| বঙ্গাব্দ

২০২৬ সংসদ নির্বাচন: জামায়াত জোটের ২৫৩ আসনে সমঝোতা, ইসলামী আন্দোলনের একক লড়াই

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 16-01-2026 ইং
  • 2512903 বার পঠিত
২০২৬ সংসদ নির্বাচন: জামায়াত জোটের ২৫৩ আসনে সমঝোতা, ইসলামী আন্দোলনের একক লড়াই
ছবির ক্যাপশন: ২০২৬ সংসদ নির্বাচন

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন: আসন সমঝোতা থেকে সরে দাঁড়ালো ইসলামী আন্দোলন, ৪৭ আসনে নতুন সমীকরণ

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের পাতায় জোটবদ্ধ নির্বাচন বা একক লড়াইয়ের ঘটনাপ্রবাহ সবসময়ই তাৎপর্যপূর্ণ। ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ থেকে শুরু করে ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন, ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং তৎপরবর্তী ২০২৪-২৫ সালের ছাত্র-জনতার বিপ্লব—প্রতিটি কালখণ্ডই এ দেশের মানুষের রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষাকে নতুন রূপ দিয়েছে। বর্তমানে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সেই আকাঙ্ক্ষারই এক নতুন প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে রাজপথে।

জোটের ঘোষণা ও ইসলামী আন্দোলনের অবস্থান

বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি, ২০২৬) রাতে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে এক সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের আসন্ন নির্বাচনের জন্য ১১ দলীয় জোটের (বর্তমানে ১০ দল) আসন সমঝোতার ঘোষণা দেন। তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে ২৫৩টি আসনে সমঝোতা হয়েছে। যার মধ্যে জামায়াত ১৭৯টি, এনসিপি ৩০টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২০টি, খেলাফত মজলিস ১০টি, এলডিপি ৭টি, এবি পার্টি ৩টি, বিডিপি ২টি এবং নেজামে ইসলাম ২টি আসনে লড়বে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়েছিল, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জন্য ৪৭টি আসন ফাঁকা রাখা হয়েছে। কিন্তু নাটকীয় মোড় নেয় পরদিন শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বিকেলে। পুরানা পল্টনে এক সংবাদ সম্মেলনে ইসলামী আন্দোলনের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব গাজী আতাউর রহমান ঘোষণা করেন, তারা কোনো জোটবদ্ধ নির্বাচনে যাচ্ছেন না। বরং দেশের ২৬৮টি আসনে এককভাবে লড়বে চরমোনাই পীরের এই দল।

ইতিহাসের দর্পণে রাজনৈতিক মেরুকরণ

১৯০০ সালের শুরুর দিকে যখন এ দেশে রাজনৈতিক চেতনার উন্মেষ ঘটে, তখন থেকেই দেখা গেছে আদর্শিক কারণে দলগুলো কখনো এক হয়েছে, কখনো বা নিজের অস্তিত্ব রক্ষায় আলাদা পথে হেঁটেছে। ১৯৪০-এর লাহোর প্রস্তাব থেকে শুরু করে ১৯৭০-এর সাধারণ নির্বাচন—সবখানেই 'একলা চলো' বনাম 'জোটবদ্ধ' রাজনীতির লড়াই ছিল। ২০২৬ সালের এই নির্বাচনটি বাংলাদেশের জন্য এক অনন্য পরীক্ষা। ১৫ বছরের আওয়ামী শাসনের পতনের পর এটিই প্রথম নির্বাচন, যেখানে কোনো দল বা জোট নিজেদের প্রকৃত জনসমর্থন প্রমাণের সুযোগ পাচ্ছে।

৪৭ আসনের নতুন সমীকরণ: কে পাচ্ছেন মনোনয়ন?

ইসলামী আন্দোলন জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ায় এখন সেই ৪৭টি আসন নিয়ে ১০ দলীয় জোটে নতুন করে হিসাব-নিকাশ শুরু হয়েছে। জোটের অভ্যন্তরীণ সূত্র মতে, এই আসনগুলো এখন সমঝোতার ভিত্তিতে বর্তমান শরিকদের মধ্যে বণ্টন করা হবে। ধারণা করা হচ্ছে, অবশিষ্ট ৪৭টি আসনের মধ্যে ৩৫ থেকে ৪০টি আসনে জামায়াতে ইসলামী নিজেদের প্রার্থী দেবে। বাকি ৭ থেকে ১২টি আসন এনসিপি, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন এবং এবি পার্টির মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হতে পারে।

জোটের নেতারা মনে করছেন, এই 'ওয়ান বক্স পলিসি' বা এক ব্যালট নীতি বজায় রাখতে পারলে তারা নির্বাচনী বৈতরণী সহজে পার হতে পারবেন। তবে ইসলামী আন্দোলনের ২৬৮ আসনে একক প্রার্থিতা নির্বাচনী সমীকরণে কতটুকু প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে এখন চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।

২০২৬-এর চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা

২০২৪-এর জুলাই বিপ্লবের পর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে এটিই প্রথম সাধারণ নির্বাচন। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বক্তারা বলছেন, ২০২৬ সালের এই ভোট কেবল ক্ষমতার পালাবদল নয়, বরং এটি রাষ্ট্রের কাঠামো সংস্কারের চূড়ান্ত পরীক্ষা। ১৯০০ থেকে ২০২৬—এই দীর্ঘ পরিক্রমায় বাংলাদেশের মানুষ বারবার প্রমাণ করেছে যে, তারা গণতন্ত্রকামী। এবারের নির্বাচনে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১০ দলীয় জোট এবং এককভাবে লড়া ইসলামী আন্দোলনের মধ্যে যে লড়াই হবে, তা বাংলাদেশের আগামীর রাজনীতির গতিপথ নির্ধারণ করে দেবে।


তথ্যসূত্র: ১. বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ১০ দলীয় জোটের নির্বাচনী সংবাদ সম্মেলন (১৫ জানুয়ারি, ২০২৬)। ২. ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় দপ্তরের প্রেস রিলিজ ও সংবাদ সম্মেলন (১৬ জানুয়ারি, ২০২৬)। ৩. বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন ও ২০২৬ সাধারণ নির্বাচন বিষয়ক ঐতিহাসিক ও সমসাময়িক প্রতিবেদন।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency