| বঙ্গাব্দ

সংসদ ছাড়া সংস্কার টেকসই নয়: আনিসুল ইসলাম—১৯৫২-২০২৫ রাজনীতির প্রেক্ষাপটে আগামীর নির্বাচনের রূপরেখা

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 20-09-2025 ইং
  • 3984179 বার পঠিত
সংসদ ছাড়া সংস্কার টেকসই নয়: আনিসুল ইসলাম—১৯৫২-২০২৫ রাজনীতির প্রেক্ষাপটে আগামীর নির্বাচনের রূপরেখা
ছবির ক্যাপশন: আনিসুল ইসলাম

সংসদ ছাড়া সংস্কারের আইনি ভিত্তি নেই’: আনিসুল ইসলামের হুঁশিয়ারি, ১৯৫২-২০২৫ রাজনীতির আলোকে আগামীর নির্বাচনের রূপরেখা

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

শনিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ঢাকার গুলশান হাওলাদার টাওয়ারে সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় পার্টির (একাংশ) চেয়ারম্যান আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন—জাতীয় সংসদ ছাড়া কোনো সংস্কার টেকসই আইনি ভিত্তি পাবে না। তার ভাষ্য, “যেনতেন নির্বাচন সমাধান নয়; নির্বাচন হতে হবে গ্রহণযোগ্য, বিশ্বাসযোগ্য ও ট্রান্সপারেন্ট।” একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে দেন—বিএনপি-জামায়াতসহ বড় রাজনৈতিক শক্তি বাদ গেলে, আগামীর নির্বাচন ২০২৪ সালের মতো একপেশে হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। বক্তব্যে তিনি প্রশাসন-বিচারালয়ে দলীয়করণের সমালোচনা করেন এবং লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড ছাড়া সুষ্ঠু ভোট সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেন। ঘটনাস্থল, বক্তব্যের সারবত্তা ও সময়স্থান আজকের একাধিক গণমাধ্যমে মিলে নিশ্চিত হয়েছে। 

কী বললেন আনিসুল ইসলাম মাহমুদ—সংক্ষেপে

  • আইনি ভিত্তি: নির্বাচিত সংসদ ব্যতীত সংস্কারের কোনো ফাউন্ডেশন দাঁড়াবে না; বাইরে থেকে চাপিয়ে দেওয়া সংস্কারও টেকসই নয়। (সংবাদ সম্মেলনের সারকথা) 

  • একপেশে ভোটের আশঙ্কা: BNP-জামায়াতকে বাদ দিলে ২০২৪-এর মতো ভোটার অনীহা ও স্বল্প অংশগ্রহণ দেখা দিতে পারে।

  • প্রশাসন ও প্রতিষ্ঠান: আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও আমলাতন্ত্রে দলীয়করণ নিরপেক্ষ নির্বাচনের পথে বড় বাধা।

  • জাপা’র অবস্থান: জাতীয় পার্টি “বিপ্লবী” দল নয়—ভাঙচুর নয়, নির্বাচন-পার্লামেন্টের পথে রাজনীতি। (সংবাদ সম্মেলনের বক্তব্য) 


প্রেক্ষাপট: ১৯৫২-২০২৫—রাজনীতি, নির্বাচন ও সংস্কারের রেখাচিত্র

১৯৫২—ভাষা আন্দোলন: পূর্ব পাকিস্তানে রাষ্ট্রভাষা দাবিতে ছাত্র-জনতার রক্তে ‘২১ ফেব্রুয়ারি’ ইতিহাসে অমর। 
১৯৫৪—যুক্তফ্রন্ট বিজয়: মুসলিম লীগের পরাজয়ে বাঙালি জাতীয়তাবোধ-নির্ভর রাজনীতির উত্থান। 
১৯৬৬—ছয় দফা: শেখ মুজিবের স্বায়ত্তশাসনের রূপরেখা স্বাধীনতার পথ খুলে দেয়। 
১৯৬৯—গণঅভ্যুত্থান: আইয়ুব পতন; ছাত্র-সমাজের ভূমিকাই ছিল চালিকাশক্তি। 
১৯৭১—মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা: বাঙালির রাষ্ট্রগঠন সম্পন্ন। 
১৯৯০—স্বৈরাচার পতন: এরশাদ বিদায়; গণতন্ত্রপুনরুদ্ধারের মোড়। 
১৯৯১—সংসদীয় পদ্ধতি ফেরত (১২তম সংশোধনী গণভোট): সংসদীয় গণতন্ত্রে প্রত্যাবর্তন। 
১৯৯৬—তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রবর্তন (১৩তম সংশোধনী): নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের সাংবিধানিক কাঠামো।
২০১১—তত্ত্বাবধায়ক বিলুপ্ত (১৫তম সংশোধনী): নির্বাচনকালীন কাঠামো বদলে বিরোধ-অবিশ্বাস বাড়ে। 
২০১৪—একতরফা ভোট, কম অংশগ্রহণ: বিরোধী বয়কটে বহু আসনে অপ্রতিদ্বন্দ্বী জয়; অংশগ্রহণ ও বৈধতা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন। 
২০১৮—সহিংসতা-বিতর্কে ভোট: চতুর্থবারের মতো আওয়ামী লীগ জোটের বড় জয়ের সাথে স্বচ্ছতা নিয়ে সমালোচনা। 
২০২৪—৭ জানুয়ারি নির্বাচন: বিরোধী বয়কট, কম টার্নআউট—আন্তর্জাতিক মহলে ‘ফ্রি-ফেয়ার’ নিয়ে প্রশ্ন। 
২০২৪—৫ আগস্ট: ছাত্রনেতৃত্বাধীন বিক্ষোভ-সংকটে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগ; নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার—বহু আন্তর্জাতিক মাধ্যমে নিশ্চিত। 
২০২5—রাজনৈতিক বাস্তবতা: অন্তর্বর্তী সরকারের নানা পদক্ষেপ ও দলবদল, এবং আসন্ন নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে টানাপোড়েন; বড় দল বাদ গেলে ২০২৪-এর পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা—আজকের জাপা নেতার বার্তা। 

বিশ্লেষণ: এই ধারাবাহিকতা দেখায়—বাংলাদেশে নির্বাচনী কাঠামো ও আইনগত ভিত্তি যতবার রাজনৈতিক ঐকমত্যের বাইরে বদলেছে, ততবারই অংশগ্রহণ ও গ্রহণযোগ্যতা কমেছে। ১৯৯৬-এ ১৩তম সংশোধনী ঐকমত্যে এসেছিল; ২০১১-তে ১৫তম সংশোধনী সেই কাঠামো সরালে অবিশ্বাস ফিরে আসে। ২০২৪-এর কম অংশগ্রহণ ও বয়কট সেই আস্থাহীনতারই সাম্প্রতিক প্রতিফলন।

ছাত্ররাজনীতি ও “লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড”

ভাষা আন্দোলন (১৯৫২), গণঅভ্যুত্থান (১৯৬৯), ১৯৯০-এর গণআন্দোলন—প্রতিবারই ছাত্রসমাজ পরিবর্তনের অগ্রনায়ক। ২০২৪-এও ছাত্রদের আন্দোলন রাজনীতির গতিপথ বদলিয়েছে; ফলে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত না হলে ভোটার-আস্থা ফেরানো কঠিন—এটাই আজকের রাজনীতির প্রধান শিক্ষা।


আগামীর ভোট—ঝুঁকি ও করণীয় (নীতিপরামর্শমূলক আলোচনা)

  1. আইনি ভিত্তি সংসদে: সংস্কার কমিশন বা পরামর্শক দল যা-ই প্রস্তাব দিক, চূড়ান্ত রূপ দিতে হবে নির্বাচিত সংসদের আইন প্রণয়ন-পথে—এতে স্থায়িত্ব ও গ্রহণযোগ্যতা বাড়ে। (প্রেক্ষাপটনির্ভর বিশ্লেষণ)

  2. অন্তর্ভুক্তিমূলক অংশগ্রহণ: প্রধান সব রাজনৈতিক শক্তির অংশগ্রহণই ভোটার উপস্থিতি ও বৈধতার মূল চালক—২০১৪/২০২৪-এর অভিজ্ঞতা সতর্কবার্তা দেয়। 

  3. প্রশাসন-আইনশৃঙ্খলা নিরপেক্ষতা: নিযুক্তি, বদলি ও মাঠপর্যায়ের অপারেশনে দলীয় প্রভাবমুক্ত ফ্যামিলি-সিলভার সংস্কার জরুরি—না হলে একটি পক্ষই ‘একপেশে সুবিধা’ পেয়ে যায়; আজকের জাপা নেতার অভিযোগও সেদিকেই ইঙ্গিত।

  4. টেকনিক্যাল আস্থাবৃদ্ধি: ভোটার তালিকা-ইভিএম/কাগুজে ব্যালট সিদ্ধান্ত, গণমাধ্যম প্রবেশাধিকার, পর্যবেক্ষক নিরাপত্তা—সবই আগেভাগে আইন/বিধি দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে। (সমষ্টিগত বিশ্লেষণ)

ঘটনাটির খবর-ভিত্তি (২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫)

  • স্থান-সময়: গুলশান, হাওলাদার টাওয়ার; শনিবার দুপুর।

  • মূল বার্তা: ২০২৪-এর পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে অন্তর্ভুক্তিমূলক, স্বচ্ছ, আইনসম্মত নির্বাচন অপরিহার্য—না হলে ভোটার অনীহা থাকবে। উক্তিগুলি আজ bdnews24The Financial Express-এ প্রকাশিত প্রতিবেদনেও সপষ্ট।

উপসংহার

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস দেখিয়েছে—আইনসম্মত কাঠামো + অন্তর্ভুক্তিমূলক অংশগ্রহণ + নিরপেক্ষ প্রশাসন—এই তিন স্তম্ভ ছাড়া কোনো নির্বাচন টেকসই গ্রহণযোগ্যতা পায় না। তাই আনিসুল ইসলাম মাহমুদের “সংসদ ছাড়া সংস্কারের আইনি ফাউন্ডেশন নেই” মন্তব্যটি কেবল দলীয় অবস্থানের বক্তব্য নয়; বরং ১৯৫২-২০২৫ সময়রেখার অভিজ্ঞতার সাথেই মিলে যায়।


সূত্র

  1. bdnews24: Upcoming election could mirror ‘one-sided’ 2024 polls… (প্রকাশিত: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫) ।

  2. Reuters: Sheikh Hasina resigned…; Yunus named chief adviser of interim government (৬-৮ আগস্ট ২০২৪ ধারাবাহিক প্রতিবেদন)। 

  3. Al Jazeera: Bangladesh counts votes in low-turnout election boycotted by opposition (৭ জানুয়ারি ২০২৪)। 


    প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
    আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency