প্রতিবেদকের নাম: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
বিএনপির নেতা ও সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচার প্রক্রিয়া এবং এখতিয়ার নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করায় আদালত অবমাননার অভিযোগের মুখে পড়েছেন। সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশনের টকশোতে তিনি ট্রাইব্যুনালের নিরপেক্ষতা এবং এর গঠন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলেন, যা প্রসিকিউশন পক্ষ আদালত অবমাননা হিসেবে দেখছে।
বুধবার (২৫ নভেম্বর) দুপুর ১২টার পর ট্রাইব্যুনাল-১ এর সদস্য অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর একক বেঞ্চে এ বিষয়ে প্রাথমিক শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। আদালত এ অভিযোগকে গুরুতর মন্তব্য করে চেয়ারম্যানের নেতৃত্বাধীন পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানির জন্য আগামী রোববার (৩০ নভেম্বর) দিন ধার্য করেছেন।
২৩ নভেম্বর বেসরকারি টেলিভিশনের টকশোতে অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান মন্তব্য করেন, "আমি এই আদালত মানি না। এই আদালতের রায় মানি না, আমি এ কথা প্রতিদিনই বলি। এখানে শেখ হাসিনার বিচার হতে পারে না।"
ভিডিও ফুটেজে তাকে আরও বলতে শোনা যায় যে তিনি প্রথম দিন থেকেই এই কোর্ট মানেন না এবং প্রসিকিউশনের সবাই শিবির সমর্থিত বলেও দাবি করেন। তিনি এই ট্রাইব্যুনালের বিচার নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, "এই কোর্টের গঠনপ্রক্রিয়া বলে এই কোর্টে বিচার হতে পারে না।" টকশোর এই ৪৯ মিনিটের ফুটেজ পেনড্রাইভের মাধ্যমে ট্রাইব্যুনালে জমা দিয়েছে প্রসিকিউশন।
প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম ও প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম। তারা ফজলুর রহমানের বিরুদ্ধে তিনটি মূল কারণে আদালত অবমাননার অভিযোগ আনেন:
ট্রাইব্যুনালের এখতিয়ার নিয়ে প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জ।
আদালতের নিরপেক্ষতায় হস্তক্ষেপকারী 'অভ্যন্তরীণ বন্দোবস্ত' রয়েছে বলে ইঙ্গিত দেওয়া।
প্রসিকিউশন প্রসঙ্গে অবমাননাকর মন্তব্য করা।
প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম বলেন, ফজলুর রহমান শুধুমাত্র শেখ হাসিনার বিচারপ্রক্রিয়াই নয়, সব বিচার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং বুঝাতে চেয়েছেন যে বিচারক বা বিচারালয় কারো সঙ্গে 'ইন্টারনাল অ্যারেঞ্জমেন্টে' কাজ করছে—যা বিচারকদের প্রতি চরম অবজ্ঞাসূচক বক্তব্য।
প্রসিকিউটরদের বক্তব্য শোনার পর ট্রাইব্যুনাল গুরুত্ব দেন যে আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনালস) আইন প্রণীত হয়েছিল ১৯৭৩ সালে, এবং এই আইনের অধীনে ১৯৭৩ সালের আগে ও পরে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার করা যায়। ট্রাইব্যুনাল আরও স্পষ্ট করেন যে প্রসিকিউশন বিচারালয়ের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ।
সাজার বিধান: প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম জানান, আদালত অবমাননার অভিযোগ প্রমাণিত হলে আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইনের ধারা ১১(৪) অনুযায়ী সর্বোচ্চ এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড বা পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন অভিযুক্ত।
আইন অনুযায়ী, প্রক্রিয়া শুরুর আগে অভিযুক্তকে নোটিশ করে ডেকে এনে তার বক্তব্য শোনার আইনি বিধান রয়েছে।
প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ (১৯৭০-২০২৫): আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) প্রতিষ্ঠা হয়েছিল ১৯৭১ সালের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার করার জন্য। তবে এর এখতিয়ার নিয়ে দেশের রাজনীতিতে বিভেদ রয়েছে। ১৯৯০-এর দশকে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার পর থেকেই রাজনৈতিক বক্তব্য এবং বিচারিক আদালতের মধ্যে সংঘাতের উদাহরণ দেখা গেছে। ২০২৫ সালের প্রেক্ষাপটে, উচ্চ আদালতের বিচার বা ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রমে প্রশ্ন তোলার বিষয়টি প্রায়শই আদালত অবমাননার দায়ে পরিণত হচ্ছে, যা দেশের বিচার ব্যবস্থার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার গুরুত্বকে নির্দেশ করে।
আদালতে প্রসিকিউশন জানান, অভিযুক্ত ফজলুর রহমান বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এবং আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এমপি প্রার্থী। এছাড়া ‘জুলাই বিপ্লব’ নিয়ে মন্তব্য করায় বিএনপি তাকে আগেও সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছিল।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ বুধবার (২৫ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত শুনানির এজলাস কার্যক্রম ও প্রসিকিউটরদের বক্তব্য।
বেসরকারি টেলিভিশনে অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান কর্তৃক প্রদত্ত টকশোর ভিডিও ফুটেজ (ট্রাইব্যুনালে জমা দেওয়া)।
আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনালস) আইন, ১৯৭৩ এর ধারা ১১(৪) এবং রুলস ৪৫।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |