ফ্লাইট এক্সপার্ট বন্ধ: অনিশ্চয়তায় হাজারো গ্রাহক, কোটি টাকার টিকিট ঝুঁকিতে
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
তারিখ: ৩ আগস্ট ২০২৫
সূত্র: কালের কণ্ঠ, সরেজমিন প্রতিবেদন
বাংলাদেশের অন্যতম অনলাইন টিকিট বুকিং প্ল্যাটফর্ম ‘ফ্লাইট এক্সপার্ট’ হঠাৎ করে কার্যক্রম গুটিয়ে নেওয়ায় সারা দেশের ভ্রমণসেবা খাত চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে।
শনিবার (২ আগস্ট) বিকেলে প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইট হঠাৎ করে বন্ধ হয়ে গেলে এবং মতিঝিলের প্রধান কার্যালয়ে তালা ঝুলতে দেখা গেলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে হাজারো গ্রাহক ও ট্রাভেল এজেন্সির মধ্যে।
মতিঝিলে ভুক্তভোগীদের ভিড়ের মধ্যে কান্নায় ভেঙে পড়েন ‘ইউনিয়ন ট্রাভেলস’ নামের একটি এজেন্সির মালিক। তার ভাষ্য—
“সব শেষ ভাই, আমার ২৫-৩০ লাখ টাকা নেই। আমি শেষ। সব টিকিট ফ্লাইট এক্সপার্টের মাধ্যমে কেটেছিলাম।”
তবে পরে জানা যায়, ফ্লাইট এক্সপার্ট নিজে কোনো এয়ারলাইনের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ ছিল না। তারা দুটি মধ্যস্থতাকারী এজেন্সির মাধ্যমে টিকিট বুকিং করত, যা এখন টিকিট বাতিল করে রিফান্ড নিচ্ছে—ফলে গ্রাহকদের টাকা ফেরত পাওয়া অনিশ্চিত।
২০১৭ সালে প্রতিষ্ঠা
বিমান টিকিট, হোটেল বুকিং, ভিসা প্রসেসিং ও ট্যুর সেবা
আকর্ষণীয় ছাড়, ডিজিটাল পেমেন্ট—দ্রুত জনপ্রিয়তা
অথচ কোনো এয়ারলাইনের সরাসরি টিকিট চুক্তি ছিল না
নির্ভর করত মধ্যস্থতাকারী এজেন্সির ওপর
ফ্লাইট এক্সপার্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সালমান বিন রশিদ পরিবারসহ দেশ ত্যাগ করেছেন।
একটি অভ্যন্তরীণ হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে তিনি লেখেন—
“সাঈদ, হোসাইন এবং সাকিব আমার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। ৩ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে এবং সব দোষ আমার কাঁধে চাপিয়েছে।”
তিনি লেখেন, নিজেকে রক্ষার জন্যই প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করেছেন।
অন্যদিকে ফ্লাইট এক্সপার্টের হেড অব কমার্শিয়াল সাঈদ আহমেদ বলছেন—
“মালিক পক্ষই টাকা নিয়ে পালিয়েছে। গ্রাহকদের এখন কেউ নেই।”
মতিঝিল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।
থানার ওসি জানান—
“ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। গ্রাহকদের স্বার্থে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এই ঘটনায় উঠে আসছে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন—
এত বছর ধরে নিবন্ধনবিহীন এবং এয়ারলাইন ছাড়াই কিভাবে তারা কার্যক্রম চালিয়েছে?
বিপুল পরিমাণ অর্থ লেনদেনের পরেও কেন কোনও নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা তদারকি করেনি?
ডিজিটাল সেবার আড়ালে প্রতারণার সুযোগ তৈরি হচ্ছে কিনা?
বিশ্লেষক ড. হাসিব সাইফুল বলেন—
“এটা শুধু একটি কোম্পানির ধস নয়, বরং এটি অনলাইন বাণিজ্যে বিশ্বাসের ধস। এখন প্রয়োজন অনলাইন টিকিট বুকিং খাতে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ ও কঠোর নীতিমালা।”
২০২০ সালে, চট্টগ্রামের একটি এজেন্সি একইভাবে ৮ কোটি টাকা আত্মসাৎ করে গায়েব হয়
২০২3 সালে, 'ট্রাভেলপাস' নামে একটি প্ল্যাটফর্ম গ্রাহকদের ৬ মাসের হজ প্যাকেজ বিক্রি করে হঠাৎ উধাও হয়ে যায়
কালের কণ্ঠ, ৩ আগস্ট ২০২৫
মতিঝিল থানার জিডি নথি
সরেজমিন গ্রাহক ও এজেন্সি সাক্ষাৎকার
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |