প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
রাজধানীর মিরপুরে শুক্রবার (১০ অক্টোবর ২০২৫) সন্ধ্যার এক মতবিনিময় সভায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ক্ষমতায় এলে প্রথম অগ্রাধিকার হবে শিক্ষা ব্যবস্থা সংস্কার; নৈতিক শিক্ষাকে কেন্দ্র করে মানুষ তৈরি করা গেলে লুটপাট কমবে এবং সাম্যতা প্রতিষ্ঠিত হবে। একই সঙ্গে তিনি অর্থখাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, বিদেশি বিনিয়োগের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান। সভায় তিনি আরও বলেন—আগামী জাতীয় নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রে শক্ত পাহারা দিতে হবে; কেউ ভোট ডাকাতির চেষ্টা করলে প্রতিহত করতে হবে।
শিক্ষা-সংস্কার আগে: ক্ষমতায় গেলে প্রথম কাজ হবে শিক্ষা ব্যবস্থার কাঠামোগত সংস্কার; যাতে শিক্ষার্থী সনদের পাশাপাশি কর্মসংস্থানে সক্ষমতা পায় এবং নৈতিকতার চর্চা জোরদার হয়। এই অবস্থান তিনি ২০২৫ সালজুড়েই বিভিন্ন মঞ্চে পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
অর্থনীতি ও বিনিয়োগ নিরাপত্তা: আর্থিক শৃঙ্খলা, দুর্নীতিনিয়ন্ত্রণ এবং বিদেশি বিনিয়োগের নিরাপত্তা নিশ্চিতের প্রতিশ্রুতি—মিরপুরের বক্তব্যে পুনরুল্লেখ।
ভোট ডাকাতি প্রতিরোধ: ভোটের দিন কেন্দ্র পাহারা ও কারচুপি প্রতিরোধে কঠোর বার্তা; সাম্প্রতিক সভা–সমাবেশ ও বক্তব্যগুলোতেও তিনি কারচুপি-বিরোধী জিরো টলারেন্স দেখিয়ে আসছেন।
এই বছরের বিভিন্ন আয়োজনে জামায়াত জনগণের দাবিনির্ভর শাসন, দ্রুত বিচার ও শিক্ষা-সংস্কারের রূপরেখা সামনে এনেছে। সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে ঢাকায় ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে এক অনুষ্ঠানে ডা. শফিকুর বলেন—ক্ষমতায় এলে নাগরিকদের রাস্তায় নামতে হবে না; রাষ্ট্রশক্তি মানুষের সেবায় নিয়োজিত থাকবে।
অন্যদিকে, নির্বাচনি প্রক্রিয়া নিয়ে দলটি ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন ও পিআর (Proportional Representation)–ভিত্তিক ভোটব্যবস্থা গণভোটে তোলার দাবিও তুলেছে—যা নিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে আলোচনাও তুঙ্গে।
দলীয় বক্তব্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের বর্তমান শিক্ষা কাঠামো কর্মভিত্তিক দক্ষতা ও নৈতিকতা তৈরিতে পিছিয়ে আছে; ফলে সনদধারী তরুণদের বড় অংশ চাকরি-অন্বেষণে ভোগান্তি পোহায়। এই প্রেক্ষাপটে জামায়াত ‘সার্টিফিকেট-টু-জব’–ধারার একটি কারিকুলাম, টেক-ভোকেশনাল ও উদ্যোক্তা-কেন্দ্রিক সংস্কারের কথা বলে আসছে। বছরের মাঝামাঝি ঢাকায় এক কর্মসূচিতে ডা. শফিকুর বলেন—“প্রথম পদক্ষেপ হবে ব্যাপক শিক্ষা-সংস্কার।”
গত কয়েক সপ্তাহে দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড ও কারচুপি-বিরোধী অবস্থান জোর দিয়ে বলে আসছে। মিরপুরের সভায় আমিরের কেন্দ্র পাহারার ডাক সেই ধারাবাহিকতার সাম্প্রতিকতম প্রতিধ্বনি—যেখানে তিনি দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের সুশৃঙ্খলভাবে উপস্থিত থেকে ভোট সুরক্ষার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা-রক্ষাকারী বাহিনীকে নিরপেক্ষ ভূমিকার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন—পূর্বতন বক্তব্যগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে।
কালের কণ্ঠ — “ভোট ডাকাতি করতে এলে হাত ভেঙে দিতে হবে: জামায়াত আমির” (প্রকাশ: ১১ অক্টোবর ২০২৫)।
The Business Standard — “If Jamaat comes to power, citizens won’t need to take to the streets: Shafiqur” (প্রকাশ: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫)।
Dhaka Tribune — “Present education system must be reformed; first step if Jamaat comes to power” (প্রকাশ: ৯ জুন ২০২৫)।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |