বিশেষ প্রতিবেদক: BDS Bulbul
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনেই প্রার্থী দেওয়ার পরিকল্পনা করছে ফ্যাসিবাদবিরোধী যুগপৎ আন্দোলনের জোট ‘গণতন্ত্র মঞ্চ’। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এটি দেশের নির্বাচনী রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে।
বুধবার (১৩ আগস্ট) রাজধানীর উত্তরায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডির সভাপতি আ স ম আব্দুর রবের বাসভবনে অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এই পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, এ বিষয়ে চূড়ান্ত মতামত ও কৌশল নির্ধারণের জন্য আগামী ১৮ আগস্ট আবারও গণতন্ত্র মঞ্চের শীর্ষ নেতারা বৈঠকে বসবেন।
গণতন্ত্র মঞ্চের কেন্দ্রীয় পরিচালনা পরিষদের সদস্য মো. আবদুল কাদের গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
বৈঠকে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থা, সাংবিধানিক সংস্কার, বিচার ব্যবস্থা এবং জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে আলোচনা হয়।
অংশগ্রহণকারী নেতাদের মধ্যে ছিলেন—
নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না
বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক
গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি
ভাসানী জনশক্তি পার্টির চেয়ারম্যান ও বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু
গণতন্ত্র মঞ্চের মুখপাত্র আব্দুল কাদের
রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী অ্যাড. হাসনাত কাইয়ূম
জেএসডির সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন
সিনিয়র সহসভাপতি তানিয়া রব প্রমুখ।
নেতারা বৈঠকে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং ‘জুলাই সনদ’ প্রসঙ্গে বলেন—গণতন্ত্র মঞ্চ এই প্রক্রিয়ায় ইতিবাচকভাবে কাজ করছে। যৌক্তিক ছাড় দিয়ে এবং সংলাপের মাধ্যমে তারা ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা-উত্তর রাজনৈতিক ইতিহাসে বৃহত্তর বিরোধী জোটের একসঙ্গে সব আসনে প্রার্থী দেওয়ার নজির বিরল।
১৯৯১ সালে জাতীয় পার্টি ও বিএনপি জোটবদ্ধভাবে নির্বাচন করেনি, ফলে ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছিল।
২০০৮ সালে মহাজোটের বিপক্ষে চারদলীয় জোট সর্বাধিক আসনে প্রার্থী দিয়েছিল, কিন্তু ৩০০ আসনে এককভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেনি।
যদি গণতন্ত্র মঞ্চ এবার ৩০০ আসনে প্রার্থী দেয়, তবে এটি ২০২৫ সালের রাজনৈতিক মঞ্চে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে, বিশেষ করে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির জন্য।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন—
গণতন্ত্র মঞ্চের এই কৌশল মূলত বিরোধী ভোটকে এক প্ল্যাটফর্মে আনার চেষ্টা।
৩০০ আসনে প্রার্থী দিলে আঞ্চলিক পর্যায়ে তাদের প্রভাব পরিমাপ করা সহজ হবে।
তবে অভ্যন্তরীণ সমন্বয়, প্রার্থীর যোগ্যতা ও নির্বাচনী অর্থায়ন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
সূত্র:
গণতন্ত্র মঞ্চের প্রেস বিজ্ঞপ্তি (১৩ আগস্ট ২০২৫)
স্বাধীনতার পরবর্তী বাংলাদেশ নির্বাচন ইতিহাস (১৯৭৩–২০২৪)
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মন্তব্য
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |