| বঙ্গাব্দ

তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনে কোম্পানির মতামত নিয়ে প্রজ্ঞার আপত্তি

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 24-07-2025 ইং
  • 3543411 বার পঠিত
তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনে কোম্পানির মতামত নিয়ে প্রজ্ঞার আপত্তি
ছবির ক্যাপশন: তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন

তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনে তামাক কোম্পানির মতামত গ্রহণের উদ্যোগে প্রজ্ঞার উদ্বেগ

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
তারিখ: ২৪ জুলাই ২০২৫, বৃহস্পতিবার


ঢাকা:
তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধনের প্রক্রিয়ায় তামাক কোম্পানিগুলোর মতামত গ্রহণের উদ্যোগকে উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেছে তামাকবিরোধী গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি সংস্থা প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান)। সংস্থাটি বলেছে, এ ধরনের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে তা আন্তর্জাতিক চুক্তি এফসিটিসি (FCTC) অনুচ্ছেদ ৫.৩ ও গাইডলাইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হবে।

বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে প্রজ্ঞা এই অবস্থান জানায়।

কী বলা হয়েছে প্রজ্ঞার বিবৃতিতে?

প্রজ্ঞা জানিয়েছে, তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন, বিধিমালা বা নীতিমালায় তামাক কোম্পানির মতামত গ্রহণ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অন টোব্যাকো কন্ট্রোল (WHO FCTC)–এর নীতিমালার পরিপন্থী।

বাংলাদেশ ২০০৩ সালে FCTC তে স্বাক্ষর করে এবং ২০০৮ সালে এর গাইডলাইন অনুসারে জাতীয় পদক্ষেপ গ্রহণে অঙ্গীকারবদ্ধ হয়। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে অনুচ্ছেদ ৫.৩ অনুযায়ী একটি গাইডলাইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করছে।

আইন সংশোধনের প্রেক্ষাপট

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় ২০২১ সালে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনকে আরও কার্যকর করতে একটি সংশোধনী খসড়া তৈরি করে। এটি মতামত গ্রহণ, আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকসহ একাধিক ধাপ অতিক্রম করে ২০২৪ সালের ৭ নভেম্বর উপদেষ্টা পরিষদে পাঠানো হয়

এরপর গঠিত হয় একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন উপদেষ্টা কমিটি, যার সর্বশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় ১৩ জুলাই ২০২৫। ওই বৈঠকে তামাক কোম্পানিগুলোর মতামত নেওয়ার প্রস্তাব ওঠে, যা নিয়েই প্রজ্ঞা উদ্বেগ জানিয়েছে।

প্রজ্ঞার বক্তব্য

সংস্থার নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়ের বলেন—

“তামাক কোম্পানির সঙ্গে আলোচনা ও তাদের মতামত গ্রহণ আন্তর্জাতিক চুক্তির স্পষ্ট লঙ্ঘন। এটি বন্ধ করা না হলে তামাক নিয়ন্ত্রণে সরকারের অর্জনগুলো হুমকির মুখে পড়বে।”

তিনি জোর দিয়ে বলেন, “এই সিদ্ধান্ত অবিলম্বে বাতিল করে খসড়া সংশোধনী দ্রুত জাতীয় সংসদে পাস করতে হবে।

FCTC অনুচ্ছেদ ৫.৩ কী বলে?

Article 5.3 of FCTC অনুসারে—

“তামাক কোম্পানিগুলোর কোনো প্রকার প্রভাব, অংশগ্রহণ কিংবা প্রস্তাব তামাক নিয়ন্ত্রণ নীতিমালার সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।”

এটি সদস্য রাষ্ট্রকে নির্দেশ দেয়, তামাক শিল্পের স্বার্থকে প্রভাবিত না করে জনস্বাস্থ্যের পক্ষে নীতি প্রণয়ন করতে হবে।

বিশ্লেষণ

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তামাক কোম্পানির মতামত নেওয়া মানেই নীতিগত স্বার্থের সংঘাত তৈরি হওয়া। অনেক সময় এসব কোম্পানি নিজেদের ব্যবসায়িক স্বার্থে আইনকে দুর্বল করার প্রস্তাব দেয়।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. রাশেদুল করিম বলেন,

“যেখানে শত শত মানুষ প্রতিদিন তামাকজনিত রোগে মারা যাচ্ছে, সেখানে কোম্পানির ‘পরামর্শ’ গ্রহণ করা রীতিমতো আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত।”

সারাংশ:

বিষয়বিস্তারিত
বিতর্কতামাক কোম্পানির মতামত গ্রহণ
আপত্তিকারীপ্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান)
আন্তর্জাতিক চুক্তিWHO FCTC, Article 5.3
সংশোধন প্রক্রিয়া শুরু২০২১
খসড়া উপস্থাপন৭ নভেম্বর ২০২৪
সর্বশেষ বৈঠক১৩ জুলাই ২০২৫
প্রজ্ঞার দাবিসিদ্ধান্ত বাতিল ও খসড়া পাসের দাবি
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

সূত্র: প্রজ্ঞার প্রেস বিজ্ঞপ্তি, WHO FCTC ডকুমেন্টেশন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের আইন সংশোধনী তথ্য

আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency