তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন ও আগামীর রাজনীতি: ১৯৫০ থেকে ২০২৫ পর্যন্ত এক ঐতিহাসিক রূপান্তর
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫ একটি মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হতে যাচ্ছে। দীর্ঘ ১৮ বছরের প্রবাস জীবন শেষে এদিন দেশে ফিরছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ১৯৫০-এর দশকে বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলনের যে বীজ বপন করা হয়েছিল, তা ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার বিপ্লব পেরিয়ে ২০২৫ সালে এক নতুন সার্বভৌম ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের স্বপ্ন ধারণ করছে। তারেক রহমানের এই প্রত্যাবর্তন কেবল একটি রাজনৈতিক দলের নেতার ফিরে আসা নয়, বরং এটি দেশের ভঙ্গুর রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান মেরামত ও গণতান্ত্রিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার এক অগ্নিপরীক্ষা।
বাঙালির রাজনৈতিক চেতনার উন্মেষ ঘটে ১৯৫০-এর দশকের ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে। ১৯৫২ সালে ভাষার অধিকার, ৫৪-এর নির্বাচনে জয় এবং ৬৬-এর ৬ দফার ধারাবাহিকতায় ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত হয় স্বাধীনতা। ১৯৭৫-এর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ১৯৭৭ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান আধুনিক ও বহুদলীয় গণতন্ত্রের সূচনা করেন। ১৯৯০ সালে দীর্ঘ স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের মাধ্যমে গণতন্ত্রের যে পুনর্জন্ম হয়েছিল, ২০২৫ সালে এসে সেই গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়াই এখনকার প্রধান লক্ষ্য।
২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি (১/১১) সেনা-সমর্থিত সরকারের সময় তারেক রহমানকে কারাবরণ করতে হয় এবং পরবর্তীতে চিকিৎসার জন্য তিনি লন্ডনে যান। দীর্ঘ দেড় যুগ তিনি প্রবাসে থেকেই দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বাংলাদেশের রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তনের দাবি ওঠে। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সংস্কার প্রক্রিয়ার মধ্যেই তারেক রহমানের এই স্বদেশ প্রত্যাবর্তন নির্বাচনি রাজনীতিতে এক অভাবনীয় উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে।
তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন নিয়ে রোববার (২১ ডিসেম্বর ২০২৫) রাজধানীতে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
প্রতিষ্ঠান মেরামত: ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম বলেন, "তারেক রহমানের জন্য এটি অত্যন্ত সম্ভাবনাময় সময়। বাংলাদেশ এখন এক ধ্বংসপ্রায় অবস্থার মধ্যে আছে, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো ভেঙে পড়েছে। এগুলো মেরামত করাই হবে প্রধান কাজ।"
সহনশীলতার রাজনীতি: প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান মনে করেন, আগামী দিনে সরকার গঠন করা হবে বাংলাদেশের গত ৫০ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে কঠিন সময়। তিনি বলেন, "বিএনপির কাছ থেকে আরও বেশি সহ্যশক্তি এবং সমালোচনা গ্রহণের মানসিকতা প্রত্যাশা করি। নেতৃত্বের আচরণ ও বিনয় এখন সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।"
জাতীয় ঐক্য ও নিরাপত্তা: রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. মাহবুব উল্লাহ ও ড. দিলারা চৌধুরীর মতে, তৃণমূলের কোন্দল নিরসন, বিদ্রোহী প্রার্থী সামাল দেওয়া এবং নির্বাচনের আগে জাতীয় ঐক্য বজায় রাখা তারেক রহমানের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে ৫ আগস্টের পর তৈরি হওয়া ঐক্যের ফাটল জোড়া দেওয়া এবং ডিজিটাল অপপ্রচার (Cyber Propaganda) মোকাবিলায় বিএনপিকে সজাগ থাকতে হবে।
ভূ-রাজনীতি ও অভ্যন্তরীণ শক্তি: গবেষক আলতাফ পারভেজ সতর্ক করে বলেন, বাংলাদেশকে 'ফেইল স্টেট' বানানোর আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ ষড়যন্ত্র রয়েছে। একদিকে পতিত শক্তির ফিরে আসার চেষ্টা এবং অন্যদিকে দক্ষিণপন্থী রাজনীতির উত্থান মোকাবিলা করতে তারেক রহমানকে একটি দক্ষ ও দেশপ্রেমিক মধ্যপন্থী রাজনৈতিক টিম গঠন করতে হবে।
বিএনপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি মনে করেন, তারেক রহমানের বক্তব্যে জিয়াউর রহমানের সেই আধুনিক বাংলাদেশের স্বপ্ন প্রতিফলিত হচ্ছে। বিএনপি বর্তমানে রাষ্ট্র মেরামতের '৩১ দফা' বাস্তবায়নের অঙ্গীকার নিয়ে জনগণের আস্থা অর্জনের চেষ্টা করছে। মাঠ পর্যায়ের বিশ্লেষকরা বলছেন, দীর্ঘ ১৭ বছর পর সেনাপতির মতো সামনে থেকে তারেক রহমানের নেতৃত্ব প্রদান বিএনপির কর্মীদের মাঝে ত্বরিত জাগরণ তৈরি করবে, যা ২০২৫-এর নির্বাচনি ময়দানের চিত্র বদলে দিতে পারে।
সুত্রসমূহ: ১. দৈনিক যুগান্তর (বিশেষ প্রতিবেদন ও সাক্ষাৎকার)। ২. ডেইলি স্টার ও প্রথম আলো (সম্পাদকীয় ও মতবিনিময় সভার কার্যবিবরণী)। ৩. বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস: ১৯৫০-২০২৫ (গুগল এনালাইসিস ও ঐতিহাসিক আর্কাইভ)।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |