সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে গুমের অভিযোগ: কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস
সম্প্রতি সেনাবাহিনীতে ডেপুটেশনে কর্মরত কিছু সদস্যের বিরুদ্ধে গুমের অভিযোগ উঠেছে, যার তদন্ত চলছে। সেনা সদর এই বিষয়টি গুরুতরভাবে নিয়েছে এবং তারা কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে, যদি তদন্তে সেনা সদস্যদের গুমের ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হয়।
এ বিষয়ে ঢাকা সেনানিবাসের অফিসার্স মেস ‘এ’-তে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে মন্তব্য করেন মিলিটারি অপারেশনস ডাইরেক্টরেটের কর্নেল স্টাফ কর্নেল মো. শফিকুল ইসলাম। তিনি সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন এবং সেনাবাহিনীর বর্তমান অবস্থান পরিষ্কার করেন।
কর্নেল শফিকুল ইসলাম গুমের সঙ্গে সেনা সদস্যদের সংশ্লিষ্টতা প্রসঙ্গে জানান, সেনাবাহিনীর সদস্যদের ডেপুটেশনে পাঠানো হলেও তাদের নিয়ন্ত্রণ সেনাবাহিনীরই থাকে। তিনি জানান, "অভিযোগ উঠেছে, কয়েকজন সেনা সদস্য গুমের ঘটনায় জড়িত।" তিনি আরও বলেন, "তদন্তে যদি প্রমাণিত হয় যে সেনাবাহিনীর কেউ গুমের সঙ্গে জড়িত, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে"।
তিনি অবশ্য এটাও জানান যে, "যদি গুমের ঘটনা থেকে কেউ নিরাপত্তা নিয়ে সেনাবাহিনীর কাছে সহযোগিতা চান, আমরা তাদের যথাযথভাবে সাহায্য করব"।
নির্বাচন প্রসঙ্গে কর্নেল শফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বলেন, "এখন পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে কোনো নির্দেশনা আসেনি", তবে সেনাবাহিনী "অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত" বলে জানান তিনি।
এছাড়াও, তিনি থানা থেকে অস্ত্র লুট সংক্রান্ত একটি প্রশ্নের উত্তরে বলেন, "যেসব অস্ত্র লুট হয়েছে, তার মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশ ইতিমধ্যে উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি ২০ শতাংশ নির্বাচনকালীন সময়ে উদ্ধার করা যাবে বলে আমরা আশাবাদী"।
কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণ সম্পর্কিত একটি প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, সেনাবাহিনী ইতিমধ্যে ৪০০ জনেরও বেশি কিশোর গ্যাং সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে তিনি বলেন, "সেনাবাহিনী সব জায়গায় সব সময় থাকতে পারে না, তবে তথ্য পাওয়ার সাথে সাথে আমরা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিচ্ছি"।
অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনীর অব্যাহত প্রচেষ্টার কথাও তুলে ধরেন তিনি। গত দুই সপ্তাহে ২৬টি অবৈধ অস্ত্র ও ১০০ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া, আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত মোট ৯,৬৯২টি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে এবং ১৫,৬৪৬ জন অপরাধীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সেনাবাহিনীর সাম্প্রতিক কার্যক্রম এবং গুমের অভিযোগ বিষয়ে কর্নেল শফিকুল ইসলামের দেওয়া বক্তব্যে দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং প্রতিটি অভিযোগের তদন্তের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। সেনাবাহিনী কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জনসাধারণকে আশ্বস্ত করা হয়েছে যে, যে কোনো অপরাধের সঙ্গে সেনাবাহিনীর সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এছাড়া, অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনীর ভূমিকা এবং নির্বাচনকালীন প্রস্তুতিও তুলে ধরা হয়েছে, যা সামগ্রিকভাবে দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতির জন্য সুযোগ সৃষ্টি করবে।
প্রতিবেদক: BDS Bulbul Ahmed
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |