| বঙ্গাব্দ

সফর মাস নিয়ে ভুল ধারণা ও ইসলামের অবস্থান

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 27-07-2025 ইং
  • 5936262 বার পঠিত
সফর মাস নিয়ে ভুল ধারণা ও ইসলামের অবস্থান
ছবির ক্যাপশন: সফর মাস নিয়ে ভুল ধারণা ও ইসলামের অবস্থান

আজ সফর মাসের প্রথম দিন

সফর ইসলামী হিজরি বর্ষপঞ্জির দ্বিতীয় মাস। এই মাসটি নিয়ে মুসলিম সমাজে যুগ যুগ ধরে কিছু ভ্রান্ত বিশ্বাস ও কুসংস্কার প্রচলিত আছে।
অনেকে মনে করে, সফর মাস অশুভ, বিপদসংকুল, রোগ-বালাই ও দুর্ঘটনার সময়
ফলে কেউ বিয়ে দেয় না, ভ্রমণে যায় না, ব্যবসা শুরু করে না। অথচ ইসলাম ধর্মে কোনো মাসই অশুভ নয়।
কোরআন ও হাদিসের আলোকে এই সকল ভ্রান্ত ধারণার প্রতিবাদ করা সময়ের দাবি।

সফর মাস নিয়ে প্রচলিত কিছু ভুল ধারণা

  • সফর মাস অশুভ ও দুর্ভাগ্যের সময়

  • এই মাসে বিয়ে করলে দাম্পত্য জীবন সুখী হয় না

  • সফর মাসে ভ্রমণে বের হলে দুর্ঘটনা ঘটে

  • ২৯ শে সফর নবীজির (সা.) ইন্তিকালের দিন, তাই এটি শোকের দিন

  • সফর মাসে কিছু নির্দিষ্ট রোজা বা আমল করলে বিপদ কেটে যায় – যদিও কোনো হাদিসে তার ভিত্তি নেই

কুরআনের দৃষ্টিতে মাসসমূহের মর্যাদা

আল্লাহ তায়ালা বলেন,

“আল্লাহর বিধানে মাসের সংখ্যা বারটি, আসমান-জমিন সৃষ্টির দিন থেকেই।”
📖 সুরা আত-তাওবা, আয়াত: ৩৬

এই আয়াতে আল্লাহ তায়ালা সবগুলো মাসকে তাঁর পক্ষ থেকে নির্ধারিত বলে ঘোষণা করেছেন।
কোনো মাসকে অশুভ বা দুর্ভাগ্যজনক মনে করা কোরআনের মূলনীতির বিরুদ্ধে।

হাদীসের আলোকে সফর মাসের ভুল ধারণা খণ্ডন

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন:

لاَ عَدْوَى، وَلاَ طِيَرَةَ، وَلاَ هَامَةَ، وَلاَ صَفَرَ

“সংক্রামক রোগের সংক্রমণ নিজে থেকে হয় না; অমঙ্গল-চিহ্ন গ্রহণ, হামে, ও সফর মাস – এ সকল কুসংস্কার কিছুই নেই।”
📚 বুখারি (হাদিস: ৫৭০৭), মুসলিম (হাদিস: ২২২০)

এই হাদিসে তিনি তৎকালীন চারটি কুসংস্কার খণ্ডন করেছেন। তার মধ্যে অন্যতম ছিল সফর মাসকে অশুভ মনে করা।
ইসলাম স্পষ্টভাবে এই ধারণা প্রত্যাখ্যান করে।

হাদিসটির ব্যাখ্যায় ইসলামী স্কলারগণের মতামত

📘 ইমাম নববী (রহ.) বলেন:

“হাদিসের অর্থ হলো: জাহিলি যুগে লোকেরা যেভাবে সফর মাসকে অশুভ মনে করত, ইসলাম তা খণ্ডন করেছে।”
📗 শারহ সহীহ মুসলিম

📘 ইবনে হাজার আসকালানী (রহ.) বলেন:

“সফর মাস নিয়ে মানুষের ভ্রান্ত বিশ্বাসগুলো ভিত্তিহীন। ইসলামে তার কোনো স্থান নেই।”
📗 ফতহুল বারী, খণ্ড ১০

সফর মাসেও বহু গুরুত্বপূর্ণ ও কল্যাণকর ঘটনা ঘটেছে

  • নবীজির (সা.) ইন্তিকাল সফর মাসে হয়নি, হয়েছে রবিউল আউয়াল মাসের ১২ তারিখে

  • অনেক সাহাবি সফর মাসেই গাজওয়া বা হিজরত করেছেন

  • খলিফা উমার (রা.), ওসমান (রা.) প্রমুখের শাসনামলে সফর মাসে বহু কল্যাণজনক কাজ সংঘটিত হয়েছে


সফর মাসের কোনো বিশেষ আমল আছে কি?

ইসলামে সফর মাসে কোনো নির্দিষ্ট ইবাদত, রোযা, দোয়া বা আমল নির্ধারিত নেই।

  • অনেকে মাসের তেরো-পনের তারিখে রোযা রাখেন – এটি অন্য মাসের মতো নফল রোজা

  • কেউ উনত্রিশ সফর দুঃখ পালন করেন – এর কোনো সঠিক দলিল নেই

বরং যেসব আমল নিয়মিত করা হয় (যেমন: নফল রোযা, তাহাজ্জুদ, ইস্তিগফার) – তা সব মাসেই করা যায়।

শেষ কথাঃ

সফর মাস নিয়ে ভ্রান্ত ধারণা ও কুসংস্কার ইসলামী বিশ্বাসের পরিপন্থী
ইসলাম এমন একটি ধর্ম যা কুসংস্কার নয়, বরং প্রমাণ ও বিশ্বাসের উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে।

কোরআন ও সহিহ হাদিসের আলোকে আমাদের এ মাসটিকেও অন্য মাসের মতোই কল্যাণময় ও পবিত্র মনে করে ইবাদতের মাধ্যমে সুন্দরভাবে কাটানো উচিত।

✍️ লেখক: প্রাবন্ধিক ও অনুবাদক
📧 saifpas352@gmail.com

প্রতিবেদকBDS Bulbul Ahmed
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency