| বঙ্গাব্দ

ফরিদপুরে শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় দুই লাখ টাকায় মীমাংসার চেষ্টা, বিক্ষোভ

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 09-04-2025 ইং
  • 4688046 বার পঠিত
ফরিদপুরে শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় দুই লাখ টাকায় মীমাংসার চেষ্টা, বিক্ষোভ
ছবির ক্যাপশন: ফরিদপুরে শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় দুই লাখ টাকায় মীমাংসার চেষ্টা, বিক্ষোভ

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় অর্থের বিনিময়ে মীমাংসার চেষ্টা

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় একটি শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় একটি নতুন অভিযোগ উঠে এসেছে, যেখানে স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে, তারা অভিযুক্তকে জরিমানা করে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেছেন। গত মঙ্গলবার (৮ এপ্রিল) সালিশি বৈঠকে প্রভাবশালীরা অভিযুক্ত দেলোয়ার মোল্লাকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করার মাধ্যমে বিষয়টি সুরাহা করার চেষ্টা করেছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

শিশুটির অভিযোগ

ভুক্তভোগী শিশুটির পরিবার জানিয়েছে, সোমবার (৭ এপ্রিল) দুপুরে শিশুটি শিন্নি দিতে তার প্রতিবেশির বাড়িতে গিয়েছিল। ওই সময় প্রতিবেশী দেলোয়ার মোল্লা তাকে জোর করে ধর্ষণ করে এবং পরে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। ঘটনা জানার পর শিশুটি বাড়িতে ফিরে এসে তার বাবা-মাকে বিষয়টি জানায়। এর পরদিন, মঙ্গলবার (৮ এপ্রিল), স্থানীয় প্রভাবশালীরা একটি সালিশি বৈঠকের আয়োজন করেন, যেখানে অভিযুক্ত দেলোয়ার মোল্লাকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

বিচার চেয়ে বিক্ষোভ

এ ঘটনায় স্থানীয়রা বুধবার (৯ এপ্রিল) দুপুরে বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ করেন। তারা বিষয়টির প্রতি ন্যায্য বিচার চেয়ে প্রতিবাদ জানান। স্থানীয়দের দাবি, সালিশি বৈঠকটি ছিল এক ধরনের অবিচার, কারণ এটি মূলত একটি যৌন সহিংসতার ঘটনা ছিল এবং এই ধরনের ঘটনা কোনো সালিশি বৈঠকে মীমাংসা হওয়ার বিষয় নয়।

এ সময় শিশুটির বাবা বলেন, "আমি টাকা গ্রহণ করিনি, কিন্তু আমাকে মারধর করা হয়েছে। তারা আমাকে সাদা স্ট্যাম্পে সাক্ষর করতে বলেছিল, কিন্তু আমি তা করতে রাজি হইনি।" তিনি আরও জানান, সালিশি বৈঠকে তারা শিশুটির চিকিৎসা করানোর বিষয়ে বিরোধী মনোভাব দেখিয়েছিলেন, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।

স্থানীয় মাদবরদের ভূমিকা

স্থানীয়দের মতে, গ্রামের কিছু মাদবর এ ঘটনাকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন এবং ঘটনার সাথে জড়িত দেলোয়ার মোল্লাকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেছেন। এমনকি শিশুটির বাবা টাকা না নিলে তাকে মারধরও করা হয়। স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এরকম অমানবিক আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং এই ঘটনার সঠিক বিচার হওয়া উচিত।

পুলিশি পদক্ষেপ

এই ঘটনার পর, ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশরাফ হোসেন বিষয়টি নিয়ে একটি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, “ভুক্তভোগী শিশুর মা-বাবার জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে এবং তারা আইনি সহায়তা পাবে।” তিনি আরও বলেন, “এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।” পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করছে এবং অপরাধীদের শাস্তি দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।

আরও পড়ুন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency