বুধবার সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনুসের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি–র একটি প্রতিনিধিদল। বৈঠক শেষে জামায়াতের নায়েবে আমীর সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের বলেন, তারা বৈঠকে উপদেষ্টাদের মধ্যে কিছু কিছু সদস্যের বিরুদ্ধে আপত্তি জানিয়েছে। যদিও নির্দিষ্ট নাম প্রকাশ করা হয়নি, তবে তিনি উল্লেখ করেছেন:
“আমরা বলেছি, কিছু কিছু লোক আপনাকে (প্রধান উপদেষ্টাকে) বিভ্রান্ত করে। আপনার প্রতি আমাদের আস্থা আছে। কিন্তু আপনার কিছু লোক আপনার পাশে আপনাকে বিভ্রান্ত করে এবং ওরা কোনো একটা দলের পক্ষে কাজ করে — আমরা মনে করি। তাদেরকে … হুঁশিয়ার থাকা দরকার।”
একদিন আগে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) তাদের বৈঠকে একই বিষয় উঠিয়েছিল — মূলত “কয়েকজন উপদেষ্টাকে বাদ দেওয়া হোক” এমন আহ্বান দিয়ে।
তাহের আরও জানান, এখনো উপদেষ্টার অপসারণ-দাবি দেওয়া হয়নি, বরং তারা এখন শুধু নজর আকর্ষণ করছেন ও সময় দিচ্ছেন।
“আমরা প্রথম দিন দৃষ্টি আকর্ষণ করছি… আমরা প্রথম দিন যাইয়াই অপসারণ চাইনি। … যদি না হয় তাহলে আমরা যা যা করার, সেগুলোর ব্যাপারে আমরা চিন্তা করব।”
বৈঠকে তারা আলোচনায় উঠে আসে:
জুলাই সনদ-র বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া
নভেম্বর মাসের শেষ দিকে গণভোট আয়োজনের সম্ভাবনা
জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য এক্সট্রা জুডিশিয়াল অ্যারেঞ্জমেন্ট জারি করার বিষয়ে আলোচনা।
প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনুস দলের এই দাবিতে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছেন, তিনি বিষয়গুলো গভীরভাবে চিন্তা করছেন এবং যেটা করতে হবে সেটি করবেন—“ইনশাআল্লাহ”।
দেশের বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের পরিপ্রেক্ষিতে, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদের বিরুদ্ধে দলীয় পক্ষপাত ও প্রশাসনিক নিরপেক্ষতার অভাবে সংশয়-সন্দেহ বাড়ছে — সেটিই জামায়াতের দাবি।
নির্বাচনের আগে প্রশাসন-নিয়োগ, উপদেষ্টা-সংখ্যা, দায়িত্ব বণ্টন ইত্যাদি বিষয় ঘিরে বিশ্বাসহ্রাসের ঝুঁকি রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, দলের একজন যুগ্ম মহাসচিব বলেছেন, “নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না যতক্ষণ পর্যন্ত দল-সংযুক্ত কর্মকর্তারা থাকবেন।”
এই পর্যায়ে জামায়াত ও বিএনপি-সহ অন্যান্য দল বৈঠকের মাধ্যমে রোডম্যাপ নির্ধারণ ও নিরীক্ষার দাবি তুলছেন — যেমন সনদ কার্যকরকরণ, গণভোট, উপদেষ্টাদের দায়িত্বত্যাগ বা রদবদল।
মুহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন এই সরকার ৮ আগস্ট ২০২৪ তারিখে শপথ গ্রহণ করে জনগণের প্রত্যাশায় মূলকভাবে “গণতান্ত্রিক পুনরুদ্ধার” ঘোষণা করেছিল।
যদি এই দাবিগুলো বাস্তবায়িত হয় (উপদেষ্টাদের নিয়োগ-রদবদল, দায়িত্ব পর্যালোচনা, সনদ-গণভোট প্রক্রিয়া উদ্ধার) তাহলে আগামী নির্বাচন-পর্বে বিশ্বস্ততা ও অংশগ্রহণ বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে।
অন্যদিকে, যদি সংশোধন না হয় বা দলীয় প্রভাব অপরিবর্তিত থাকে, তাহলে নির্বাচন-পরিস্থিতিতে সংঘর্ষ, বর্জন বা আস্থা হ্রাস দেখা দিতে পারে।
রাজনৈতিকভাবে, জামায়াতের এই পদক্ষেপ নির্দেশ করে যে তারা শুধু নির্বাচনে অংশগ্রহণ নয় — প্রশাসনিক পরিমণ্ডলেও সক্রিয় অংশ হতে চাচ্ছে।
জামায়াতে ইসলামী-র বৈঠকে বিশেষভাবে উপদেষ্টাদের নিয়োগ ও কার্যক্রম নিয়ে ফিরে ফিরে উঠছে নিরপেক্ষতা ও দায়িত্বব্যবস্থার প্রশ্ন। বর্তমানে মুহাম্মদ ইউনুসের সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হলো — আদতে কি তারা প্রশাসন-নিয়োগ ও উপদেষ্টা পরিষদে এমন স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ পরিবেশ গড়তে পারবে, যা নির্বাচনকে গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক বানাবে। এই মুহূর্তে দলগুলোর আলোচনা-দাবি আদালতের রায়, সনদ-গণভোটসহ একটি গঠনমূলক রূপ নিতে পারে—এবং ওটাই আগামী নির্বাচন-প্রক্রিয়ার দৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ।
“Jamaat raises objections against several advisers in meeting with Chief Adviser Muhammad Yunus” – Prothom Alo, 22 Oct 2025.
“Jamaat delegation at Jamuna meet CA” – The Business Standard, 22 Oct 2025.
“Caretaker govt must be fully non-partisan, officials linked to misdeeds can’t stay” – The Business Standard, 22 Oct 2025.
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |