গত ২৩ জুন ইসরাইলের একটি বিমান হামলায় তেহরানের এভিন কারাগারে ভয়াবহ বিস্ফোরণের পর ৭১ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এই হামলায় নিহতদের মধ্যে কর্মী, সেনা সদস্য, বন্দি, বন্দিদের পরিবারের সদস্য এবং প্রতিবেশীরা অন্তর্ভুক্ত। এভিন কারাগারটি ইরানের অন্যতম কুখ্যাত রাজনৈতিক বন্দি কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত, যেখানে বেশ কয়েকজন বিদেশি নাগরিকও আটক রয়েছেন। হামলার পর, ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যঁ-নোয়েল ব্যারো এ ঘটনাটি আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন। এ ঘটনা ইরান-ইসরাইলের উত্তপ্ত সম্পর্কের আরও একটি অধ্যায় হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা সামরিক ও কূটনৈতিক ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারে।
ইরান এবং ইসরাইলের মধ্যে সম্পর্ক 1979 সালে ইরানি বিপ্লবের পর থেকেই তলানিতে চলে গেছে। সেই সময় থেকে ইরান ইসরাইলকে ‘অবৈধ রাষ্ট্র’ হিসেবে বিবেচনা করে এবং ইরান সরকার নিজেকে ইসলামি দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছিল। ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে ইরান যখন ‘ইসলামিক শাসন’ প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে কৌশলগত পদক্ষেপ নিতে শুরু করে, তখন থেকেই একে অপরের প্রতি শত্রুতা প্রবল হতে থাকে।
ইরান এর আগে একাধিকবার দাবি করেছে যে ইসরাইল তার ভূখণ্ডের একটি অবৈধ অংশ দখল করেছে, এবং ইরান তার সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি বারবার বলেছেন যে, ইসরাইলকে পৃথিবী থেকে মুছে ফেলতে হবে।
অন্যদিকে, ইসরাইল, বিশেষ করে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ এবং গাজা প্যালেস্টাইনের হামাস -এর মাধ্যমে ইরানের সামরিক প্রভাব মোকাবিলা করছে এবং তাদের বিরুদ্ধে সক্রিয় অপারেশন চালাচ্ছে।
এভাবেই চলতে থাকা রক্তাক্ত এবং কূটনৈতিক দ্বন্দ্ব বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতে পরিণত হয়েছে।
২২ জুন ২০২৫ তারিখে ইসরাইলের আক্রমণ শুরু হওয়ার পর, ২৩ জুন ইরানের রাজধানী তেহরান এর এভিন কারাগার লক্ষ করে ভয়াবহ বিমান হামলা চালানো হয়। এর ফলে কারাগারের প্রশাসনিক ভবনের একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং অন্তত ৭১ জন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে বন্দি, বন্দিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে আসা তাদের পরিবারের সদস্য এবং কারাগারের আশপাশে বসবাসকারী প্রতিবেশী ছিলেন।
ইরানী বিচার বিভাগের মুখপাত্র আসগর জাহাঙ্গীর এক বিবৃতিতে জানান:
“এই হামলায় ৭১ জন শহীদ হয়েছেন, যারা প্রশাসনিক কর্মী, সেনাবাহিনীর তরুণ সদস্য, এবং বন্দি ও তাদের পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি আশেপাশের প্রতিবেশী ছিলেন।”
এভিন কারাগার দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক বন্দিদের রাখার জন্য কুখ্যাত এবং এখানে বহু বিদেশি নাগরিক আটক রয়েছে, যার মধ্যে ফরাসি নাগরিক সেসিল কোলার এবং জ্যাক প্যারিস দুজন অন্যতম। তারা ৩ বছর ধরে এ কারাগারে আটক রয়েছেন।
ইরানের এই কারাগারে হামলার পর ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যঁ-নোয়েল ব্যারো মন্তব্য করেছেন:
“এভিন কারাগারে হামলায় আমাদের নাগরিক সেসিল কোলার ও জ্যাক প্যারিস বিপদের মুখে পড়েছেন। এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”
ফ্রান্স এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং বিনীতভাবে দাবি করেছে, ফরাসি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা উচিত ছিল।
এভিন কারাগারে হামলা ও তার পরবর্তী প্রতিক্রিয়া ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এবং বিশেষজ্ঞদের মধ্যে আলোচনার ঝড়। এটি মূলত ইসরাইলের নিরবাত্তিতা প্রতিক্রিয়া, ইরানের পরমাণু কর্মসূচী এবং ইরানের অস্ত্র নির্মাণের প্রতি আন্তর্জাতিক উদ্বেগ ইত্যাদি বেশ কিছু বড় বিষয়কে সামনে এনেছে।
এটি শুধু বিমান হামলা নয়, বরং রাষ্ট্রীয় আক্রমণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পশ্চিমা সামরিক শক্তি এবং মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের সবচেয়ে বড় শক্তির মধ্যে এটি এক বৃহৎ উত্তেজনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এই ঘটনার পরপরই, ইরানের সামরিক বাহিনী প্রতিরোধে পাল্টা হামলা চালায় এবং ইসরাইলি শহরগুলোতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটে। ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং সাইবার আক্রমণ চালিয়ে ইসরাইলের বিপক্ষে শক্তিশালী প্রতিক্রিয়া জানায়।
বিশ্লেষকদের মতে, এভিন কারাগারে ইসরাইলি হামলার পরের ঘটনা সীমানা ছাড়িয়ে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং সামরিক দিক থেকে বৃহত্তর প্রভাব ফেলতে পারে। ইরান এবং ইসরাইলের মধ্যে দীর্ঘকাল ধরে চলা এই সমরনীতি এবং ধ্বংসের অগ্নিপরীক্ষা অনেকেই মনে করছেন, এটি নতুন ধরনের সন্ত্রাসী হামলার সম্ভাবনা সৃষ্টি করতে পারে।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, ইরানের সামরিক আক্রমণের পরবর্তী সময়টা বিশ্ব রাজনীতি এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের অস্থিরতা আনবে। কারণ ইরান এখন বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ পরমাণু শক্তি এবং যে কোনো পরিস্থিতিতে সেগুলো ব্যবহারের ক্ষমতা তাদের রয়েছে।
প্রতিবেদক: BDS
Bulbul Ahmed
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |