প্রতিবেদক : বিডিএস বুলবুল আহমেদ
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস যেন এক নিরন্তর ভাঙা-গড়ার খেলা। ১৯৫০-এর দশকের ভাষা আন্দোলনের স্বাধিকার চেতনা থেকে শুরু করে ২০২৪-এর রক্তক্ষয়ী জুলাই গণ-অভ্যুত্থান এবং ২০২৫ সালের বর্তমান প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক পুনর্গঠন—প্রতিটি অধ্যায়ই নতুন বার্তা দিচ্ছে। এই দীর্ঘ ৭৫ বছরের পরিক্রমায় সর্বশেষ উল্লেখযোগ্য ঘটনা হিসেবে যুক্ত হলো বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম নেতা আরিফ সোহেলের ‘জাতীয় নাগরিক কমিটি’ (এনসিপি) থেকে পদত্যাগের ঘোষণা। যা দেশের বর্তমান রাজনৈতিক গতিপথ নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
১৯৫০ সালে যখন তৎকালীন পাকিস্তান সরকার বাঙালির ওপর দমন-নিপীড়ন শুরু করে, তখন থেকেই এ দেশের ছাত্র-জনতা রাজপথে নামতে শেখে। ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন, ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ—সবই ছিল সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রাম। ঐতিহাসিকভাবেই দেখা গেছে, যখনই মূলধারার রাজনীতি জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে, তখনই তৃতীয় শক্তির উত্থান ঘটেছে।
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানকে অনেকে ১৯৫২ বা ১৯৭১-এর চেতনার সমতুল্য মনে করেন। ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশ এক নতুন রাজনৈতিক যুগে প্রবেশ করে। তবে ২০২৫ সালের শুরুতে এসে সেই বিপ্লবের কারিগরদের মধ্যেই আদর্শিক বিভাজন স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
এরই ধারাবাহিকতায় জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম নেতা ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সদস্য সচিব আরিফ সোহেল জাতীয় নাগরিক কমিটি (এনসিপি) থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। সংগঠনটির যুগ্ম সদস্য সচিবের দায়িত্বে থাকা এই ছাত্রনেতা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দীর্ঘ বিবৃতির মাধ্যমে তাঁর সিদ্ধান্তের কথা জানান।
পদত্যাগের ঘোষণায় আরিফ সোহেল বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁর মতে, ৫ আগস্ট একটি পূর্ণাঙ্গ সশস্ত্র গণতান্ত্রিক বিপ্লবের ক্ষেত্র তৈরি হলেও আমলাতন্ত্র ও বৈদেশিক শক্তির ষড়যন্ত্রে পরিস্থিতি ‘নেগোশিয়েটেড সেটেলমেন্ট’ বা আপস-রফার দিকে ধাবিত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, “জুলাইয়ের রক্তক্ষয়ী গণসংগ্রামের উদর থেকে প্রসব হওয়া নতুন গণরাজনীতি ও তৃতীয় শক্তিকে জাতীয় নাগরিক কমিটির বাতাবরণে সংগঠিত করা সম্ভব হয়নি।” এই বক্তব্য স্পষ্ট করে দেয় যে, ২০২৫ সালের বাংলাদেশে বিপ্লব-পরবর্তী রাজনৈতিক শক্তিগুলোর মধ্যে গভীর ফাটল ও আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে। আরিফ সোহেল এখন প্রথাগত রাজনীতির বাইরে গিয়ে পুনরায় জনগণের কাতারে দাঁড়িয়ে লড়াই করার অঙ্গীকার করেছেন।
আরিফ সোহেলের এই পদত্যাগ এমন এক সময়ে এলো যখন বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপি-র চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘ সময় পর সুস্থ হয়ে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছেন। ১৯৫০ পরবর্তী বাংলাদেশে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার যে কূটনৈতিক এবং রাজনৈতিক ধারা তৈরি হয়েছিল, তার সাথে ২০২৫-এর তরুণ প্রজন্মের ‘নতুন গণরাজনীতি’র আদর্শিক সংঘাত এখন দৃশ্যমান। খালেদা জিয়া যেখানে হিলারি ক্লিনটন, শি জিনপিং কিংবা নরেন্দ্র মোদির মতো বিশ্বনেতাদের সাথে ব্যক্তিগত সম্পর্কের মাধ্যমে দেশের অবস্থান সুদৃঢ় করেছিলেন, সেখানে বর্তমানের তরুণ নেতারা বিদেশি শক্তির হস্তক্ষেপ ও অভ্যন্তরীণ ‘নেগোশিয়েশন’ নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।
১৯৫০-এর দশকের সেই ছাত্ররা যেভাবে ১৯৫৪-তে জয়ী হয়েছিল কিংবা ২০২৪-এর ছাত্ররা যেভাবে ৫ আগস্ট সফল হয়েছে, ২০২৫ সালের এই নতুন মোড় বাংলাদেশের রাজনীতির জন্য এক বড় পরীক্ষা। আরিফ সোহেলের মতো নেতাদের মূলধারা থেকে সরে যাওয়া কি কোনো নতুন বড় আন্দোলনের ইঙ্গিত, নাকি এটি কেবলই নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব—তা সময় বলে দেবে।
তথ্যসূত্র: ১. আরিফ সোহেলের ভেরিফাইড ফেসবুক বিবৃতি ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থান আর্কাইভ। ২. গুগল নিউজ ও জাতীয় গণমাধ্যম (যুগান্তর, বাংলাদেশ প্রতিদিন) এনালাইসিস ২০২৪-২৫। ৩. বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিবর্তন ও কূটনৈতিক ইতিহাস বিষয়ক জাতীয় তথ্য ভাণ্ডার (১৯৫০-২০২৫)।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |