নিজস্ব প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ঢাকা-৮ আসন সবসময়ই ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে পরিচিত। সেই আসনেই ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদিকে লক্ষ্য করে চালানো বর্বরোচিত হামলা দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। দীর্ঘ কয়েক দশকের রাজনৈতিক সংঘাতের ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালের এই ঘটনাটি নতুন করে ভাবিয়ে তুলছে দেশবাসীকে।
মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) রাতে র্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শরিফ ওসমান হাদিকে হত্যাচেষ্টায় ব্যবহৃত তিনটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এর আগে ১৭ ডিসেম্বর ভোরে এই ঘটনায় সরাসরি জড়িত শুটার ফয়সালের বাবা-মাকে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গোয়েন্দা তথ্যে উঠে এসেছে, হাদিকে সরিয়ে দিতে ‘কোটি টাকার মিশন’ নিয়ে মাঠে নেমেছিল একাধিক শুটার গ্রুপ।
গত ১২ ডিসেম্বর শুক্রবার দুপুরে পল্টন এলাকায় প্রকাশ্যে গুলিবিদ্ধ হন ওসমান হাদি। প্রথমে ঢাকা মেডিকেল এবং পরবর্তীতে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর, ১৪ ডিসেম্বর প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নির্দেশে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে পৌঁছানোর পর নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। এ ঘটনায় সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীসহ সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে সার্বক্ষণিক তদারকি করা হচ্ছে।
ওসমান হাদির ওপর এই হামলা কেবল বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, এ দেশের সাহসী কণ্ঠস্বরদের বারবার স্তব্ধ করার চেষ্টা করা হয়েছে।
১৯৫০-১৯৭০: স্বাধিকারের লড়াই বনাম দমন-পীড়ন: ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানে ছাত্রদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালানো হয়েছিল। সেই সময়কার ছাত্রনেতারা বলেছিলেন, "যতই গুলি করো, আমাদের আদর্শকে মারতে পারবে না।"
১৯৯০-এর পটপরিবর্তন: নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনেও রাজপথে রক্ত ঝরেছে। ১৯৯০ সালের ২৭ নভেম্বর ডা. মিলনের আত্মত্যাগ ছিল গণতন্ত্রের পথে এক বড় টার্নিং পয়েন্ট।
২০২৪-এর বিপ্লব ও ২০২৫-এর বাস্তবতা: ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান ছিল স্বৈরাচারী ব্যবস্থার বিরুদ্ধে চূড়ান্ত প্রতিবাদ। ২০২৫ সালে এসে যখন একটি গণতান্ত্রিক ও সংস্কারমুখী রাষ্ট্র গঠনের প্রক্রিয়া চলছে, ঠিক তখনই ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্রের ওপর হামলা প্রমাণ করে যে, পরাজিত শক্তিগুলো এখনও সক্রিয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ঢাকা-৮ আসনের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় একজন স্বতন্ত্র প্রার্থীর ওপর হামলা মানেই হলো নতুন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক পথচলাকে বাধাগ্রস্ত করা। এই ঘটনার পর বিভিন্ন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন:
"১৯৫২ সালে যারা আমাদের কণ্ঠরোধ করতে চেয়েছিল, আর ২০২৫ সালে যারা ওসমান হাদির ওপর গুলি চালিয়েছে, তাদের চরিত্র একই। এরা ক্ষমতার লোভে রক্তের হোলি খেলতে চায়।"
গোয়েন্দা সূত্রগুলো বলছে, হাদিকে হত্যাচেষ্টার নেপথ্যে একটি গভীর ষড়যন্ত্র কাজ করছে যা কেবল নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা নয়, বরং রাষ্ট্রীয় অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির লক্ষ্যেই পরিচালিত।
বিশ্লেষণ: ১৯৫০-এর দশকে শুরু হওয়া অধিকার আদায়ের রাজনীতি ২০২৫ সালে এসেও অস্ত্রের মুখে পড়ার ঘটনাটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তবে বর্তমান প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ এবং অপরাধীদের চিহ্নিত করার প্রচেষ্টা ইতিবাচক। ওসমান হাদির ওপর গুলিবর্ষণ কেবল একজন ব্যক্তির ওপর নয়, বরং স্বাধীন মতপ্রকাশের ওপর আঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সূত্র: ইনকিলাব মঞ্চ প্রেস রিলিজ, র্যাব সদর দপ্তর সংবাদ বিজ্ঞপ্তি, বাংলাদেশ প্রতিদিন আর্কাইভ এবং সরকারি বিশেষ সেল।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |