প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ঢাকা: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জামায়াত রাজনীতিকে কোনো ব্যক্তিস্বার্থ, নেশা বা পেশা হিসেবে দেখে না; বরং একে দেশ ও জনগণের সেবায় একটি পবিত্র কর্তব্য হিসেবে গ্রহণ করেছে। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের বলরুমে দলীয় উদ্যোগে আয়োজিত দিনব্যাপী ‘পলিসি সামিট ২০২৬’-এর সমাপনী অধিবেশনে তিনি এসব কথা বলেন।
বিগত বছরের শাসনব্যবস্থার সমালোচনা করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, "লুটপাটের মাধ্যমে দেশটাকে ধ্বংসের কিনারে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আমরা উত্তরাধিকার সূত্রে একটি কঙ্কাল পেয়েছি। তবে হতাশ হওয়ার কিছু নেই; এই কঙ্কালকেই আমরা একটি জীবন্ত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশে রূপান্তর করব।" তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দেশ থেকে স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটলেও ‘স্বৈরমানসিকতা’ এখনো সমাজ ও রাষ্ট্রের রন্ধ্রে রন্ধ্রে বিদ্যমান, যা নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত জামায়াতের সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে।
দেশের উন্নয়নে প্রবাসীদের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করে জামায়াত আমির বলেন, "আমাদের কেবল আর্থিক রেমিট্যান্স নয়, মেধাবী প্রবাসীদের ‘বুদ্ধিবৃত্তিক রেমিট্যান্স’ বা মেধা ও অভিজ্ঞতা প্রয়োজন। আপনারা দেশে ফিরে আসুন, নতুন বাংলাদেশ গড়তে আপনাদের মেধার মূল্যায়ন করা হবে।"
সামিটে জামায়াতের পক্ষ থেকে দুটি মৌলিক লক্ষ্যের কথা তুলে ধরা হয়: ১. শিক্ষা ব্যবস্থা: প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত নৈতিকতা ও পেশাদারিত্বনির্ভর একটি আধুনিক শিক্ষা কাঠামো গড়ে তোলা। ২. সামাজিক ন্যায়বিচার: পদবি বা প্রভাব দেখে নয়, বরং সবার জন্য সমান আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করা।
বিলাসিতা পরিহারের বিষয়ে তিনি এক ব্যতিক্রমী অঙ্গীকার ব্যক্ত করে বলেন, "যদি জনগণ আমাদের সুযোগ দেয়, তবে জামায়াতের মন্ত্রী-এমপিরা সব ধরনের বিলাসিতা পরিহার করবেন। রাষ্ট্রের কেবল সেই সুবিধাটুকুই নেওয়া হবে যা না নিলেই নয়।"
বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ১৯০০ সালের বঙ্গভঙ্গ পরবর্তী সময়ে এই ভূখণ্ডে যে রাজনৈতিক চেতনার উন্মেষ ঘটেছিল, তার চূড়ান্ত প্রতিফলন ঘটে ১৯৫২-র ভাষা আন্দোলন ও ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধে। ১৯৭৯ সালে বাংলাদেশে পুনরায় রাজনৈতিক কার্যক্রম শুরুর পর থেকে জামায়াতে ইসলামী বিভিন্ন চড়াই-উতরাই পার করেছে। ১৯৯১ ও ২০০১ সালে দলটি সরকার গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার বিপ্লবের পর ২০২৫ সালের পুরোটা সময় ছিল রাষ্ট্র সংস্কারের বছর। ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জামায়াতের এই 'পলিসি সামিট' দলটির নতুন রাজনৈতিক দর্শনের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, জামায়াত এবার তাদের পুরনো ইমেজ ভেঙে 'ইনক্লুসিভ' বা অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতি ও সুশাসনের ওপর বেশি জোর দিচ্ছে।
সামিটে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীন, ভারত ও তুরস্কসহ বিশ্বের ৩০টিরও বেশি দেশের রাষ্ট্রদূত ও প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। দলের পক্ষে আরও বক্তব্য রাখেন নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মু. তাহের, মাওলানা আ.ন.ম. শামসুল ইসলাম এবং সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
সূত্র: যুগান্তর, বাসস (BSS), প্রথম আলো এবং ২০ জানুয়ারি ২০২৬-এর জামায়াতে ইসলামীর পলিসি সামিট।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |