্ফোরক

 ঢাবির ছাত্র রাজনীতি ও ইফতার বিতর্কে ছাত্রদল নেতার শোকজ রহস্য

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

ঢাকা: প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি)। ১৯২১ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন, ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লব—প্রতিটি ঐতিহাসিক বাঁকে ঢাবি ছাত্ররাই ছিল প্রধান চালিকাশক্তি। ১৯০০ সালের গোড়ায় যখন বঙ্গভঙ্গ পরবর্তী সময়ে ঢাকায় শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়ার আন্দোলন শুরু হয়, তখন থেকেই ছাত্র রাজনীতির সাথে ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধের এক গভীর সম্পর্ক ছিল। তবে ২০২৬ সালের এই নতুন বাংলাদেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে ইফতার মাহফিল ও কুরআন তেলাওয়াত প্রতিযোগিতার আয়োজন করে খোদ নিজের দলেরই 'শোকজ' (কারণ দর্শানোর নোটিশ) এর মুখে পড়েছেন এক ছাত্রদল নেতা।

ঘটনার প্রেক্ষাপট: ইফতার মাহফিল ও কুরআন প্রতিযোগিতা

গত ২৬ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কবি জসীমউদ্দিন হল ছাত্রদলের আহ্বায়ক শেখ তানভীর বারী হামিম সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে একটি ইফতার মাহফিল ও কুরআন তেলাওয়াত প্রতিযোগিতার আয়োজন করেন। হামিমের দাবি অনুযায়ী, এই আয়োজনে প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থী স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। শিক্ষার্থীদের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই তিনি এই সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানের উদ্যোগ নিয়েছিলেন।

শোকজ ইস্যু ও হামিমের অভিযোগ

শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাত ১২টা ৪০ মিনিটে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে এক ভিডিওবার্তায় হামিম অভিযোগ করেন যে, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের দপ্তর সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলমের ফেসবুক পেজে তাকে শোকজ করার একটি নোটিশ তিনি দেখতে পেয়েছেন। ভিডিওবার্তায় হামিম যেসব দাবি করেন:

  • অজ্ঞাত কারণ: শোকজের বিষয়ে দপ্তর সম্পাদককে ফোন করলে তিনি কোনো সঠিক কারণ জানাতে পারেননি।

  • ফেসবুকে শোকজ: তাকে ব্যক্তিগতভাবে কোনো নোটিশ না পাঠিয়ে সরাসরি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

  • আয়োজনই কি অপরাধ?: হামিমের ধারণা, শিক্ষার্থীদের নিয়ে ইফতার ও কুরআন প্রতিযোগিতার আয়োজন করাই এই শোকজের মূল কারণ।

ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষণ (১৯০০-২০২৬)

বিংশ শতাব্দীর শুরুতে (১৯০০ পরবর্তী) ঢাকা অঞ্চলে মুসলিম ছাত্রদের মধ্যে ধর্মীয় চেতনা ও রাজনৈতিক অধিকার আদায়ের যে জোয়ার ছিল, তার অন্যতম বহিঃপ্রকাশ ছিল যৌথ ইফতার বা আলোচনা সভা। ১৯৯১ ও ২০০১ সালের ছাত্র রাজনীতির ধারাতেও ইফতার মাহফিল ছিল একটি নিয়মিত রাজনৈতিক সংস্কৃতি। ২০২৪ সালের বিপ্লব পরবর্তী ২০২৬ সালের বর্তমান ছাত্র রাজনীতিতে যখন 'সংস্কার' ও 'ধর্মীয় সহনশীলতা'র কথা বলা হচ্ছে, তখন কুরআন তেলাওয়াত প্রতিযোগিতার মতো আয়োজনে বাধা বা শোকজ দেওয়াকে অনেকে রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতা হিসেবে দেখছেন।

হামিম উল্লেখ করেন যে, ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে জিএস পদে লড়ে তিনি সাড়ে পাঁচ হাজারেরও বেশি ভোট পেয়েছিলেন। এমন একজন জনপ্রিয় ও পরীক্ষিত নেতাকে ব্যক্তিগতভাবে নোটিশ না দিয়ে ফেসবুকে শোকজ করাকে তিনি 'অন্যায়' বলে অভিহিত করেছেন।

হামিমের অবস্থান: "ব্যক্তি থেকে দল বড়"

লিখিত জবাব দেবেন না জানিয়ে হামিম বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে নোটিশ দেওয়া না হচ্ছে, ততক্ষণ তিনি কোনো উত্তর দেবেন না। তিনি আরও যোগ করেন, "আমার এই কাজের কারণে যদি ছাত্রদলের ক্ষতি হয়ে থাকে, তাহলে আমি ক্ষমা চাইছি। তবে আমি মনে করি— ব্যক্তি থেকে দল বড়, দল থেকে দেশ বড়"

২০২৬-এর নতুন চ্যালেঞ্জ

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ১৯০০ সাল থেকে ২০২৬ সালের দীর্ঘ পথচলায় ঢাবির ছাত্র রাজনীতি অনেক চড়াই-উতরাই দেখেছে। ২০২৬ সালের এই নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তে ছাত্র সংগঠনগুলোর ভেতরে অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র এবং ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি কেমন হবে, এই শোকজ ইস্যুটি তার একটি বড় পরীক্ষা। কেন্দ্রীয় ছাত্রদল এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কী ব্যাখ্যা দেয়, তার ওপরই নির্ভর করছে আগামী দিনের ছাত্র রাজনীতির গতিপথ।


তথ্যসূত্র: কালবেলা অনলাইন (২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬), শেখ তানভীর বারী হামিমের ফেসবুক ভিডিওবার্তা এবং ঢাবি ছাত্র রাজনীতির ঐতিহাসিক আর্কাইভ।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency