| বঙ্গাব্দ

নাহিদ ইসলামের দাবি: ‘বড় দলগুলো জেলা প্রশাসক-পুলিশ সুপারের পদ ভাগ-বাঁটোয়ারা করছে’

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 22-10-2025 ইং
  • 3817896 বার পঠিত
নাহিদ ইসলামের দাবি: ‘বড় দলগুলো জেলা প্রশাসক-পুলিশ সুপারের পদ ভাগ-বাঁটোয়ারা করছে’
ছবির ক্যাপশন: নাহিদ ইসলামের দাবি

বড় দলগুলো জেলা প্রশাসক-পুলিশ সুপারের পদ ভাগ-বাঁটোয়ারা করছে: জাতীয় নাগরিক পার্টি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের উদ্বেগ

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

আজ (বুধবার) বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় গিয়ে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস-এর সঙ্গে বৈঠক শেষে জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এক দাবি উত্থাপন করেছেন। তিনি বলেন, বড় রাজনৈতিক দলগুলো জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের মতো পদগুলো ভাগ-বাঁটোয়ারা করে নিচ্ছে। বিশেষ করে তিনি উল্লেখ করেছেন, “বড় দলগুলো এসপি-ডিসি পদ ভাগ-বাঁটোয়ারা করছে। এভাবে চলতে থাকলে সরকারের নিরপেক্ষতা ক্ষুণ্ন হবে।”

নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, আমরা তথ্য পেয়েছি যে প্রশাসনে পদায়ন করা হচ্ছে—কি ভিত্তিতে হচ্ছে? কি সেটা নিরপেক্ষতা, নাকি যোগ্যতার ভিত্তিতে? তিনি সরকারের প্রতি প্রশ্ন রেখেছেন—সরকার যাতে নিরপেক্ষভাবে চলে, এবং উপদেষ্টা পরিষদের যাদের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে, তাদের বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

সভায় উপস্থিত ছিলেন তাঁর নেতৃত্বে জাতীয় নাগরিক পার্টির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন ও যুগ্ম আহ্বায়ক খালেদ সাইফুল্লাহ। পরে সন্ধ্যা ৬টায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে জামায়াতে ইসলামি’র প্রতিনিধিদলেরও বৈঠক হয়। উল্লেখ্য, গত ১৭ অক্টোবর জুলাই সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের পর দলগুলোর অবস্থানের ভিন্নতার প্রেক্ষিতে ওই উপদেষ্টার সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর আলোচনা শুরু হয়েছে।

প্রেক্ষাপট ও বিশ্লেষণ

এই দাবিটির অন্তর্নিহিত অর্থ ও প্রাসঙ্গিকতা বোঝার জন্য কয়েকটি বিষয় তুলে ধরা প্রয়োজন:

  1. প্রশাসন ও নির্বাচন-বিশ্বাস
    একটি সার্বভৌম দেশে জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও পুলিশ সুপার (এসপি)-সদৃশ পদগুলোর নিয়োগ বা পদায়ন সবার চোখে হয় প্রশাসনের স্বায়ত্ত্বা ও নিরপেক্ষতার প্রতীক। যদি বড় রাজনৈতিক দলগুলো এই ধরনের পদগুলো নিজেদের ঘাঁটিতে ভাগ করে নেয় বা নিয়ন্ত্রণ করে নেয়, তাহলে সেই নিয়োগ ব্যবস্থা থেকে সরকারি নিরপেক্ষতা ও জনবিশ্বাস সংকুচিত হতে পারে।
    এখানে নাহিদ ইসলাম যেটা বলছেন—“পদায়ন হচ্ছে কি নিরপেক্ষতার ভিত্তিতে না দলীয় ভূমিকার ভিত্তিতে?”—এই প্রশ্নটি গভীর।

  2. রাজনৈতিক দল ও প্রশাসন ব্যবধান
    বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরেই একটি সমস্যা ছিল—রাজনৈতিক দল ও প্রশাসনের মধ্যে বিভাজনের লাইন অস্পষ্ট হয়ে পড়েছে। কখনও কখনও প্রশাসন প্রতিবার নির্বাচনের আগে বা পর বড় দলের প্রয়োজনমতো নিয়োজিত হয়েচে বা নিয়ন্ত্রিত হয়েছেই এমন অভিযোগ উঠে এসেছে। বড় রাজনৈতিক দলগুলোর দ্বারা জেলা প্রশাসক-পুলিশ সুপারের নিয়োগে অংশগ্রহণ বা নিজেদের প্রভাব বিস্তারকে আজকে নতুন প্রেক্ষাপটে দেখা হচ্ছে।
    এই প্রসঙ্গে, নাহিদ ইসলাম ও তাঁর দলে এরূপ দৃষ্টিভঙ্গা ব্যক্ত হচ্ছেঃ “সরকার যাতে নিরপেক্ষভাবে চলে …”।

  3. ২০১৪–২০১৮ নির্বাচন প্রসঙ্গ ও জনআন্দোলন
    বাংলাদেশের নির্বাচন-পর্ব ও প্রশাসনিক নিয়োগকে ঘিরে আগে থেকেই জনবিশ্বাসের সংকট রয়েছে। ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে দলীয় বিরোধিতা ও ভোটবিহীনতা নিয়ে বড় ধরনের সমালোচনা হয়েছিল। এবং ২০২৪ সালের শিক্ষার্থী-নেতৃত্বাধীন কোটা আন্দোলনও প্রশাসনের নিয়োগ ও সুযোগ-বণ্টনের বিষয়ে জনমত সৃষ্টি করেছে। এসব ঘরানার প্রেক্ষাপটে আজকের এই দাবি নতুন নয়, বরং পুরনো বিষয়গুলোর পুনরুজ্জীবন।

  4. নাহিদ ইসলামের রাজনৈতিক ক্ষেত্র ও বক্তব্য
    নাহিদ ইসলাম এখন জাতীয় নাগরিক পার্টি-র আহ্বায়ক। তিনি ইতোমধ্যে বিভিন্ন সময় উল্লেখ করেছেন––

    • “পুনরুদ্ধার করতে হবে নতুন সংবিধান।” 

    • রাজনৈতিক দলগুলোর অপচ্ছদার বিরুদ্ধে বলছেন––“একজন নির্দিষ্ট শক্তি সংস্কার অবরোধ করছে, হিংস্রতা ও সন্ত্রাসীদের ছোবলে। সকলকে এক হতে হবে।” 

    • একটি নিরপেক্ষ অর্থায়ন কাঠামোর দাবিতে বলছেন––“রাজনীতির মুলাধার হলো স্বচ্ছ ও নৈতিক অর্থায়ন।” 
      এসব থেকে বোঝা যায়, তিনি শুধু বিশেষ পদবণ্টনের বিষয় তুলছেন না; প্রশাসন-নির্বাচন-সাধারণ অধিকার-সংবিধান–সব বিষয়কে সংযুক্ত করে দেখছেন।

  5. দাবিটি বাস্তব-বিকল্প
    যদি পদবণ্টনের ক্ষেত্রে দলীয় প্রভাব বিস্তার হয়, সরকারের নিরপেক্ষতা ক্ষুণ্ন হয় এবং নির্বাচন-প্রক্রিয়া প্রভাবিত হয়। এই রকম অবস্থায় একটি ভুখন্ডীয় (district-level) নিয়োগ-বিভাজন রাজনীতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। নাহিদ ইসলাম এই প্রেক্ষাপটে দাবি তুলেছেন—শুধু কেন্দ্রীয় নয়, প্রাদেশিক ও জেলা প্রশাসনেও সংস্কার জরুরি।

  6. চ্যালেঞ্জ ও বিবেচনার দিক

    • বড় রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষে দাবিটিকে স্পষ্ট করে উড়িয়ে দেওয়া কঠিন—কারণ প্রশাসনের নিয়োগে রাজনৈতিক দলগুলোর অংশগ্রহণের ইতিহাস রয়েছে।

    • সরকারের পক্ষ থেকে এই দাবির প্রেক্ষিতে পদক্ষেপ কি হবে তা এখনো স্পষ্ট নয়।

    • নিরপেক্ষতা–যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগের দৃষ্টান্ত গড়ে ওঠা জরুরি যা জনবিশ্বাস পুনরুদ্ধারে সহায়ক হবে।

    • এই দাবি যদি নির্বাচনের পূর্বসন্ধ্যায় তোলপাড় শুরু করে, তাহলে পুরো নির্বাচনী পরিবেশে প্রভাব পড়তে পারে।

উপসংহার

বানিজ্যিক ও রাজনৈতিক দলে বড় পদবণ্টনের মাধ্যমে প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ অর্জন করার অভিযুক্তিটি এখন শুধু এক রাজনৈতিক দাবিই নয়—বড় একটি প্রশাসনিক-রাজনৈতিক সংস্কারের ইঙ্গিত। জাতীয় নাগরিক পার্টি ও তার আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম যে প্রসঙ্গে কথা বলছেন, সেটা মূলত দেশের নির্বাচনী ও প্রশাসনিক নৈতিকতার পুনঃসংস্কার। যদি প্রশাসনে সাম্যবাদ, যোগ্যতা ও নিরপেক্ষতার মনোভাব বজায় রাখা হয়, তাহলে দেশের গণতান্ত্রিক যাত্রা আরও মজবুত হবে। তবে সেটি করার জন্য নির্ধারিত সময় আজও সংকুচিত।

সূত্র

  1. “Transparent, ethical financing key to strong political parties” – Dhaka Tribune, 05 Jun 2025. 

  2. “Nahid: Certain quarter is resisting reform efforts, shielding extortionists, terrorists” – Dhaka Tribune, 12 Jul 2025. 

  3. “Some want polls only, NCP seeks reforms, trial first: Nahid” – New Age, 13 Jul 2025. 

    প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
    আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency