| বঙ্গাব্দ

ওবায়দুল কাদেরের ১২ বছরের প্রকল্প সিন্ডিকেটের অনুসন্ধান

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 27-06-2025 ইং
  • 3669539 বার পঠিত
ওবায়দুল কাদেরের ১২ বছরের প্রকল্প সিন্ডিকেটের অনুসন্ধান
ছবির ক্যাপশন: ওবায়দুল কাদের

ওবায়দুল কাদেরের ১২ বছরের দুর্নীতির রাজত্ব: সড়ক ও জনপথে লুটপাটের খসড়া চিত্র

ভূমিকা ২০১৪ সালে পাস হয় 'ঢাকা-রংপুর মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্প', যা পরবর্তীতে হয়ে দাঁড়ায় একটি দুর্নীতির কেন্দ্রবিন্দু। যদিও প্রকল্প পরিচালকের নিয়োগ হওয়ার কথা ছিল সচিবের নেতৃত্বাধীন বাছাই কমিটির মাধ্যমে, কিন্তু সে দায়িত্ব নিজ হাতে তুলে নেন তৎকালীন মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। এভাবেই শুরু হয় প্রজেক্ট সিন্ডিকেটের খেল, যা ১২ বছরেরও বেশি সময় ধরে চলতে থাকে।

প্রকল্প পরিচালকের দামে বিক্রি হওয়া নিয়োগ প্রথম দফায় ৭ জনের একটি শর্টলিস্ট তৈরি করা হয়, যাদের জীবনবৃত্তান্ত ওবায়দুল কাদেরের টেবিলে পাঠানো হয়। দুই দিনের মাথায় ঠিকাদাররা প্রার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেন। একজন প্রার্থী ১০ কোটি টাকা ঘুষ দিতে রাজি হন এবং কাজ পাওয়ার শর্তে সেই টাকা প্রদান করেন। তিনিই হন প্রকল্প পরিচালক। এই নিয়োগে সরকারি অর্থের অপচয় শুরু হয় আগেভাগেই।

ডিপিপি-তে অতিরিক্ত ব্যয় ও মিথ্যা চাহিদা প্রকল্পের মূল ব্যয় ছিল ৭৫৭ কোটি টাকা, যা তিন দফায় বাড়িয়ে ১৩৭৫ কোটি টাকায় দাঁড়ায়। ডিপিপি (Development Project Proposal)-র ভেতরে প্রায় ৩০% অতিরিক্ত ব্যয় ধরা হতো যাতে ঘুষের অর্থ সামাল দেওয়া যায়। এসব পরিকল্পিত বাজেট বৃদ্ধির পেছনে থাকতেন মন্ত্রী নিজে।

ঘুষের অঙ্ক: ৫% অগ্রিম জমা যে কেউ প্রকল্প পরিচালক হতে চাইলে তাকে প্রকল্প ব্যয়ের ৫% অগ্রিম ঘুষ দিতে হতো। অর্থাৎ, একটি ১০০ কোটি টাকার প্রকল্প হলে ৫ কোটি টাকা ঘুষ লাগবে শুধুমাত্র প্রকল্প পরিচালকের চেয়ারে বসার জন্য। এমনকি প্রাথমিক মনোনয়নের আগেই এই অর্থ দিতে হতো।

সিন্ডিকেটের শাসন এই দুর্নীতির সিন্ডিকেটে জড়িত ছিলেন:

  • ইশরাতুন্নেছা কাদের (স্ত্রী)

  • আবদুল কাদের মির্জা (ভাই)

  • নিজাম উদ্দিন হাজারী (ফেনীর সাবেক এমপি)

  • একরামুল করিম চৌধুরী (নোয়াখালীর সাবেক এমপি)

প্রতিটি প্রকল্প পরিচালককে তাদের মাধ্যমে যোগাযোগ করে টাকা পৌঁছে দিতে হতো। টাকা নিশ্চিত হবার পরেই কাজ শুরুর অনুমতি দিতেন ওবায়দুল কাদের।

বিআরটিএর প্রকল্প বাতিলের ঘটনা ১৩৭টি বাস কেনার একটি প্রকল্পে একজন পরিচালক ১ কোটি টাকা দিয়েই থেমে যান। পরবর্তী টাকা না দেয়ায় ওবায়দুল কাদের তার প্রতি ক্ষুব্ধ হন এবং পুরো প্রকল্প বাতিল করে দেন। এই ঘটনা প্রমাণ করে দেন-ঘুষ না দিলে কাজ নয়।

বহু প্রকল্পে এক ব্যক্তি অনেক কর্মকর্তা একসাথে ৫–৮টি প্রকল্প পরিচালনা করতেন। কারণ তারা ছিলেন সিন্ডিকেট অনুমোদিত এবং ঘুষ পরিশোধে সক্রিয়। তারা এক প্রকল্পের কমিশন দিয়ে পরবর্তী প্রকল্প কিনতেন।

ঠিকাদারদের সিন্ডিকেট ২০১১–২০২৪ সময়কালে সড়ক ও জনপথ বিভাগের ৯০% কাজ করেছে মাত্র ১২–১৫টি ঠিকাদার। তাদের পছন্দের প্রকল্প পরিচালককে সামনে রেখে তারা ঘুষ দিতেন এবং প্রকল্প পেতেন। এটি একটি ঘূর্ণায়মান লেনদেনব্যবস্থা তৈরি করে, যেখানে প্রকল্প পরিচালকের কাজ ছিল সিন্ডিকেটকে খুশি রাখা।

গুণগত মানের অবনতি ও বাজেটের অপচয় প্রতিটি প্রকল্পে ৫০% বাজেট দুর্নীতিতে চলে যেত। অর্থাৎ একটি ৫০ কোটি টাকার সড়কের প্রকৃত কাজ হতো মাত্র ২৫ কোটি টাকায়। ফলে নিম্নমানের রাস্তা, অতিরিক্ত সময়ে কাজ সম্পন্ন হওয়া এবং সর্বোপরি জনগণের টাকায় লুটপাট হতো।

মন্ত্রী যাচ্ছেন, সাথে সাংবাদিক ও উপঢৌকনও প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনের সময় ওবায়দুল কাদেরের বহর, সাংবাদিকদের বিকাশে টাকা পাঠানো, আপ্যায়ন ও উপহার—সবকিছুই প্রকল্প ব্যয়ে যুক্ত হতো। প্রকল্প পরিচালকেরা বাধ্য হতেন এসব খরচ বহনে।

উপসংহার ওবায়দুল কাদেরের ১২ বছরের মন্ত্রণালয় ছিল ঘুষ-কমিশনের সাম্রাজ্য। যেখানে সচিব, প্রকৌশলী, আমলারা নিছক ফাইল টানা আমলা—নিয়ন্ত্রক ছিলেন ঠিকাদার, প্রকল্প পরিচালক আর মন্ত্রী। এই দুর্নীতির ধারা থামাতে না পারলে ভবিষ্যতের অবকাঠামো উন্নয়ন কেবল কাগজে থাকবে, বাস্তবে নয়।

প্রতিবেদকBDS Bulbul Ahmed
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency