প্রতিবেদক: BDS Bulbul Ahmed
প্রকাশের তারিখ: ২৮ জুলাই ২০২৫
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
গাজার যুদ্ধবিরতি ইস্যুতে মার্কিন সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার সোমবার বৈঠক করেন স্কটল্যান্ডে। ট্রাম্প তার ব্যক্তিগত গলফ রিসোর্টে স্টারমারকে আমন্ত্রণ জানান, যেখানে তিনি দু’দিন গলফ খেলেন এবং বাণিজ্য ও গাজা পরিস্থিতি নিয়ে আলাপ করেন।
এ বৈঠকে স্টারমার ট্রাম্পের সামনে গাজায় চলমান ‘অবর্ণনীয় মানবিক দুর্ভোগ’ বন্ধের জন্য ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ফের শুরু করার আহ্বান জানান। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর দফতর জানিয়েছে, তিনি এ নিয়ে ট্রাম্পের ওপর “জোরালো কূটনৈতিক চাপ প্রয়োগ” করেছেন।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সম্প্রতি দাবি করেন, “গাজায় কোনো দুর্ভিক্ষ নেই।” এই বিষয়ে জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন—
“আমি জানি না। তবে যা টেলিভিশনে দেখেছি, সেটা দেখে আমার তেমনটা মনে হয় না। শিশুগুলোকে খুবই ক্ষুধার্ত দেখাচ্ছে।”
ট্রাম্প রোববার জানান, যুক্তরাষ্ট্র গাজায় আরও সহায়তা পাঠাবে, তবে তিনি চান অন্য দেশগুলোকেও এ বিষয়ে এগিয়ে আসতে হবে।
“এটি শুধু যুক্তরাষ্ট্রের সংকট নয়, এটি আন্তর্জাতিক সংকট,”— ইউরোপীয় কমিশনের প্রধান উরসুলা ভন ডার লায়েনের সঙ্গে বৈঠকে তিনি বলেন।
তিনি হামাসের বিরুদ্ধে ত্রাণ আত্মসাৎ ও বাজারে বিক্রি করার অভিযোগও তোলেন—
“তারা খাবার চুরি করছে। ত্রাণ আসে, তারা সেটা চুরি করে, পরে তা বিক্রি করে দেয়।”
সোমবার ইসরায়েল গাজার কিছু এলাকায় সাময়িক যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেয় এবং নিরাপদ ত্রাণপথ খুলে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়। এরপর খাদ্যবাহী ট্রাকগুলো গাজার ক্ষুধার্ত মানুষের কাছে পৌঁছাতে শুরু করে।
কিন্তু মানবিক সংস্থাগুলো সতর্ক করেছে—
“এই সহায়তা খুবই অপ্রতুল। দুর্ভিক্ষ রোধে এর চেয়ে অনেক বেশি ত্রাণ দরকার।”
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এক সম্মেলনে বলেন—
“ক্ষুধা অস্থিরতা ডেকে আনে, শান্তিকে দুর্বল করে। আমরা কখনোই ক্ষুধাকে যুদ্ধের অস্ত্র হিসেবে মেনে নিতে পারি না।”
তিনি আন্তর্জাতিক উদ্যোগ জোরদার করার আহ্বান জানান এবং বলেন, “ক্ষুধা এখন গাজার সবচেয়ে ভয়াবহ অস্ত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে।”
যুক্তরাজ্যে এখন বাড়ছে ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার ঘরোয়া চাপ। ফ্রান্স ইতোমধ্যেই এ পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। একইসঙ্গে ইউরোপজুড়ে গাজার মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রশ্নে ইসরায়েলের প্রতি চাপ বাড়ছে।
ব্রিটিশ প্রশাসনের একটি সূত্র বলেছে—
“স্টারমারের জন্য ট্রাম্পের সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ব্রিটিশ জনগণের বড় অংশ গাজা পরিস্থিতিতে মানবিক অবস্থান দেখতে চায়।”
গাজা যুদ্ধ যত দীর্ঘায়িত হচ্ছে, ততই তা মানবিক সংকট থেকে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সংঘাতে রূপ নিচ্ছে। ট্রাম্পের “সম্ভব” মন্তব্য হয়তো তাৎক্ষণিকভাবে যুদ্ধ থামাবে না, তবে এটি এক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা—যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও গাজার দুর্ভোগ অস্বীকার করা যাচ্ছে না।
এএফপি, যুক্তরাজ্য ব্যুরো, ২৮ জুলাই ২০২৫
আল জাজিরা, গাজা আপডেট, ২০২৫
প্রতিবেদক: BDS Bulbul Ahmed
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |