গণঅধিকার পরিষদ-র সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান বলেছেন, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নিরপেক্ষতার পরিচয় দিতে ব্যর্থ হয়েছে এবং বরং তারা কিছু নির্দিষ্ট দলকে সুবিধা দিয়ে নির্বাচন ম্যানেজ করছে। তিনি মন্তব্য করেছেন যে, “স্বজনপ্রীতিবাজ এসব উপদেষ্টারা কতোটুকু নিরপেক্ষ নির্বাচন দিতে পারবে, সেটি নিয়ে এখন দেশজুড়ে সংশয় ও সন্দেহ দেখা দিয়েছে।”
রাশেদ খান আরও যুক্ত করেছেন, “নির্বাচনের আগে শুধু সরকারি কর্মকর্তাদের রদবদল নয়, উপদেষ্টা পরিষদের মধ্যেও শুদ্ধি অভিযান চালানো জরুরি। যেসব উপদেষ্টা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছে, তাদের সরিয়ে দিয়ে নতুন করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করা উচিত।”
তাঁর দাবি, “বর্তমান উপদেষ্টা পরিষদের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। যেসব উপদেষ্টা দুর্নীতি করেছে, আত্মীয়স্বজনকে বিভিন্ন জায়গায় পুনর্বাসন করেছে, সরকারকে নিজেদের বাপদাদার সম্পদ মনে করেছে—তাদেরকে আজ হোক, কাল হোক, জনগণের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে। জনগণের আস্থা ফেরাতে হলে উপদেষ্টা পরিষদে অবিলম্বে পরিবর্তন আনা ছাড়া বিকল্প নেই।”
উক্তি থেকে দেখা যাচ্ছে কয়েকটি গুরুত্বপূৰ্ণ দিক:
নিরপেক্ষ প্রশাসন ও নির্বাচন-ভরসা: নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার আগে প্রশাসন ও উপদেষ্টা পরিষদে যেসব সদস্য রয়েছে, তাঁরাই নির্বাচন-প্রস্তুতির অংশ হয়ে পড়ছেন বলিয়ে রাশেদ খান মনে করছেন। বিষয়টি এমন যে, প্রশাসনিক ও উপদেষ্টাজনিত পক্ষপাত নির্বাচন-প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে।
উপদেষ্টা পরিষদের গুরুত্ব: “উপদেষ্টা পরিষদ”–র পরিবর্তনের দাবি এই অর্থ বহন করে যে শুধু সাধারণ নির্বাচন আয়োজন নয়, সেই আয়োজনের পটভূমি-প্রশাসন-উপদেষ্টাজনিত কাঠামোও নির্বাচন-বিশ্বস্ততার জন্য সমান জরুরি।
বিশ্বাসহ্রাসের প্রতিফলন: “দেশজুড়ে সংশয় ও সন্দেহ দেখা দিয়েছে” — এই বাক্যাংশ থেকে বোঝা যায়, ভোটার ও রাজনৈতিক দলগুলো বর্তমান প্রশাসন-উপদেষ্টা-পরিস্থিতিতে সন্তুষ্ট নয়। জন্ম নিচ্ছে গণভবিষ্যতের প্রতি অবিশ্বাস।
নতুন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রয়োজন: রাশেদ খান বলেছেন, “নতুন করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করা উচিত”—এই দাবিতে দেখা যাচ্ছে, এভাবে আগের তত্ত্বাবধায়ক ধারণার পুনরাবৃত্তি নয়, বরং সংশোধিত ও স্বচ্ছ কোনো গঠন দাবি করা হচ্ছে।
রাশেদ খান বর্তমানে গণঅধিকার পরিষদ-র সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন।
ওই দল ২০২৪ সালের ২ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত হয়।
তিনি সম্প্রতি ৩০ আগস্ট ২০২৫ তারিখে হোম অ্যাফেয়ার্স উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মুহাম্মদ जाहাঙ্গীর আলম চৌধুরীর পদত্যাগ দাবি করেছেন।
তিনি বলেছেন, “অনেক উপদেষ্টা এখনও স্বচ্ছ নয়; তাদের নাম আমাদেরও জানা নেই”—এই মন্তব্যে প্রশাসনের অস্বচ্ছতা তুলে ধরা হয়েছে।
রাশেদ খান-র বক্তব্য যে ধরনের রাজনৈতিক পরিবেশে দেওয়া হয়েছে, তা মূলত “নির্বাচনের আগে প্রশাসন-উপদেষ্টাজনিত সংস্কার অবলম্বন না করলে নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে না”–এই ধারণাকে প্রতিনিধিত্ব করে। সাধারণ অনুমান হলো — যদি প্রশাসন ও উপদেষ্টা পরিষদে দলীয় ও পক্ষপাতমূলক নিয়োগ ও কার্যক্রম বিরাজ করে, তাহলে নির্বাচন শুধু তা আয়োজিত হয়েই হয় না, সেটি ফলপ্রসূ ও জনআস্থা সংবলিত হয় না। এই কারণেই তিনি উপদেষ্টা পরিষদে পরিবর্তন ও নতুন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের গঠন দাবি করছেন।
“Attempt to revive another 1/11 will fail, warns Gono Odhikar Parishad” – The Business Standard, 2025.
“Gono Odhikar urges EC to bar Awami League, allies from next election” – The Business Standard, 28 July 2025.
“Rashed Khan demands resignation of Home Adviser” – Prothom Alo, 30 Aug 2025.
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |