প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ঢাকা ডেস্ক: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজধানী ঢাকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আসন ঢাকা-৮ (রমনা-মতিঝিল) আসনে জয় ছিনিয়ে নিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদ। হাড্ডাহাড্ডি লড়াই শেষে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী ও বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে ৫ হাজার ২৩৯ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেছেন তিনি। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) ভোর রাত পৌনে ৪টার দিকে ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার ও রিটার্নিং কর্মকর্তা শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী আনুষ্ঠানিকভাবে এ ফলাফল ঘোষণা করেন।
রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এই আসনের ১০৯টি কেন্দ্রের মধ্যে ১০৮টিতে সরাসরি ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ফলাফল বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় পোস্টাল ব্যালট এই নির্বাচনে বড় ভূমিকা পালন করেছে।
| প্রার্থীর নাম | রাজনৈতিক দল | প্রতীক | কেন্দ্র ভোট | পোস্টাল ভোট | মোট ভোট |
| মির্জা আব্বাস | বিএনপি | ধানের শীষ | ৫৬,৫৫২ | ২,৮১৪ | ৫৯,৩৬৬ |
| নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী | এনসিপি | কলি | ৫১,৫৭২ | ২,৫৫৫ | ৫৪,১২৭ |
| কেফায়েত উল্লাহ | ইসলামী আন্দোলন | হাতপাখা | - | - | ১,৪৩৬ |
| মেঘনা আলম | গণঅধিকার পরিষদ | ট্রাক | - | - | ৬০৮ |
নির্বাচনী পরিসংখ্যান:
মোট ভোটার: ২,৭৫,৪৭৪ জন।
প্রদত্ত ভোট: ১,২০,৪৮৪টি।
বাতিল ভোট: ২,৮১৭টি।
বৈধ ভোট: ১,১৭,৬৬৭টি।
পোস্টাল ব্যালট: মোট ৮,৯৯২ জনের মধ্যে ভোট দিয়েছেন ৬,০১২ জন।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস পর্যালোচনায় দেখা যায়, ঢাকা-৮ আসনটি সব সময়ই ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
১৯০০-১৯৪৭: ব্রিটিশ আমলে ঢাকার এই অঞ্চলটি ছিল প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক আন্দোলনের প্রাণকেন্দ্র। ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের সময় থেকেই মতিঝিল ও রমনা এলাকা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে মুখর ছিল।
১৯৫২-১৯৭১: ৫২-র ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধ—ঢাকার প্রতিটি রাজপথ সাক্ষী হয়ে আছে বাঙালিদের আত্মত্যাগের। ৭১-এর ১৬ ডিসেম্বর এই রমনা রেসকোর্স ময়দানেই (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) অর্জিত হয়েছিল চূড়ান্ত বিজয়।
১৯৯০-২০২৪: নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে মির্জা আব্বাসের মতো নেতারা সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। পরবর্তীতে দীর্ঘ ১৫ বছর ভোটবঞ্চিত থাকার পর ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান দেশে গণতন্ত্রের নতুন সুযোগ তৈরি করে।
২০২৬-এর নির্বাচন: ২০২৫ সাল জুড়ে রাষ্ট্র সংস্কারের কাজ শেষে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনটি ছিল প্রকৃত অর্থেই জনগণের ভোটাধিকার প্রয়োগের এক মহাউৎসব। সিইসি’র ভাষ্যমতে, "ইসি একটি বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে সক্ষম হয়েছে।"
বিজয়ী হওয়ার পর এক তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় মির্জা আব্বাস বলেন, "এই জয় গণতন্ত্রকামী মানুষের জয়। আমরা প্রতিহিংসার রাজনীতি চাই না, বরং উন্নয়নের মাধ্যমে ঢাকাকে আধুনিক শহর হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।"
অন্যদিকে, নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী পরাজয় মেনে নিয়ে বলেন, "মানুষের ভোটাধিকার ফিরে আসাই আমাদের আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ছিল। জয়-পরাজয় বড় কথা নয়, গণতন্ত্রের জয় হয়েছে এটাই বড়।"
রাজনৈতিক বিশ্লেষক বিডিএস বুলবুল আহমেদ মনে করেন, অভিজ্ঞ রাজনীতিক মির্জা আব্বাসের বিপরীতে তরুণ তুর্কি নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর এই লড়াই প্রমাণ করে যে দেশের মানুষ এখন প্রবীণ ও নবীনের সমন্বয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ নেতৃত্ব প্রত্যাশা করছে।
১৯০০ সালের সেই পরাধীনতার শৃঙ্খল ভাঙার আকাঙ্ক্ষা আজ ২০২৬ সালে এসে এক আধুনিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্নে রূপান্তরিত হয়েছে। ঢাকা-৮ আসনের এই ফলাফল জাতীয় রাজনীতিতে এক নতুন বার্তা প্রদান করল। জামায়াত আমিরের সেই কালজয়ী উক্তি আবারও স্মর্তব্য— "রাজনীতি মানুষের জন্য হলে, পাস করার গ্যারান্টি নিয়ে নির্বাচন হয় না; মানুষ যেভাবে গ্রহণ করবে, সেটাকেই সম্মান জানাতে হবে।"
সূত্র: ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়, যুগান্তর, বাংলাদেশ প্রতিদিন ডিজিটাল আর্কাইভ, নির্বাচন কমিশন সচিবালয় (২০২৬) এবং ঐতিহাসিক গেজেট।
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |