আপডেট: জুলাই ১৪, ২০২৫
ইসলামিক জ্ঞান বিভাগ
নাকের সর্দি বা পানি নামাজের সময় বা দোয়ার সময় কান্নার ফলে বের হলে, রুমাল না থাকলে কি সেটা পাঞ্জাবিতে মুছা যাবে? আর সেই কাপড় পরে নামাজ পড়া কি জায়েজ?
নাকের সর্দি বা পানি নাপাক নয়, বরং তা পবিত্র (পাক)।
তবে যদি তা পুঁজ বা পাঁজরযুক্ত নোংরা পদার্থ হয়, তাহলে সেটি নাপাক হিসেবে বিবেচিত হবে।
যেহেতু নাকের পানি সাধারণত শরীরের অভ্যন্তরীন তরল এবং তাতে কোনো রক্ত বা পুঁজ থাকে না, তাই সেটা কাপড়ে লাগলেও পবিত্র থাকে এবং তা নামাজে কোনো প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে না।
হাদিস শরিফে এসেছে,
আম্মার ইবনে ইয়াসির (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন:
রাসুলুল্লাহ (সা.) আমার নিকট এলেন, তখন আমি একটি কূপ থেকে পানি তুলে কাপড় ধুচ্ছিলাম। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, “তুমি কী করছ?”
আমি বললাম, “আমার কাপড়ে লেগে যাওয়া নাকের পানি পরিষ্কার করছি।”রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন:
“পাঁচটি জিনিস ছাড়া কাপড় ধোয়ার প্রয়োজন হয় না—বিষ্ঠা, পেশাব, বমি, রক্ত ও বীর্য।
তোমার নাকের সর্দি, চোখের পানি ও পাত্রের পানি একই শ্রেণির—এগুলো পবিত্র।”📖 সূত্র: সুনানে দারাকুতনি, হাদিস: ৪৫০
নাকের পানি যদি শ্লেষ্মা/সর্দি হয় তবে তা পবিত্র (পাক)।
এটি কাপড়ে লাগলে কাপড় অপবিত্র হয় না।
সেই কাপড় পরে নামাজ পড়া বৈধ।
কেউ যদি নাকে সর্দি বের হওয়ার পর রুমাল না পায়, তবে পাঞ্জাবিতে মুছা গেলেও কোনো সমস্যা নেই।
ময়লার কারণে অনাকর্ষণীয় লাগলে পরিস্কার করে নেওয়া উত্তম—তবে আবশ্যক নয়।
যদি সর্দির সঙ্গে রক্ত বা পুঁজ থাকে, তবে সেটা নাপাক হবে, এবং সে ক্ষেত্রে কাপড় ধুয়ে পবিত্র করে নিতে হবে।
নাকের পানি বা সর্দি শরীরের একটি স্বাভাবিক নিঃসরণ। ইসলামে এটি নাপাক নয়। তাই নামাজে কাঁদার সময় নাক দিয়ে পানি বের হলে এবং তা কাপড়ে লাগলেও নামাজ সহি ও গ্রহণযোগ্য।
তবে পরিপাটি থাকার জন্য পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখাই উত্তম।
পাঠকের জন্য উপদেশ:
কোনো ইসলামিক ইস্যুতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে হাদিস ও ফিকহি উৎস থেকে যাচাই করে নেয়া গুরুত্বপূর্ণ। অপ্রয়োজনীয় সন্দেহ এড়িয়ে, ইসলামিক বিধান অনুযায়ী চলাই নিরাপদ।
লিখেছেন: ইসলামিক গবেষণা টিম
তথ্যসূত্র: সুনানে দারাকুতনি, ইসলামী ফিকহ গ্রন্থাবলি, বাংলাদেশ মুফতি বোর্ড
📎 পাঠকের প্রশ্ন থাকলে নিচে মন্তব্য করুন বা আমাদের ইসলামিক ফিকহ বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।
প্রতিবেদক: BDS
Bulbul Ahmed
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |