"বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা হবে একযোগে কাজ করে" - তারেক রহমান
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ঢাকা, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৫: বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, গত বছরের জুলাই মাসে ছাত্র-জনতার নজিরবিহীন গণঅভ্যুত্থানে ৫ আগস্ট ইতিহাসের এক ভয়ঙ্কর স্বৈরশাসনের পতন ঘটে। তিনি বলেন, "এখন ঐক্যবদ্ধভাবে বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে আমাদের একযোগে কাজ করে যেতে হবে। আমাদের রাষ্ট্র মেরামতের ভিত্তি হবে অবাধ, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন, বিচার বিভাগ ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং গণতন্ত্রের সকল মূলনীতির প্রাতিষ্ঠানিক প্রয়োগ।"
এটি তিনি আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস উপলক্ষে, রোববার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বাণীতে জানান।
তারেক রহমান বলেন, "গণতন্ত্র হলো একটি সর্বজনীন মূল্যবোধ ও রাজনৈতিক পদ্ধতি, জনগণের নিজস্ব রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিসর নির্ধারণে স্বাধীনভাবে প্রকাশিত ইচ্ছা এবং জীবনের সকল ক্ষেত্রে তাদের পূর্ণ অংশগ্রহণের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে।"
তিনি আরও বলেন, "শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করেছিলেন একদলীয় বাকশালের আগ্রাসী থাবা থেকে। তার কালজয়ী দর্শন বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদের মর্মমূলে ছিল বহুদলীয় গণতন্ত্র।"
"আর প্রকৃত গণতন্ত্রের ভিত্তিই হচ্ছে— মানবিক মর্যাদা, ব্যক্তি ও বাক-স্বাধীনতা, এবং সামাজিক ন্যায়বিচার ও সাম্য। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া অগ্রগামী করেছিলেন শহীদ জিয়ার চিন্তা ও দর্শনকে,"—বলেন তারেক রহমান।
তারেক রহমান বাংলাদেশে স্বাধীনতার পর থেকেই বারবার স্বৈরতন্ত্র হানা দেয়ার কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, "রাজনৈতিক দল ও সংবাদপত্র নিষিদ্ধ করা, মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা, ভুয়া ভোটার দিয়ে নির্বাচন করা, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করা ইত্যাদি অনাচার করা হয়েছে রাষ্ট্রশক্তিকে হাতের মুঠোয় নিয়ে।"
তিনি আরো বলেন, "একটি ভীতিকর ও কর্তৃত্ববাদী পরিবেশ গড়ে তোলা হয়েছিল, ক্ষমতাকে চিরস্থায়ীভাবে ধরে রাখার স্বপ্নে বিভোর হয়ে। গত দেড় দশক আওয়ামী ফ্যাসিবাদের আত্মপ্রকাশে গণতন্ত্র ছিল অবরুদ্ধ, বন্দী রাখা হয়েছিল সারাজাতিকে। গণতন্ত্রের নীতিমালা প্রচার ও সমুন্নত রাখার যেকোন প্রচেষ্টাকেই পতিত আওয়ামী সরকার নির্দয়ভাবে প্রতিহত করেছে।"
তারেক রহমান গণতন্ত্র দিবসের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় নিয়ে বলেন, "এবারের আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবসের মূল প্রতিপাদ্য- ‘এ্যাচিভিং জেন্ডার ইকুইলিটি একশন বাই একশন’ অর্থাৎ পদক্ষেপের পর পদক্ষেপ গ্রহণ করে লিঙ্গ সমতা অর্জন করতে হবে।"
তিনি বলেন, "গণতন্ত্রে নারী-পুরুষ বা অন্য যেকোন লিঙ্গের মানুষ লিঙ্গ নির্বিশেষে সকলের সমান সুযোগ ও মর্যাদা লাভ করে। এটি একটি মূল মানবাধিকার। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র-সমাজে কেউ বঞ্চনার শিকার হলে জোরালো প্রতিবাদের পরিবেশ থাকে, সে কারণে নারী-পুরুষ বা অন্য যেকোন লিঙ্গের ভেদরেখা তীব্র হতে পারে না এবং ক্রমান্বয়ে সমানাধিকার নিশ্চিত হওয়ার পথে অগ্রসর হয়।"
এদিকে, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, "দেশবাসী ১৬ বছর এক ভয়াবহ দুর্দিন অতিক্রম করে গত বছর **জুলাই-আগস্টে ঐতিহাসিক রক্তস্নাত আন্দোলনের মাধ্যমে বিজয় অর্জন করলেও এখনও পূর্ণ গণতন্ত্র আসেনি।" তিনি আরও বলেন, "অবাধ, মুক্ত ও নিরপেক্ষ নির্বাচন গণতন্ত্রের অন্তর্ভুক্ত। গণতন্ত্রকে স্থায়ী রুপ দিতে হলে নিরপেক্ষ নির্বাচনের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে হবে। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ, সর্বজনীন শিক্ষা এবং সামাজিক ন্যায়বিচার ছাড়া প্রকৃত গণতন্ত্র সম্ভব নয়।"
তারেক রহমান, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং বেগম খালেদা জিয়া এর মত নেতারা তাদের বক্তব্যে দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন। ভবিষ্যতের রাজনৈতিক পরিবেশে গণতন্ত্র, নির্বাচনী স্বাধীনতা, বিচার বিভাগ এবং লিঙ্গ সমতার দিকে অগ্রসর হওয়ার দিকে নজর দেওয়া হবে।
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |